Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মায়ের পক্ষপাত

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (28,479 পয়েন্ট)   7 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মায়ের পক্ষপাতimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণমূলক লেখা | ১৬ অক্টোবর ২০২৬


একটি বাড়িতে সবচেয়ে বেশি রাজনীতি কখনো কখনো বাইরের মানুষ করে না, করে ঘরের আপনজনেরাই। আর সেই রাজনীতির কেন্দ্রে যখন একজন মা থাকেন, তখন বিষয়টি আরও বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে। কারণ, মায়ের কাছে সন্তান প্রত্যাশা করে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ন্যায্যতা আর নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু সেই মা যখন এক সন্তানকে বেশি পছন্দ করেন, তখন তাঁর পছন্দের প্রভাব শুধু ওই সন্তানেই সীমাবদ্ধ থাকে না; ছড়িয়ে পড়ে তার স্ত্রী, সন্তান এবং পুরো পরিবারের মধ্যে।


দেখা যায়, যে ছেলেকে মায়ের বেশি পছন্দ, তার ভুলও সহজে ক্ষমা পেয়ে যায়। সে অন্যায় করলেও তার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো হয়। তার স্ত্রী কোনো ভুল করলে সেটি পরিস্থিতির কারণে হয়েছে বলে মেনে নেওয়া হয়, আর তার সন্তানদের দুষ্টুমিও আদরের চোখে দেখা হয়। অথচ অন্য ছেলের সামান্য ভুলও বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়। তার স্ত্রী যত ভালোই হোক, কোথাও না কোথাও দোষ খুঁজে বের করা হয়। তার সন্তানদের স্বাভাবিক আচরণও কখনো কখনো বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে।


সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, এই বৈষম্য অনেক সময় প্রকাশ্যে হয় না। কথার ভঙ্গিতে, আচরণের সূক্ষ্ম পরিবর্তনে, আদর-যত্নের পার্থক্যে কিংবা পারিবারিক সিদ্ধান্তে তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যে বউটি একসময় পরিবারের অংশ হয়ে উঠতে চেয়েছিল, সে নিজেকে বাইরের মানুষ ভাবতে শুরু করে। যে নাতি-নাতনি দাদির কাছে সমান আদর পাওয়ার কথা, তারাও বুঝতে শেখে—এই বাড়িতে ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার যেন সবার সমান নয়।


একজন মায়ের নিজের কোনো সন্তানকে বেশি ভালো লাগতেই পারে। মানুষের অনুভূতি সব সময় সমান হয় না। কিন্তু ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে অন্য সন্তানকে ছোট করা, তার স্ত্রীকে অবহেলা করা কিংবা নাতি-নাতনিদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করা কখনোই ন্যায়সংগত নয়। ভালোবাসার অনুভূতি সমান না-ও হতে পারে, কিন্তু আচরণে ন্যায্যতা থাকা জরুরি।


একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, ছেলের স্ত্রীকে অপছন্দ করার কারণে সেই ছেলের সন্তানদের প্রতিও বিরূপ হওয়া আসলে নিরপরাধ শিশুদের ওপর অন্যায়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া। তারা তো কোনো পারিবারিক দ্বন্দ্বের জন্য দায়ী নয়। তারা শুধু দাদির একটু আদর, একটু স্নেহ আর একটু আপন করে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকে। সেই জায়গায় অবহেলা পেলে তাদের ছোট্ট মনেও এমন ক্ষত তৈরি হতে পারে, যার গভীরতা বড় হওয়ার পরও থেকে যায়।


আর যে ছেলেটি বারবার মায়ের কাছ থেকে অবহেলা পায়, তার কষ্টও কম নয়। সে হয়তো মুখ ফুটে কিছু বলে না। মাকে কষ্ট দিতে চায় না বলে নিজের অভিমান চেপে রাখে। কিন্তু প্রতিবার অন্যায়ভাবে দোষী হওয়া, নিজের পরিবারের প্রতি অবজ্ঞা দেখা কিংবা ভাইয়ের সঙ্গে তুলনা সহ্য করতে করতে একসময় তার মনে দূরত্ব তৈরি হয়। তখন মা হয়তো ভাবেন, ছেলে বদলে গেছে। অথচ সেই পরিবর্তনের পেছনে জমে থাকা অভিমানটুকু তিনি কখনো বুঝতেই চাননি।


মায়ের প্রতি সম্মান রাখা আর মায়ের প্রতিটি আচরণকে সঠিক বলে মেনে নেওয়া এক বিষয় নয়। মা বলেই তাঁর পক্ষপাতের সমালোচনা করা যাবে না—এমন ধারণাও ঠিক নয়। একজন মা তাঁর সন্তানদের জন্য যেমন ত্যাগ স্বীকার করেন, তেমনি তাঁর আচরণেও সন্তানদের প্রতি দায়িত্বশীলতা থাকা প্রয়োজন। পরিবারে শান্তি বজায় রাখতে হলে শুধু সন্তানদের মানিয়ে চলার কথা বললে হবে না; মাকেও নিজের আচরণ নিয়ে ভাবতে হবে।


তাই সন্তানের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে মায়েদেরও নিজের আচরণ নিয়ে ভাবা জরুরি। কারণ, সন্তান শুধু জন্ম দেওয়ার নাম নয়; তাকে ন্যায্যতা, সম্মান এবং মানসিক নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্বও এর সঙ্গে জড়িত। নিজের কোনো সন্তানকে বেশি ভালো লাগতেই পারে, কিন্তু সেই পছন্দের কারণে অন্য সন্তানকে অবহেলা করা কিংবা তার স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা উচিত নয়। পরিবারের প্রতিটি সদস্য যেন নিজেকে আপন ও সম্মানিত মনে করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করাও একজন মায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।


মা হওয়া শুধু সন্তান জন্ম দেওয়া নয়, প্রত্যেক সন্তানের কাছে ন্যায্য আশ্রয় হয়ে ওঠাও। নিজের পছন্দের সন্তানকে ভালোবাসুন, কিন্তু সেই ভালোবাসার কারণে অন্য সন্তানকে বঞ্চিত করবেন না। কারণ, সন্তান বড় হয়ে গেলেও মায়ের কাছে সমান মর্যাদা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়ে যায় না।


একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়; সেই সম্পর্কের ভেতরে থাকা সম্মান, ন্যায্যতা আর ভালোবাসা। পক্ষপাত দিয়ে হয়তো সাময়িকভাবে একজনকে কাছে রাখা যায়, কিন্তু অন্যজনের মনে যে দূরত্ব তৈরি হয়, তা একদিন পুরো পরিবারকেই আলাদা করে দিতে পারে।





আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1409 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 28479। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4993
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বাবা-মায়ের সঙ্গে দূরত্ব মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ৩০ জুন, ২০২৬ "বাবা-&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
62 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৫-এক মায়ের নীরব লড়াই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
54 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৪-এক মায়ের নীরব লড়াই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
53 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

বৃদ্ধ বাবা-মায়ের একাকীত্ব মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী কলাম | ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ আমার বাবার চশমাটা ভাঙা। ডান দিকের কাঁচটা ফাটল ধরেছে, তিনি সেলোটেপ লাগিয়ে চালাচ্ছেন। আমি বলেছিল�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
458 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
প্রত্যাশার সীমা: বাবা-মায়ের আর সন্তানের চোখে মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
489 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    875 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    7 মন্তব্য

    43 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...