Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মায়ের ছায়া

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
6 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,310 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মায়ের ছায়াimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণমূলক | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গ্রামে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, “যে মেয়ের মা যত বেশি চালাক, সেই মেয়ের তত বেশি তালাক।”


কথাটা শুনলে আপত্তি হওয়াই স্বাভাবিক। একটি মেয়ের সংসার ভেঙে যাওয়ার দায় তার মায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। দাম্পত্য ভাঙার পেছনে স্বামী-স্ত্রীর আচরণ, অর্থনৈতিক চাপ, অবিশ্বাস, নির্যাতন, আসক্তি কিংবা মানসিকতার অমিল—অনেক কারণ থাকতে পারে।


তবু কথাটাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়াও কঠিন। কারণ আমাদের আশপাশে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেখানে মায়ের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ মেয়ের সংসারের ছোট সমস্যাকে বড় করে তোলে।


মেয়ের বিয়ের পরও অনেক মা তাকে আগের মতো আগলে রাখতে চান। মেয়ে কী রান্না করল, শাশুড়ি কী বলল, স্বামী কখন বাড়ি ফিরল, কেন ফোন করল না, মাসে কত টাকা দিল—সংসারের ছোট-বড় অনেক খবরই নিয়মিত মায়ের কাছে যায়।


মায়ের কাছে এগুলো খোঁজখবর।


কিন্তু খোঁজখবর আর হস্তক্ষেপের মাঝখানে একটা সীমারেখা আছে। সেই সীমাটা কখন পেরিয়ে যাচ্ছে, অনেক সময় মা নিজেও বুঝতে পারেন না।


ধরা যাক, এক রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলো। মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে মাকে ফোন করল।


মা বললেন,

“তুই আর সেখানে থাকবি না। এখনই চলে আয়।”


মেয়েটি হয়তো কিছুক্ষণ পর শান্ত হয়ে স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারত। ঝগড়াটা সেখানেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু মায়ের কথায় সে রাতেই বাবার বাড়ি চলে গেল।


পরদিন দুই পরিবার বসে গেল।


মেয়ের পরিবার বলল, “মেয়েকে আর পাঠাব না।”


ছেলের পরিবার বলল, “তাহলে আমরাও রাখব না।”


গত রাতের ঝগড়াটা এর মধ্যে দুই পরিবারের মান-অভিমানের বিষয় হয়ে গেল। কে কাকে অপমান করেছে, কে আগে ক্ষমা চাইবে, কে মেয়েকে নিতে যাবে—এসব হিসাব শুরু হলো।


যে সমস্যা স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নিতে পারত, সেটাই তখন দুই পরিবারের সমস্যায় পরিণত হলো।


বিয়ের পর একটি মেয়ের নতুন সংসার তৈরি হয়। সেখানে তাকে নিজের মতো করে চলতে হবে, ভুল করতে হবে, ভুল থেকে শিখতে হবে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত যদি মায়ের কাছ থেকে আসে, তাহলে মেয়েটি নিজের সংসারের মানুষ হয়ে উঠবে কীভাবে?


কিছু মা মেয়ের ভালো চান বলেই বেশি সতর্ক থাকেন। ভয় পান, মেয়ে কষ্ট পাচ্ছে কি না, কেউ তাকে ঠকাচ্ছে কি না। এই ভয় স্বাভাবিক।


সমস্যা শুরু হয় যখন সেই ভয় নিয়ন্ত্রণে পরিণত হয়।


মেয়ের স্বামীকে পছন্দ হলো না।

“ওকে বদলে ফেল।”


শ্বশুরবাড়িতে মনোমালিন্য হলো।

“তুই কেন সহ্য করবি?”


স্বামী সংসারের খরচ কম দিল।

“তোর বাবার বাড়িতে কি তোকে এভাবে থাকতে হয়েছে?”


