Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যখন একটা হৃদয় আর লড়তে পারে না

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
478 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,767 পয়েন্ট)   09 ডিসেম্বর 2025 "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

যখন একটা হৃদয় আর লড়তে পারে না

মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন  

বিশ্লেষণধর্মী | ১২ ডিসেম্বর ২০২৫



গত ৪ ডিসেম্বর রাত আড়াইটা।  


আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু রাকিব ফোন করে কাঁপা গলায় বলল,“ভাই, বুকটা যেন কেউ চেপে ধরে রেখেছে। ঘাম হচ্ছে, হাত-পা ঠান্ডা। আমি আর পারছি না।”  


আমি বুঝলাম, হার্ট অ্যাটাক। আমরা দুজনেই ছুটলাম জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। দেশের একমাত্র বিশেষায়িত হৃদরোগ হাসপাতাল। ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে বলে শুনেছি। কিন্তু সেই রাতে বুঝলাম, খোলা থাকা আর জীবন বাঁচানো এক জিনিস নয়।


গেটের সামনে পৌঁছতেই দেখি, ইমার্জেন্সির দরজা আধখোলা। ভিতরে লম্বা লাইন। গার্ড আর নার্সরা বলল,  

“CCU-তে একটাও বেড খালি নেই। ICU-তে নেই। কার্ডিয়াক ক্যাথ ল্যাবে লাইন। রোগী রাখার জায়গা নেই। বাইরে বসান।”  


আমি চিৎকার করে বললাম, 

“ও মরে যাবে! গোল্ডেন আওয়ার যাচ্ছে!”  


একজন ডাক্তার বেরিয়ে এসে ক্লান্ত গলায় বললেন,  

“আমরা জানি। গতকাল থেকে ২২ জন রোগী এসেছে, CCU-তে বেড আছে মাত্র ১২টা। বাকিরা ফ্লোরে শুয়ে আছে। কয়েকজন তো পথেই মারা গেছে। প্রাইভেটে নিয়ে যান।”  


দেশের জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে রাতের বেলা রোগী ফ্লোরে শোয়!  


যে হাসপাতালে বছরে ৫০ হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হয়, সেখানে CCU-র বেড মুখে আঙুলে গোনা যায়। ক্যাথ ল্যাব আছে মাত্র দুটো, যার একটা প্রায়ই খারাপ থাকে। এটা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটা ৪৫ বছর ধরে চলা রাষ্ট্রীয় অবহেলার ফল। ১৯৭৮ সালে যখন এই হাসপাতাল চালু হয়েছিল, তখনকার বেড আর যন্ত্রপাতি আজও বাড়েনি। জনসংখ্যা বেড়েছে তিনগুণ, হৃদরোগ বেড়েছে দশগুণ, কিন্তু বেড বেড়েছে শূন্য।


রাকিবের বয়স ৪৫। দুটো বাচ্চার বাবা। কখনো ধূমপান করেনি। রোজ সকালে হাঁটত। চাকরি করত। বাচ্চাদের স্কুলের ফি জমাতে রাত জেগে ওভারটাইম করত। কিন্তু সেই রাতে ওর হাত আমার হাতের মধ্যে ঠান্ডা হয়ে আসছিল। আমি ওকে কোলে তুলে বললাম, “লড় রাকিব, আর একটু। তোর বাচ্চারা তোকে দরকার।” কিন্তু ওর চোখ বন্ধ হয়ে গেল। ওর শেষ কথা ছিল, “ভাই, আমার মেয়েটার জন্য একটা বাবা রেখে যেতে পারলাম না।”


প্রাইভেট হাসপাতালে ছুটলাম। পথে অ্যাম্বুলেন্স পেলাম না। ট্যাক্সিতেই নিয়ে যেতে হলো। প্রথম হাসপাতালে শুনলাম, “ক্যাথ ল্যাব বুকড।”


দ্বিতীয়টায়, “অগ্রিম দুই লাখ।” আমার কাছে ছিল মাত্র পনেরো হাজার। ফোন করলাম সবাইকে। রাতের অন্ধকারে কেউ টাকা জোগাড় করতে পারল না। 


তৃতীয় হাসপাতালে গিয়ে দেখি, আরো ছয়জন হার্ট অ্যাটাকের রোগী লাইনে। একজনের পরিবার কাঁদছে, “টাকা নেই। বেড নেই। আমার স্বামী মরে যাবে।” আরেকজনের বাবা ফ্লোরে শুয়ে আছে, অক্সিজেন মাস্ক ছাড়া।


ভোর সাড়ে পাঁচটায় একটা হাসপাতালে ঢুকতে পারলাম। ডাক্তার বললেন, “খুব দেরি হয়ে গেছে। হার্টের ৮৫% ড্যামেজ।” তবু চেষ্টা করলেন। কিন্তু সকাল সাড়ে সাতটায় রাকিব আর ফিরল না। 


ওর স্ত্রী এসে আমার কাছে জিজ্ঞেস করল, 

“আমার স্বামী কোথায়?” 

