ঘৃণার ঊর্ধ্বে ভালোবাসা
মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্নী | ডিসেম্বর ২১, ২০২৫
[বিঃদ্রঃ @Badrun Nahar Bably আপুর পোস্টের
"মানুষের প্রতি মানুষের প্রচন্ড ঘৃণা, নৃশংসতা!!২০২৫ এ এসেও ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি দেখতে হলো!! এসব কিছুর উর্ধ্বে উঠে মানুষকে ভালোবাসতে হবে। কবি নজরুল যে সাম্যের কথা বলেছেন, আমরা তা কোথায় হারালাম!"- এই লাইন গুলোকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।]
আপনি কি ভেবেছেন—মানুষ কেন মানুষের প্রতি এত ঘৃণা রাখতে পারে, ২০২৫-এও ধর্মের নামে এত নৃশংসতা?
এ প্রশ্ন আমাদের চোখে পানি আনে, হৃদয় কাঁপায়। কারণ আমরা এখনও দেখি—ধর্ম, জাতি, ভাষা, ক্ষমতা—এগুলোকে ঢাল বানিয়ে মানুষ হত্যা করছে, শিশু হারাচ্ছে শৈশব, পরিবার বিচ্ছিন্ন হচ্ছে।
কিন্তু এখানেই চ্যালেঞ্জ: আমরা কি শুধু থমকে দাঁড়াবো?
নাকি ঘৃণার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ভালোবাসব? ভালোবাসাই একমাত্র মুক্তির পথ।
কবি নজরুলের সাম্যবাদী দর্শন আজও আমাদের নির্দেশ দেয়। তিনি দেখিয়েছেন—ধর্ম, বর্ণ, ক্ষমতা মানুষের প্রকৃত পরিচয় নয়। প্রকৃত পরিচয় হলো মানবিকতা, ন্যায়, ভালোবাসা। কিন্তু আমরা তা হারিয়েছি। আমরা ভাগ হয়ে গিয়েছি, বিভাজনের শক্তিতে বাধ্য হয়েছি। আর নিজের ভেতরের ভালোবাসা ভুলে গেছি।
বাস্তবতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো যায়। সংবাদে আমরা দেখি—ধর্মের নামে হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক বিদ্বেষে সহিংসতা, সামাজিক বিভাজনে শোষণ। শিশুদের চোখে স্বপ্ন নেই, বয়স্করা বিশ্বাস হারিয়েছে। মানুষ একে অপরকে মনে করিয়ে দেয় না—নিজের জীবনের জন্য লড়াই যথেষ্ট।
নজরুলের সেই সাম্যবাদ বলে—মানুষ শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্যও খুঁজে পাওয়া উচিত মানবিক মর্যাদা। ভালোবাসা মানে দুর্বলতা নয়। ভালোবাসা মানে ক্ষমা করা, সহমর্মিতা দেখানো, অন্যের দুঃখকে নিজের দুঃখ মনে করা। এটাই মানুষকে মানব বানায়।
যখন আমরা ভীত ও বিভাজিত থাকি, তখন এই শক্তি হারাই। এবং সেই ক্ষতি শুধুমাত্র ব্যক্তির নয়—সমাজেরও। সমাজ তখন বিভাজিত, বিচ্ছিন্ন, ভীত।
ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আসল বিপ্লব সম্ভব। যদি আমরা ঘৃণা, হিংসা, বিভাজনকে ছাড়িয়ে শুধু মানুষের অন্তর্নিহিত মর্যাদা চিনতে পারি, তাহলে আমরা নজরুলের পথ ধরতে পারি। আমরা আবার সমাজকে আলোড়িত করতে পারি, যেখানে মানুষ একে অপরের চোখে নিজের প্রতিফলন দেখতে পায়।
ধর্ম কখনো মানুষকে হত্যা করতে বলে না। রাষ্ট্র কখনো মানুষের ঘৃণা তৈরী করতে বলে না। ঘৃণা, হিংসা—সবই মানুষ নিজের অন্তরে জন্ম দেয়। সমাধানও মানুষের অন্তরে জন্ম নেবে। আমাদের শেখার দরকার—মানুষকে ভালোবাসার শক্তি, সাম্যের শক্তি, ন্যায়ের শক্তি আমাদের ভেতর থেকেই আসে।
আজও আমরা পরিবর্তন করতে পারি। শিক্ষা দিতে পারি, উদাহরণ স্থাপন করতে পারি, শিশুদের হাতে মানুষকে ভালোবাসা শেখাতে পারি। প্রতিটি ছোট কাজেই—কেউ না খেয়ে থাকলে সাহায্য করা, কারো দুঃখে সহমর্মিতা দেখানো—এই ছোট ভালোবাসার ধারা সমাজকে ধীরে ধীরে বদলাবে।
এটাই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা কি এমন সমাজ চাই, যেখানে ঘৃণা, বিভাজন ও নৃশংসতা বাড়বে, নাকি এমন সমাজ যেখানে মানুষ মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল, সহমর্মী এবং ভালোবাসার শক্তি দিয়ে একে অপরকে গড়ে তুলবে? উত্তর স্পষ্ট, সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এখনই।
আপনি যদি বিশ্বাস করেন—মানুষকে ভালোবাসাই একমাত্র পথ, তাহলে নীরব থাকবেন না। এই বার্তা ছড়িয়ে দিন, প্রশ্ন তুলুন, আলোচনায় নিয়ে আসুন। ঘৃণার উর্ধ্বে উঠে মানুষের প্রতি ভালোবাসা দেখানোই আজকের সবচেয়ে শক্তিশালী কাজ।
#ঘৃণার_উর্ধ্বে_ভালোবাসা #মানবিকতা
#নজরুলের_সাম্য #ভালোবাসাই_সমাজ
#মানবতা_অক্ষুণ্ণ #ঘৃণার_বিরুদ্ধে_ভালোবাসা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।