মায়ের কথায় মমতা থাকতে পারে। কিন্তু দিনের পর দিন এসব শুনতে শুনতে মেয়েটির মনে নিজের সংসার সম্পর্কে তুলনা তৈরি হয়। কে তার কথা রাখল, কে রাখল না, কে তাকে বেশি গুরুত্ব দিল—সংসার তখন ভালোবাসার জায়গা থেকে ধীরে ধীরে হিসাবের জায়গায় চলে যেতে পারে।


তবে একটা বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার। স্বামী যদি স্ত্রীকে মারধর করেন, অপমান করেন, প্রতারণা করেন, ভরণপোষণ না দেন কিংবা নিয়মিত মানসিক নির্যাতন করেন, তাহলে মেয়েকে চুপ করে থাকতে বলা অন্যায়। সেখানে মায়ের দায়িত্ব মেয়ের পাশে দাঁড়ানো।


মেয়েকে বিপদ থেকে রক্ষা করা আর মেয়ের সংসারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিজের হাতে নেওয়া এক কথা নয়।


একই কথা ছেলের মা-বাবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।


ছেলে বিয়ের পর প্রতিদিন মায়ের কাছে ফোন করে বলছে, “আজ বউ এটা বলেছে, ওটা করেনি।”


মা বলছেন, “বউকে এত টাকা দিস না।”


কখনো বলেন, “আজ কী রান্না করেছে?”


কখনো বলেন, “তোর বউকে একটু শাসনে রাখ।”


এভাবেও একটি নতুন সংসারের ভেতরে বাইরে থেকে নিয়ম তৈরি হতে থাকে। ছেলের মা যদি প্রতিটি বিষয়ে মত দেন, আর ছেলে সেই মতকে স্ত্রীর ওপর প্রয়োগ করতে থাকে, তাহলে মেয়েটির কাছে সেই সংসার আর নিজের সংসার মনে হয় না।


নতুন সংসারে দুজন মানুষের কিছু ভুল, কিছু অভিমান, কিছু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের জায়গা থাকা দরকার। বাবা-মায়ের ভালোবাসা সেখানে থাকবে, কিন্তু প্রতিটি সিদ্ধান্তের মালিকানা থাকবে না।


মেয়ে বিপদে পড়লে মায়ের কাছেই আগে ছুটে যায়। তাই মায়ের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।


মেয়ে ফোন করলে আগে শুনতে হবে। রাগের মাথায় বলা কথা আর দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কথা এক নয়।


কখনো বলতে হবে, “আজ কোনো সিদ্ধান্ত নিস না। আগে শান্ত হয়ে কথা বল।”


আবার সত্যিই অন্যায় হলে বলতে হবে, “চুপ করে থাকিস না। আমি আছি।”


এই “আমি আছি” কথাটার মূল্য অনেক।


মেয়ের হয়ে জীবন চালানো নয়, প্রয়োজনের সময় তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো শক্ত করে তোলাই মায়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।


মা পাশে থাকবেন। বাবা-মাও পাশে থাকবেন। কিন্তু নতুন সংসারের জায়গাটা নতুন দম্পতিকেই দিতে হবে।


কারণ মেয়েকে আগলে রাখা আর মেয়ের হয়ে বেঁচে থাকা—দুটো এক জিনিস নয়।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 11 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1352 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27310। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4864
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বাবা-মায়ের ব্যর্থতা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ যে ব&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মায়ের নীরবতা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ১৯ আগস্ট ২০২৬ দুপুরে রান্নাঘর থেকে পো[...] বিস্তারিত পড়ুন...
36 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

মায়ের ক্লান্ত চোখ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ১৫ জুন, ২০২৬ অভিকের রোগটা হঠাৎ আসেনি। ধীরে ধীরে এসেছে, আর ঠিক ততটাই ধীরে বদলে দিয়েছে তার মায়ের চোখ। শুরুতে ওই চোখে ভয় ছিল। তারপর দুশ্চিন্তা�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
78 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি প্রথম পর্ব: বিষণ্ন বিকালের ছায়া মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
46 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মায়ের হাতের স্পর্শ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী। জানুয়ারি ১৩, ২০২৬ মায়ú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
50 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1211 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    60 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    290 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    14 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-আমিন (আলো)

    117 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    83 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...