Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

কিশোরদের মানসিক সংকট আমরা কেন দেখতে পাই না

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
464 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,767 পয়েন্ট)   07 মার্চ "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
কিশোরদের মানসিক সংকট আমরা কেন দেখতে পাই না

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী | ৭ মার্চ ২০২৬

রাহি আমার পাশের বাড়ির ছেলে। বয়স সতেরো। গত বছর এই সময়টায় আমাদের গলির ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিল। বিকেলে স্কুল থেকে ফিরেই ব্যাট হাতে মাঠে নেমে যেত।

এখন তার ঘরের দরজা বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। রাতে জানালার ফাঁক দিয়ে ফোনের নীল আলো দেখা যায়।

একদিন রাহির মা আমাকে বলছিলেন,

“ছেলেটা আগের মতো নেই। সারাক্ষণ ঘরে থাকে। ওর বাবা বলেন—এই বয়সে এমন হয়।”

কথাটা খুব অচেনা নয়। বরং খুব পরিচিত।

অনেক পরিবারেই কিশোরদের আচরণের এই পরিবর্তনকে “মুড সুইং” বলে ধরে নেওয়া হয়। কৈশোরে এমন হয়—এই ব্যাখ্যাটি এত সহজ যে এর আড়ালে অন্য সম্ভাবনাগুলো প্রায়ই অদৃশ্য হয়ে যায়।

কিন্তু বাস্তবতা হয়তো এত সরল নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ কিশোর–কিশোরী কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হয়। সংখ্যাটা বড় মনে হতে পারে। কিন্তু আরও বড় বিষয় হলো—এই সমস্যাগুলোর অনেকটাই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ধরা পড়ে না।

কারণ মানসিক সংকট সাধারণত নাটকীয়ভাবে শুরু হয় না।

এটি আসে ধীরে ধীরে।

আচরণের ছোট পরিবর্তন দিয়ে।

একদিন দেখা যায় বন্ধুদের সঙ্গে বের হওয়া কমে গেছে।

ঘুমের সময় বদলে গেছে।

খাওয়ার ইচ্ছা কমেছে।

এগুলো আলাদা আলাদা ঘটনা হিসেবে খুব বড় কিছু মনে হয় না। কিন্তু একসঙ্গে জমতে থাকলে তারা অন্য কিছুর ইঙ্গিত দেয়।

এক সন্ধ্যায় রাহির ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গিটারের শব্দ শুনেছিলাম। সে আগে গিটার বাজাত না। সুরটা খুব পরিষ্কারও ছিল না—মনে হচ্ছিল বারবার একই জায়গায় আটকে যাচ্ছে।

হঠাৎ সুরটা থেমে গেল।

তারপর আর কোনো শব্দ নেই।

আমি কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে ছিলাম। তারপর চলে এলাম।

এই নীরবতার ভেতরে কী আছে—তা বোঝা সবসময় সহজ নয়।

আজকের কিশোরদের জীবনে চাপের ধরনও বদলেছে।

একটি বড় পরিবর্তন এসেছে তুলনার সংস্কৃতিতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সাফল্য, সৌন্দর্য বা জনপ্রিয়তার সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা করা এখন অনেক কিশোরের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা।

সকালে ঘুম ভাঙার পর ফোন হাতে নেওয়া—

দিনের শুরুতেই অন্যদের “ভালো থাকা”র প্রদর্শন দেখা।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা।

ভালো বিশ্ববিদ্যালয়, ভালো চাকরি, সামাজিক মর্যাদা—সবকিছুই যেন একটি ক্রমাগত প্রতিযোগিতার অংশ। এই প্রতিযোগিতা অনেক সময় এমন অনুভূতি তৈরি করে যে মানুষকে শুধু সফল হলেই গ্রহণ করা হবে।

আর একটি বিষয় আছে, যেটা প্রায়ই চোখ এড়িয়ে যায়।

অনেক পরিবারেই আবেগ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলার ভাষা তৈরি হয়নি। দুঃখ, উদ্বেগ বা বিভ্রান্তির কথা বললে তা কখনো দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়, কখনো অপ্রয়োজনীয় নাটক বলে মনে করা হয়।

ফলে অনেক কিশোর নিজের অনুভূতিগুলোকে ভাষায় প্রকাশ করার আগেই সেগুলো চেপে রাখতে শেখে।

ষোল থেকে পঁচিশ বছর বয়সের সময়টাকে অনেকেই জীবনের একটি অদ্ভুত সেতুবন্ধন বলে মনে করেন।

এই সময় মানুষ স্কুলের নিরাপদ পরিবেশ ছেড়ে বড় জগতে পা রাখে। একদিকে পরিবার, অন্যদিকে স্বাধীনতা—দুটোর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে।

কিন্তু ঠিক এই সময়েই সহায়তার ব্যবস্থায় এক ধরনের ফাঁক তৈরি হয়। শিশুদের জন্য যে কাঠামো থাকে, তা তখন আর পুরোপুরি কার্যকর থাকে না। আবার প্রাপ্তবয়স্কদের জগতে প্রবেশও সহজ হয় না।

ফলে অনেক তরুণ যেন মাঝখানের এক শূন্যতায় ঝুলে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে কিশোরদের আচরণকে শুধুই “সমস্যা” হিসেবে দেখলে হয়তো আসল প্রশ্নটা ধরা পড়ে না।

কখনো কখনো মনে হয়—সমস্যাটা শুধু তাদের নয়।

সম্ভবত সেই পরিবেশেরও, যেখানে তারা বড় হচ্ছে।

রাহির বাবাকে একদিন বলতে শুনেছিলাম,

“আমার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে।”

কথাটা বলার সময় রাহি পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। সে কিছু বলেনি। শুধু মাথা নিচু করে ছিল।

হয়তো সে ভাবছিল—তাহলে সে আসলে কে?

কিশোরদের মানসিক সমস্যাগুলো যত আগে বোঝা যায়, তত সহজে সামলানো সম্ভব। কিন্তু অনেক সময় সবচেয়ে কঠিন কাজটাই হলো—প্রথম কথাটা বলা।

আমি জানি না সেদিন রাহির সঙ্গে কী বলা উচিত ছিল।

“কেমন আছিস?”—এই প্রশ্নটা কি যথেষ্ট হতো?

নাকি খুব সরল?

কয়েক দিন আগে আবার তাকে দেখেছি। সন্ধ্যার পরে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল। হাতে ফোন। আলোটা তার মুখে পড়ছিল।

আমি থেমেছিলাম।

কিছু বলিনি।

কখনো কখনো মনে হয়—সেই নীরব দাঁড়িয়ে থাকাটাই হয়তো এক ধরনের প্রশ্ন ছিল।

অথবা হয়তো ছিল না।
আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1374 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27767। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3551
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
মানসিক শান্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী লেখা। জানু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
347 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ফুটপাতের শৈশব পর্ব ৫ — আমরা তাদের দেখি, কিন্তু দেখি না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
52 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পথের পাঁচালী আমরা গল্প পড়ি কিন্তু পাঠ শিখি না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্ম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
459 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অন্যের দুঃখে আমরা আসলেই দুঃখ পাই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন |  বিশ্লেষণধর্মী | ফেব্রুয়া&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
150 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হতাশা: দুর্বলতা নয়, মানসিক অসুস্থতা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ২৮ মে, ২০২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
258 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    163 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...