Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

জুতাটা আর কেনা হয়নি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
5 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,685 পয়েন্ট)   11 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

জুতাটা আর কেনা হয়নিimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণমূলক লেখা | ২ অক্টোবর ২০২৬


রহিম সাহেব মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী একটা কথা বারবার বলছিলেন, “মানুষটা সংসারের জন্য অনেক করেছে। তখন বুঝিনি।”


কথাটা শুনে মনে হলো, আমাদের অনেক সংসারের গল্প হয়তো এমনই।


বেঁচে থাকতে একজন মানুষকে নিয়ে অভিযোগ থাকে, অভিমান থাকে, রাগ থাকে। তার আয় কম কেন, সময় কম কেন, এত দেরি করে বাড়ি ফেরে কেন, সন্তানকে আরও ভালো কিছু দিতে পারল না কেন—এসব নিয়ে কথা হয়। কিন্তু মানুষটা যখন আর থাকে না, তখন হিসাবটা যেন অন্যভাবে করা শুরু হয়।


তখন মনে পড়ে, মাসের শেষে তিনিই বাজারের টাকা গুছিয়েছেন। মেয়ের স্কুলের ফি দেওয়ার কথা তিনিই মনে রেখেছেন। বাবার ওষুধ শেষ হয়ে গেলে তিনিই কিনে এনেছেন। নিজের কোনো প্রয়োজন থাকলেও অনেক সময় সেটাকে পরে রেখেছেন।


জীবিত অবস্থায় এসব খুব একটা বড় ঘটনা মনে হয় না। কারণ কাজগুলো প্রতিদিনের।


সমস্যাটা সম্ভবত এখানেই।


কাছের মানুষের নিয়মিত দায়িত্বকে আমরা খুব সহজেই স্বাভাবিক বলে ধরে নিই। একজন স্বামী আয় করবেন, সংসারের খরচ দেবেন, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববেন—এটাই যেন নিয়ম। ঠিকমতো করতে পারলে সেটা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। কোনো মাসে আয় কমে গেলে, খরচ সামলাতে না পারলে, তখন সেই মানুষটির অক্ষমতাটাই সামনে চলে আসে।


অথচ আয়ের সঙ্গে শুধু টাকা আসে না। আসে দুশ্চিন্তাও।


চাকরিটা থাকবে তো? ব্যবসাটা এবার কেমন যাবে? মেয়ের কলেজে ভর্তি হলে খরচটা কোথা থেকে আসবে? হঠাৎ বাবা অসুস্থ হলে কী হবে? নিজের প্রয়োজনটা এবারও কি বাদ দিতে হবে?


এই প্রশ্নগুলোর অনেকটাই একজন পুরুষ কাউকে বলেন না। বলার অভ্যাস নেই। বাড়ি ফিরে মুখটা স্বাভাবিক রাখেন। স্ত্রী জিজ্ঞেস করলে বলেন, “কিছু না।” সন্তান কিছু চাইলে নিজের চিন্তাটা সরিয়ে রেখে বলেন, “ঠিক আছে, ব্যবস্থা হবে।”


সব স্বামী অবশ্য এমন নন। কেউ সংসারে অবহেলা করেন, কেউ স্ত্রীকে অসম্মান করেন, কেউ আবার নির্যাতনও করেন। সেখানে চুপ থাকা কোনো সমাধান নয়। অন্যায় হলে প্রতিবাদ করতেই হবে।


কিন্তু রহিম সাহেবের মতো একজন মানুষকে বুঝতে গেলে শুধু তার দেওয়া টাকার হিসাব করলে হয়তো পুরো মানুষটাকে দেখা যায় না।


তার স্ত্রীও তো সংসার সামলাতেন। সন্তানদের দেখতেন, ঘরের কাজ করতেন, স্বামীর অনুপস্থিতিতে অনেক কিছু একাই সামলাতেন। দুজনের কাজের জায়গা আলাদা ছিল, কিন্তু সংসারটা চলত দুজনের পরিশ্রমেই।


তবু তাদের ঝগড়া হতো।


কখনো টাকার জন্য। কখনো দেরি করে বাড়ি ফেরা নিয়ে। কখনো স্ত্রীর অভিযোগ ছিল, “তুমি সংসারের জন্য সময় দাও না।”


রহিম সাহেবও হয়তো মনে মনে ভাবতেন, “আমি কি তাহলে কিছুই করছি না?”


