Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

কুসংস্কার কেন গল্পে এত আকর্ষণীয়

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
426 বার প্রদর্শিত
করেছেন (22,802 পয়েন্ট)   09 এপ্রিল "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
কুসংস্কার কেন গল্পে এত আকর্ষণীয়

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক

নিবন্ধ। এপ্রিল ১০, ২০২৬

মানুষের মানসিক গঠনের ভেতরে এক ধরনের টানাপোড়েন কাজ করে—একদিকে জানার তীব্র আগ্রহ, অন্যদিকে অজানাকে ঘিরে এক অদ্ভুত সংকোচ। এই টানাপোড়েনটাই অভিজ্ঞতাকে কেমন যেন ধারালো করে তোলে। কুসংস্কার সম্ভবত সেই সূক্ষ্ম জায়গাতেই কাজ করে। ফলে বাংলা সাহিত্যে এটি কেবল একটি বিষয় হয়ে থাকে না; ধীরে ধীরে এক ধরনের বর্ণনাভঙ্গিতে পরিণত হয়—যা পাঠককে টেনে নেয়, খানিকটা গা ছমছম ভাব তৈরি করে, এবং শেষে একধরনের অপূর্ণ অনুভূতি রেখে যায়।

অজানাকে ব্যাখ্যা করার প্রশ্নটি এখানে কেন্দ্রে। যখন কোনো ঘটনার স্পষ্ট কারণ মেলে না, মানুষ প্রায়ই সহজ কোনো ব্যাখ্যার দিকে ঝুঁকে পড়ে—যেটি সবসময় যুক্তিনির্ভর নাও হতে পারে। সাহিত্যে এই প্রবণতাকে ব্যবহার করা হয়েছে, তবে সরলভাবে নয়। একটি বন্ধ ঘর, হালকা শব্দ, কিংবা কোনো অনির্দিষ্ট উপস্থিতির আভাস—এসব আলাদা করে খুব ভয়ংকর নয়। কিন্তু একসঙ্গে এলে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়। মনে হয়, কিছু একটা আছে—কিন্তু ঠিক কী, ধরা যাচ্ছে না। এই অনিশ্চিত অবস্থানেই কুসংস্কারের জায়গা তৈরি হয়।

এখানে একটু থামা যায়। ভাবলে দেখা যাবে, কুসংস্কার আসলে বাইরের কোনো ঘটনার চেয়ে বেশি ভেতরের প্রতিক্রিয়া। আমরা সবাই কিছু অস্পষ্ট ভয় বয়ে বেড়াই—যেগুলোকে পরিষ্কার ভাষায় ধরতে পারি না। অন্ধকারে একা থাকলে হঠাৎ গা ছমছম করে কেন? কিংবা কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশে দাঁড়িয়ে মনে হয়—এখানে যেন কিছু ঠিক নেই। সাহিত্যে যখন এই অনুভূতিগুলো ধরা পড়ে, গল্পটা আর দূরের কিছু থাকে না। পাঠক নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজতে শুরু করে। সেখানেই এর আসল টান।

বাংলা সাহিত্যে এমন অনেক মুহূর্ত আছে যেখানে ভয়কে সরাসরি দেখানো হয় না। বরং একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়—সবকিছু স্বাভাবিক, তবুও যেন সামান্য কিছু সরে গেছে। যেমন, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তারানাথ তান্ত্রিক’-এর গল্পগুলোতে বারবার এই আবহ তৈরি হয়—ঘটনাগুলোকে পুরোপুরি অস্বীকারও করা যায় না, আবার নিঃসংশয়ে বিশ্বাসও করা যায় না। এই দ্বিধাটাই পাঠককে আটকে রাখে।

এই ‘স্বাভাবিকতার ফাঁক’টাই হয়তো কুসংস্কারের আসল জায়গা। এটি পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, আবার একেবারে অস্পষ্টও নয়। পাঠক বুঝতে পারে—কিছু একটা ঘটছে, কিন্তু সেটিকে ভাষায় ধরতে পারে না। ফলে গল্পটি পড়া শেষ হলেও তার ভেতরের খচখচানি থেকে যায়।