আমি কিছু বলতে পারিনি। শুধু ওর দুটো বাচ্চার দিকে তাকিয়ে কাঁদলাম। 

মেয়েটা জিজ্ঞেস করল, “বাবা কবে আসবে?” 

আমি শুধু ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলাম।


একজন মানুষ মারা গেল। শুধু এই কারণে যে,  

- জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে বেড ছিল না।  

- ক্যাথ ল্যাবে লাইন ছিল।  

- প্রাইভেটে টাকা ছিল না।  

- আর রাষ্ট্র কখনো স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়নি।


এই দেশে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট জিডিপির ০.৯%। ভারতে ২.১%, শ্রীলঙ্কায় ১.৭%, এমনকি নেপালেও ১.৩%। 

আমরা পদ্মা সেতু বানাই, মেট্রোরেল বানাই, ফ্লাইওভার বানাই, কিন্তু হাসপাতালের বেড বাড়াই না। 

হৃদরোগ এখন বাংলাদেশে মৃত্যুর প্রথম কারণ। প্রতি বছর ২ লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ জন। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি? শূন্য। ICU বেড মাথাপিছু ৩০ হাজার মানুষের জন্য একটা। থাইল্যান্ডে ৩ হাজারে একটা। 

এই অবহেলা শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটা রক্তে লেখা। প্রতিদিন রাকিবের মতো শত শত মানুষ মরছে। কেউ লেখে না। কেউ বলে না। কারণ আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি।


রাকিবের মৃত্যু সার্টিফিকেটে লেখা আছে “Myocardial Infarction”।  

কিন্তু আমি জানি, সত্যিটা অন্য।  

এটা হার্ট অ্যাটাক নয়।  

এটা রাষ্ট্রীয় হত্যা।  

এটা একটা দেশের নিজের সন্তানের প্রতি চরম অবহেলা।  

এটা একটা ব্যবস্থার ব্যর্থতা, যে ব্যবস্থা মানুষের জীবনের চেয়ে কংক্রিটের সেতুকে বড় মনে করে।


আজ রাকিব নেই। কাল আরেকজন রাকিব যাবে।  

কারণ আমরা চুপ আছি। কারণ আমরা গর্ব করি, আর ভুলে যাই।image


আমি আর চুপ থাকব না।  

রাকিব, তোর এই মৃত্যু বৃথা যাবে না।  

তোর নামে, তোর বাচ্চাদের জন্য, এই দেশের প্রতিটি ৪৫ বছরের রাকিবের জন্য—  

আমি লড়ব।  

যতদিন বেঁচে থাকব, এই অবহেলার বিরুদ্ধে লড়ব।  

যতদিন না এই দেশে একজন মানুষও বেডের অভাবে মরে।



#একটা_হৃদয়_থেমে_গেল  

#CCU_তে_বেড_নেই  

#স্বাস্থ্য_বাজেট_০_৯%  

#প্রতিদিন_৫০০_হৃদরোগে_মৃত্যু  

#রাষ্ট্রীয়_অবহেলায়_হত্যা  

#আমার_বন্ধু_হলেও_বাঁচতো_না  

#চিকিৎসা_অধিকার_চাই

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1374 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27767। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1860
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বিশ্বাস: যা জীবনও ছিনিয়ে নিতে পারে না লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরনঃ বিশ্ল&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
476 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে কথাগুলো আর বলা হল না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্যকবিত। ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ তুই চলে õ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
542 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পৃথিবী একবার কেঁপে উঠলে—শান্তি আর আগের মতো থাকে না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
489 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

  আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ  বাইবেলের আলোকে প্রমাণ: যীশু কোনো পাপীর জন্য প্রাণ দেননি, আর রক্ত কখনো পাপ মোচন করতে পারে না এবং যীশু শ্রেষ্ঠ নন  খ্রিস্টানরা বলে যীশু নাকি পাপীদের জন্য প্�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
237 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
156 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    163 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...