এসব কথা তখন বড় মনে হতো। এখন আর সেগুলোর উত্তর দেওয়ার কেউ নেই।


আরও কষ্টের বিষয় ছিল, রাগের সময় বলা কিছু কথা ঘরের বাইরেও চলে যেত। আত্মীয়দের সামনে স্বামীর আয় নিয়ে ঠাট্টা, পুরোনো ব্যর্থতার কথা মনে করিয়ে দেওয়া, সন্তানদের সামনে তাকে ছোট করা—এসব হয়তো মুহূর্তের রাগে বলা হয়েছিল।


রাগটা কেটে গিয়েছিল।


কথাগুলো থেকে গিয়েছিল।


তারপর একদিন রহিম সাহেব আর বাড়ি ফেরেননি।


শোকের কয়েকদিন পর তার স্ত্রী আলমারি গোছাতে গিয়ে একটা পুরোনো খাতা পেলেন। ভেতরে মাসের খরচের হিসাব। বাড়িভাড়া, বাজার, মেয়ের ফি, বাবার ওষুধ। এক পাশে ছোট করে লেখা—“এই মাসে নিজের জুতাটা পরে নেব।”


জুতাটা আর কেনা হয়নি।


খাতাটা হয়তো খুব সাধারণ একটা জিনিস। কিন্তু সেই পাতাগুলো দেখেই হয়তো বোঝা যায়, একজন মানুষ সংসারের জন্য কী কী সরিয়ে রেখেছিলেন, যার খবর অন্যরা সবসময় রাখেনি।


মৃত্যু কোনো মানুষকে ভালো বানিয়ে দেয় না। শুধু তার অনুপস্থিতিটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।


যে মানুষটাকে প্রতিদিন দেখা যেত, তার জায়গাটা হঠাৎ এমনভাবে খালি হয়ে যায় যে পুরোনো অভিযোগগুলোর অনেকটাই অর্থ হারিয়ে ফেলে।


তখন মনে হয়, মানুষটাকে নিয়ে এত কথা ছিল। অথচ মানুষটার সঙ্গে কথা বলার সময়টা কি আমরা ঠিকমতো ব্যবহার করেছি?


রহিম সাহেবের স্ত্রী হয়তো এখনো মাঝে মাঝে রাগ করেন। পুরোনো অভিমানও মনে পড়ে। মানুষ তো একরঙা নয়। ভালোবাসার সঙ্গে ক্ষোভও থাকতে পারে, কৃতজ্ঞতার সঙ্গে অভিযোগও থাকতে পারে।


শুধু একটা জিনিস আর বদলানো যাবে না।


যে কথাগুলো তখন বলা হয়নি, সেগুলো এখন আর তাকে শোনানো যাবে না।


রহিম সাহেবের স্ত্রী বলেছিলেন, “মানুষটা সংসারের জন্য অনেক করেছে। তখন বুঝিনি।”


মানুষটা তখন সামনে ছিল, অথচ আমরা তাকে পুরোপুরি দেখিনি।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1370 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27685। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4915
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ছবির হাসি আর জীবনের খুশি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
26 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ছবির হাসি আর জীবনের খুশি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
29 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 টাকা আর জীবন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ০৩,জুন ২০২৬ দোকানের সামনে ছেল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
251 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ঈদ আর বৈষম্য মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ২৮ মে, ২০২৬ ঈদের আগে শহরটা বদলে &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
250 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শিশুর কান্না আর রাষ্ট্রের নীরবতা  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ২৩ মে, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
456 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    81 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Md Nayeem sheikh

    2 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...