সমাজ ও পরিবারে ব্যক্তিগত উদাসীনতার দাম
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী | ৭ মার্চ ২০২৬
রাত নয়টা। রিপোর্টের স্ক্রিন ঝলমল করছে। আঙুল ক্লান্ত, চোখ নাড়া। ফোনটা বাজল। বাবা। বলেছিলাম, “কাল কথা বলব।” সেই ‘কাল’ কখনও আসেনি।
রাস্তার পাশে রাহি বসে আছে। ধুলো মাখা শার্ট, ভাঙা জুতো। হালকা বৃষ্টি পড়ছে। রাস্তায় জল জমছে। এক রিকশা ধাক্কা মারে—সে সরে যায়, আবার বসে। আমি দাঁড়িয়ে আছি। কিছু বলি নি।
দোকানের মালিক কাছে আসে। মুদ্রা ধরে রাহির দিকে এগিয়ে যায়। রাহি তাকায়। হাত কেঁপে। নাক চেপে ধরে। শব্দ নেই। শুধু চোখে অদৃশ্য প্রশ্ন।
রাহির পা ধুলো ভিজে যাওয়ায় লেগে আছে। সে একটু সরে যায়, আবার নিজের জায়গায় ফিরে আসে। ছোট হাতটি লোম্পা, আঙুলে মাটি লেগেছে। আমি একবার শ্বাস নিই, আবার স্থির থাকি।
বৃষ্টি আরও বেড়েছে। ফুটপাথের রং মিশে গেছে। ট্রাফিকের হালকা শব্দ। দূরের লাইট ঝলমল করছে। রাহির চোখ আমাকে ধরে রাখে। তার চুপচাপ ভঙ্গি, হালকা দুলন, ছোট নিঃশ্বাস—সব কিছু বলছে, কিন্তু শব্দ নেই।
আমি এক পা এগিয়ে। সে চোখে তাকায়। হঠাৎ কিছু শব্দ বের হয়নি, শুধু ধীর নিঃশ্বাস। আমি স্থির। কিছু বলি নি। আবার পিছু হটি।
রাস্তার পাশে ছোট ছোট ছাপ, জল, বাতাসের ঠান্ডা—সব মিলিয়ে মুহূর্তটি ভারী হয়ে আছে। রাহির ছোট চুপচাপ চোখ, হাতের অঙ্গভঙ্গি, ছোট নিঃশ্বাস—সব মিলিয়ে আমাকে থামিয়ে রেখেছে।
দূরের ট্রাফিকের আলো চকচক করছে। হালকা বৃষ্টি থেমে এসেছে। ফুটপাথের ধুলো ভিজে গেছে, জল ছড়িয়ে পড়ছে। রাহি এখনও বসে আছে।
আমি চোখ সরাই। নিঃশব্দ। কয়েক সেকেন্ড ধরে। হৃদয় দ্রুত চলছে। মনে হলো, যদি এক মিনিট আগে এগিয়ে যেতাম, হয়তো কিছু বদলাত। কিন্তু এখন আর সম্ভাবনা নেই।
রাহি হঠাৎ মাথা নাড়ল। চোখে অল্প অস্থিরতা। সে স্থির, কিন্তু অল্প দুলন। আমি আবার তাকাই। কিছু বলি নি। পিছু হটি।
রাস্তায় বাতি ধীরে ঝলমল করছে। দূরের ট্রাফিকের শব্দ ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির জল ফুটপাথে দারুণ ছোট ছায়া তৈরি করছে। রাহি বসে আছে।
আমি স্থির। কিছু বলি নি। পিছু হটি। আর কী করা যায়, জানি না।
রাহি এখনও বসে আছে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।