Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যার কান্না বিশ্বাস করা হয়নি পারিবারিক পক্ষপাত ও মানসিক অবহেলা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,507 পয়েন্ট)   14 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

যার কান্না বিশ্বাস করা হয়নি

পারিবারিক পক্ষপাত ও মানসিক অবহেলাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ২৩ অক্টোবর ২০২৬


দুই বোনের মধ্যে বড় ছিল শিউলি, ছোট মিতা। শিউলির মন খারাপ হলে ঘরের কেউ না কেউ বুঝে ফেলত। সে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের কাছে গিয়ে বসত, কখনো বাবাকে ফোন করে বলত, “আমার আর ভালো লাগছে না।” বাবা তখন কাজ ফেলে মেয়ের সঙ্গে কথা বলতেন। মা মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন।


মিতা কাঁদত কম। অন্তত সবার সামনে নয়। কিছু একটা খারাপ লাগলে চুপ করে নিজের ঘরে চলে যেত। অনেকক্ষণ পর বেরিয়ে এসে রান্নাঘরে মাকে সাহায্য করত, বাবার ওষুধ এগিয়ে দিত, শিউলির ছেলেকে পড়াতে বসত।


একদিন মিতার বিয়ের কথা চলছিল। পাত্রপক্ষের সামনে বসে থাকতে থাকতে সে হঠাৎ উঠে নিজের ঘরে চলে গিয়েছিল। মা পেছনে গিয়ে দেখলেন, মিতা বিছানার পাশে বসে কাঁদছে।


“কী হয়েছে?”


মিতা চোখ মুছে বলেছিল, “আমি এখন বিয়ে করতে চাই না, মা।”


মা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলেছিলেন, “সবাই তো আর নিজের ইচ্ছামতো চলতে পারে না। তোর দিদির বিয়ের সময়ও কত সমস্যা হয়েছিল।”


বাইরে থেকে শিউলির গলা শোনা গেল, “কী হয়েছে আবার? ওর তো সবকিছুতেই মন খারাপ!”


মা আর কথা বাড়াননি। মিতাকে মুখ ধুয়ে বাইরে আসতে বলেছিলেন। সেদিন পাত্রপক্ষ চলে যাওয়ার পর বাড়ির সবাই শিউলির সংসারের গল্প নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। মিতার আপত্তির কথাটা আর কেউ তোলেনি।


কয়েক মাস পর মিতার বিয়ে হলো। সে শ্বশুরবাড়ি চলে গেলেও বাবার বাড়ির অনেক কাজ তার ওপরই থাকত। মা অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, বাবার রিপোর্ট দেখানো, ব্যাংকের কাগজপত্র বুঝে দেওয়া—এসব কাজে সবাই আগে মিতাকেই ফোন করত।


শিউলি ফোন করে বলত, “মিতা, তুই একটু দেখে দে না। আমি তো এসব বুঝি না।”


মিতা ছুটি নিয়ে চলে আসত। কাজ শেষ হলে আবার ফিরে যেত। কেউ কখনো জিজ্ঞেস করত না, তার নিজের সংসারে সব ঠিক আছে কি না।


একবার বাবার বাড়িতে এসে মিতা দুপুরের খাবার না খেয়েই নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করেছিল। শিউলি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে বলেছিল, “কী হয়েছে আবার?”


ভেতর থেকে কোনো উত্তর আসেনি।


শিউলি মাকে বলেছিল, “ওকে কিছু বললেই এমন করে। একটু পর ঠিক হয়ে যাবে।”


সেদিন মিতা সত্যিই কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এসেছিল। চোখ লাল ছিল। সে কারও দিকে না তাকিয়ে থালাবাসন ধুতে শুরু করেছিল।


বছর তিনেক পর বাবার ব্যবসায় বড় ক্ষতি হলো। পাওনাদারেরা প্রায়ই বাড়িতে আসত। বাবা বারান্দায় চুপচাপ বসে থাকতেন। কেউ দরজায় কড়া নাড়লেই তাঁর মুখটা কেমন শক্ত হয়ে যেত।