এখানে আরেকটি স্তর কাজ করে—বাস্তব আর অবাস্তবের মাঝামাঝি এক ধূসর অঞ্চল। গল্প এগোতে থাকলে পাঠক বারবার ভাবতে থাকে, সে যা পড়ছে তা কি সত্যিই ঘটছে, নাকি চরিত্রের বিশ্বাস সেটিকে এমন করে তুলছে? এই দোলাচল সহজে মেটে না। বরং যত এগোয়, তত জটিল হয়। মনে হতে পারে, নিশ্চিত উত্তর থাকলে গল্পটি হয়তো এতটা দীর্ঘস্থায়ী হতো না।

সামাজিক দিকটিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। কুসংস্কার অনেক সময় ব্যক্তিগত অভ্যাস নয়; এটি একটি সমাজের ভেতরে তৈরি হয়, ছড়িয়ে পড়ে, এবং কখনো নির্দিষ্ট মানুষদের ঘিরে শক্ত হয়ে ওঠে। সাহিত্যে যখন এই বিশ্বাসগুলো আসে, তখন তা কেবল ভয় তৈরি করে না—বরং প্রশ্ন তোলার সুযোগও দেয়। পাঠক তখন গল্পের বাইরে তাকাতে শুরু করে: এই বিশ্বাসগুলো কোথা থেকে এল, কেন টিকে আছে?

তবুও একটি সংশয় থেকে যায়। কুসংস্কার কি কেবল গল্পকে আকর্ষণীয় করার কৌশল, নাকি এটি আমাদের মানসিক কাঠামোর গভীরে থাকা কোনো দুর্বলতার ইঙ্গিত? হয়তো উত্তরটা মাঝামাঝি কোথাও। আমরা নিজেদের যুক্তিবাদী ভাবতে ভালোবাসি, কিন্তু অজানার মুখোমুখি হলে সেই আত্মবিশ্বাস টলে যায়। তখন পুরোনো বিশ্বাস, শোনা কথা, কিংবা অস্পষ্ট ধারণাগুলো আবার ফিরে আসে। সাহিত্য সম্ভবত এই ভঙ্গুর মুহূর্তগুলো ধরতে পারে বলেই এত প্রভাব ফেলতে পারে।

শেষ পর্যন্ত, কুসংস্কার গল্পকে শুধু পড়ার মতো করে না—মনে গেঁথে যাওয়ার মতো করে তোলে। গল্প শেষ হয়ে গেলেও তার ভেতরের প্রশ্নগুলো থেকে যায়। সত্যিই কি কিছু ঘটেছিল, নাকি সবটাই বিশ্বাসের তৈরি? এই দ্বিধার কোনো নির্দিষ্ট সমাধান মেলে না।

দিনশেষে প্রশ্নটা আমাদের সবার কাছেই ফিরে আসে—আমরা কি ভয় পেতে চাই, নাকি সত্যটা জানতে চাই?
আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1129 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 22802। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3737
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বাংলা সাহিত্যে প্রেমের চিঠি কেন এত শক্তিশালী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক প্&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
132 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কুসংস্কার অশিক্ষা না মানুষের গভীর মনস্তত্ত্ব মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক নিবন্ধ। এপ্রিল ১০, ২০২৬ রাত অনেক হয়েছে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। শহরের ফ্ল্যাট, তবুও চারপাশটা অচেনা লাগতে শুরু ক�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
423 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
দরিদ্ররা কেন সাহিত্যচর্চায় পিছিয়ে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। এপ্রিল ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
237 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
লেখকরা কেন নিজেদের জীবন থেকে গল্প ‘চুরি’ করেন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্ম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
438 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কিশোরদের মানসিক সংকট আমরা কেন দেখতে পাই না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ৭ মার্চ ২০২৬ রাহি আমার পাশের বাড়ির ছেলে। বয়স সতেরো। গত বছর এই সময়টায় আমাদের গলির ক্রিকেট দলের অধিনায়ক �[...] বিস্তারিত পড়ুন...
434 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1333 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    66 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. রাকিব মুসাব্বির

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...