আলো-অন্ধকারের মাঝখানে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী । ২৫ মে, ২০২৬
আমরা আলোকে তাড়া করি, অন্ধকারকে তাড়াই। অথচ বাঁচি দুইটার মাঝখানে।
মানুষের জীবনে আলো যেমন প্রয়োজন, অন্ধকারও তেমনই জরুরি। আলো আমাদের শেখায় সামনে এগোতে, স্বপ্ন দেখতে, সৃষ্টি করতে। আর অন্ধকার শেখায় থামতে, নিজের ভেতরে ফিরে তাকাতে, আবার নতুন করে শুরু করতে।
প্রকৃতির দিকেই তাকানো যাক। দিন আর রাত একে অপরের বিপরীত, কিন্তু শত্রু নয়। বরং একজন আরেকজনকে পূর্ণতা দেয়। শুধু আলো থাকলে পৃথিবী ক্লান্ত হয়ে পড়ত, আর শুধু অন্ধকার হলে থেমে যেত জীবনের গতি। প্রকৃতির বিশাল ক্যানভাসে তারা পাশাপাশি থেকে এক ধরনের গভীর ভারসাম্য তৈরি করে।
আমাদের জীবনও ঠিক তেমন। কখনো আমরা আনন্দ, স্বপ্ন আর সাফল্যের আলোয় ভেসে উঠি। আবার কখনো ব্যর্থতা, হতাশা কিংবা নিঃসঙ্গতার অন্ধকারে হারিয়ে যাই। কিন্তু জীবনের সৌন্দর্য এখানেই—কোনোটাই স্থায়ী নয়। আলো বদলায়, অন্ধকারও বদলায়। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই মানুষ ধীরে ধীরে পরিণত হয়।
অতিরিক্ত আলোও সবসময় আশীর্বাদ হয়ে আসে না। সবসময় ভালো থাকার অভিনয়, অবিরাম দৌড়, নিজেকে ক্রমাগত প্রমাণ করার চাপ—এসব মানুষকে ভেতর থেকে নিঃশেষ করে দেয়। এই সময়ের সবচেয়ে ক্লান্ত মানুষগুলো হয়তো তারাই, যারা সবসময় উজ্জ্বল থাকার চেষ্টা করে গেছে।
অন্ধকারেরও নিজস্ব প্রয়োজন আছে। রাতের আকাশে নক্ষত্র দেখা যায় শুধু অন্ধকারেই। প্রকৃতি গভীর রাতে নিজেকে পুনর্গঠন করে। মানুষও অনেক সময় তার সবচেয়ে সত্য উপলব্ধিগুলো খুঁজে পায় নীরব, অন্ধকার মুহূর্তগুলোতে।
প্রাচীন দর্শন, আধ্যাত্মিকতা এবং সাহিত্যে বারবার আলো ও অন্ধকারের এই সহাবস্থানের কথা এসেছে। কারণ মানুষ বহু আগেই বুঝেছিল—জীবন শুধু উজ্জ্বলতার নাম নয়, বিরতি ও নীরবতারও নাম।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, অন্ধকারের মধ্যেই নক্ষত্র জ্বলে ওঠে। এই কথাটি মানুষের জীবনেও সত্য। অনেক কঠিন সময়ই আমাদের নতুনভাবে শক্ত হতে শেখায়। কখনো কখনো সবচেয়ে গভীর অন্ধকারই মানুষকে নিজের আলো চিনতে সাহায্য করে।
জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য এখানেই—আলোকে জড়িয়ে ধরা, আর অন্ধকারের হাত ধরেও হাঁটতে শেখা।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।