একদিন দুপুরে দুজন লোক এসে বাবাকে বলল, “আর কত দিন সময় লাগবে? আমাদেরও তো হিসাব আছে।”


বাবা কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেলেন। মিতা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলল, “আপনারা কাল আসেন। কাগজপত্র দেখে আপনাদের জানাব।”


লোক দুজন চলে গেলে বাবা আবার বারান্দার চেয়ারে বসে পড়লেন। শিউলি বাবার পাশে বসে কাঁদছিল। মা তাকে পানি খাওয়াচ্ছিলেন, সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন।


মিতা পাশের ঘরে বসে হিসাবের খাতা খুলেছিল। কার কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, কোন কাগজে কী লেখা আছে, একে একে সব দেখছিল। নিজের সঞ্চয় ভেঙে কিছু টাকা দিল। পরিচিত একজনের সঙ্গে কথা বলে বাকি মাল বিক্রির ব্যবস্থা করল। কয়েক সপ্তাহ ধরে দৌড়াদৌড়ি করে পাওনাদারদের সঙ্গে সময় চাইল।


এক রাতে অনেক দেরিতে বাড়ি ফিরেছিল সে। মা দরজা খুলে জিজ্ঞেস করলেন, “খেয়েছিস?”


মিতা বলল, “হ্যাঁ।”


আসলে দুপুরের পর কিছু খাওয়া হয়নি তার। রান্নাঘরে খাবার ঢাকা ছিল, কিন্তু খেতে বসার মতো শক্তি তার আর ছিল না।


পরদিন শিউলি মাকে বলছিল, “মিতা না থাকলে কী যে হতো!”


মা বলেছিলেন, “ও তো শক্ত মেয়ে। ওকে নিয়ে অত ভাবতে হয় না।”


কথাটা পাশের ঘর থেকে মিতা শুনেছিল।


ব্যবসার ঝামেলা কিছুটা মিটে যাওয়ার পর এক বিকেলে শিউলি মিতাকে ফোন করল। নিজের সংসারে সমস্যা হয়েছে, স্বামী তার সঙ্গে কথা বলছে না। ফোনের ওপাশে শিউলি কাঁদছিল।


মিতা অনেকক্ষণ চুপ করে শুনল। তারপর বলল, “তুই এখন কোথায়?”


“বাসায়।”


“একটু খেয়ে নে। তারপর কথা বলিস।”


শিউলি রেগে গেল। “আমি তোকে আমার কষ্টের কথা বলছি, আর তুই খাওয়ার কথা বলছিস?”


মিতা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “তুই কাঁদলে সবাই বুঝতে পারে তোর কষ্ট হয়েছে। আমি কাঁদলে সবাই ভাবে, আমি নাটক করছি।”


ওপাশে শিউলি থেমে গেল।


পরদিন সকালে শিউলি বাবার বাড়িতে গেল। মিতা তখন বারান্দায় বসে বাবার ওষুধের বাক্স গুছাচ্ছিল। শিউলি পাশে এসে বসে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “তোর কি খুব কষ্ট হয়?”


মিতা ওষুধের পাতাটা বাক্সে রেখে দিল।


“হয়।”


শিউলি ওষুধের বাক্সটা হাতে নিয়ে বলল, “এটা কোথায় রাখব?”

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 4 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1460 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29507। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5066
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সম্পত্তির হিসাবে আপনজন (উত্তরাধিকার ও পারিবারিক সম্পর্ক) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
12 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিমান ও অবহেলা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ০৩ জুন , ২০২৬ ভালোবাসার সঙ্গ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
254 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছয় পর্বের ছোটগল্প ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ প[...] বিস্তারিত পড়ুন...
59 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শোনা হয়নি যে কথা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ২৯ জুলাই, ২০২৬ অনেক শিশু কথা বলতে চ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
60 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 বাবাকে বলা হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ আদনান প্রতিদিন বাব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
116 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1903 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    10 মন্তব্য

    94 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    65 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...