Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

টক্সিক প্যারেন্টস — নাকি টক্সিক সন্তান?

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
71 বার প্রদর্শিত
করেছেন (21,713 পয়েন্ট)   14 নভেম্বর 2025 "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

টক্সিক প্যারেন্টস — নাকি টক্সিক সন্তান?

মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী | ১৪ নভেম্বর, ২০২৫



আমার ফেসবুকের নিউজফিডে গত সপ্তাহে একটা রিল দেখলাম।


একটা মেয়ে ক্যামেরার সামনে কাঁদছে, বলছে—

“আমার মা আমাকে কখনো বোঝেনি। আমি যা চাই তা-ই নিষেধ। এটা টক্সিক।”


কমেন্টে হাজারো লাইক, শেয়ার, 

“তোমার মতো আমিও…”।


পরদিন আমার মায়ের ফোন এলো।image

“তুই কি খাওয়া-দাওয়া ঠিক করছিস? 

রাতে দেরি করে ঘুমাস না।”

আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, 

“মা, আমি ২৮ বছরের ছেলে। ছাড়ো এসব।”

লাইন কেটে দিলাম।


রাতে শুয়ে ভাবলাম—আমি কি ঠিক করলাম?

আমার বাবা কখনো “ভালোবাসি” বলেননি,

তিনি বলতেন, “এই টাকাটা রাখ, কাজে লাগবে।”

আমি তখন ক্লাস নাইনে। টাকা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আইসক্রিম খেয়েছিলাম।


পরে শুনেছি, সেই মাসে তিনি নিজের জন্য একটা শার্ট কেনেননি। আমার বাবা কখনো আমার সঙ্গে বসে “মনের কথা” শেয়ার করেননি।


কিন্তু আমার প্রথম চাকরির ইন্টারভিউর আগের রাতে— দরজার ফাঁক দিয়ে দেখেছিলাম, তিনি বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছেন।

চোখ লাল।


আমি তখন বুঝিনি। আজ বুঝি— ওটা ছিল ভয়।

ভয়, যদি আমি ফেইল করি।


আমি কখনো “ধন্যবাদ” বলিনি

আমার মা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে থাকতেন। আমি বাসায় ফিরতাম, প্লেটে খাবার নিয়ে ঘরে চলে যেতাম।

“মা, খাবারটা একটু বেশি নোনতা হয়েছে” — এটুকুই বলতাম।


একদিন মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। আমি রাতে রান্না করতে গিয়ে বুঝলাম— একটা সাধারণ ডাল রান্না করতেও ৪৫ মিনিট লাগে।


আমার মা ৩০ বছর ধরে প্রতিদিন এটা করেছেন।

আমি কখনো “ধন্যবাদ” বলিনি।


আমরা “স্বাধীনতা” চাই, কিন্তু “দায়িত্ব” নিতে ভয় পাই।


আমি যখন বলি, “আমার জীবন, আমার সিদ্ধান্ত”—

তখন আমি ভুলে যাই, আমার বাবা-মা এখনো আমার নামে ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন।

আমার বোনের বিয়ের খরচের জন্য।


আমি জানি না। আমি যখন বলি, “তোমরা আমাকে বোঝো না”— তখন আমি ভুলে যাই,

আমার মা আমার ফেসবুক প্রোফাইল দেখে কাঁদেন। কারণ আমি একটা পোস্টে লিখেছি, “আমার পরিবার আমাকে বোঝে না।”


আমার বন্ধু রাহাতের গল্প বলি, রাহাতের বাবা তাকে ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন। রাহাত গ্রাফিক ডিজাইনার হয়েছে। বাবা কথা বন্ধ করেছেন।

গত মাসে রাহাতের বাবা হার্ট অ্যাটাক করেছেন।

হাসপাতালে রাহাত গিয়ে দেখল—বাবার পকেটে একটা কাগজ।

তাতে লেখা—

“যদি আমি না থাকি, রাহাতের বিয়ের জন্য ৫ লাখ টাকা আছে।”

রাহাত কাঁদতে কাঁদতে বলল,

“আমি ভেবেছিলাম বাবা আমাকে বোঝেন না।

আসলে আমিই বুঝিনি।”


বাবা-মা ভুল করেন। আমরাও করি।

আমার বাবা আমাকে তুলনা করতেন পাড়ার রাকিবের সঙ্গে।

আমার মা আমাকে বলতেন, “তুই কখনো কিছু করতে পারবি না।”


এটা আমার কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু আমিও ভুল করেছি।

আমি আমার মাকে বলেছি, 

“তুমি আমার জীবন নষ্ট করেছ।”

আমি জানি না, সেই কথা শুনে মা কত রাত ঘুমাননি।


সমাধান কী?


আমি আর আমার মা এখন প্রতি রবিবার এক কাপ চা খাই। কোনো ফোন নয়। কোনো টিভি নয়।

শুধু দুজনে।

আমি বলি, 

“মা, তুমি কেমন আছ?”

মা বলেন,

 “তুই খাওয়া-দাওয়া করছিস তো?”

একদিন মা বললেন,

“আমি জানি না কীভাবে ভালোবাসা দেখাতে হয়।

আমার মা-বাবাও তো বলেননি।

কিন্তু আমি তো চেষ্টা করেছি।”

আমি মায়ের হাত ধরে বললাম,

“আমিও চেষ্টা করছি।”


শেষ কথা


টক্সিক প্যারেন্টস নেই আবার টক্সিক সন্তানও নেই।

আছে শুধু—

দুটো প্রজন্ম।


একটা যারা কষ্ট লুকিয়ে ভালোবাসতে শিখেছে।

আরেকটা যারা কষ্ট দেখিয়ে ভালোবাসতে শিখছে।


যেদিন আমরা একে অপরের ভাষা শিখব,

সেদিন আর “টক্সিক” থাকবে না।

থাকবে শুধু— পরিবার।



#পরিবার #ভালোবাসারভাষা #প্রজন্মেরগল্প

#মা #বাবা #বোঝাপড়া

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1075 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21713। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1446
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
“বাংলা ঘরে ভালোবাসার চেয়ে প্রত্যাশা ভারী।” আমরা কি সন্তান বানাই, না ‘ভবিষ্যতের বি&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
454 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
“তুমি অলস না, তুমি অতিরিক্তভাবে exploited।” আমরা কি সত্যিই অলস জাতি, নাকি আমরা পরিকল্পিতভা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
455 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বিবাহ—সামাজিক চুক্তি, নাকি অপ্রচলিত বিলাসিতা? মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষনধরú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
483 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
প্রজন্মের পালাবদল, নাকি সম্পর্কের অবক্ষয়? মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষনধর্মী৷ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
129 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
“আইসিইউতে প্রথম হার্টের সমর্পণ, আর সে সমর্পণ মাঝে খেলে যায় রক্তের মধ্যে এক অনিন্দ আব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
505 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    22 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...