হোপলেস এন্ড → এন্ডলেস হোপ
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ছোটগল্প ⋄ ১৬ নভেম্বর, ২০২৫
সকালে চায়ের কাপ হাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে। ঢাকার রাস্তায় ট্রাফিক, ধুলো, হর্ন—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে জীবনটা একটা অন্ধকার গলি।
কাল রাতে আমার একটা প্রজেক্ট ফেইল। ক্লায়েন্ট সোজা বলে দিয়েছে, “আর চান্স নেই।” ভেতরটা ভারী।
হঠাৎ মনে পড়ল নেলসন ম্যান্ডেলার কথা। ২৭ বছর জেল। রবেন আইল্যান্ড। পাথর ভাঙা, একা ঘর—আলো-হাওয়া কিছু নেই।
এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছিল, “কীভাবে টিকলেন?”
ম্যান্ডেলা হেসে বলেছিলেন, “ওরা শরীর আটকে রেখেছিল, কিন্তু মন? আমার মন তো রোজ দক্ষিণ আফ্রিকার পাহাড়-নদী-গ্রাম ঘুরে বেড়াত।”
এই কথাটা শুনে আমার ভেতরটা হালকা লাগল।
দরজা বন্ধ হলে কী হবে?
জানালা তো খোলা আছে।
আমরাই চোখ বন্ধ করে থাকি। আমার জীবনেও অনেক “Hopeless End” এসেছে।
২০১৯-তে চাকরি গেল, বাবা মারাগেলেন, ব্যাংক ফাঁকা। মনে হয়েছিল, সব শেষ।
তখন মাথায় এল— Hopeless End-এর অক্ষর উল্টে দে।
দাঁড়াবে Endless Hope।
এই ছোট্ট খেলাটাই জীবন বদলে দেয়। অন্ধকারে আলো লুকিয়ে থাকে। ব্যর্থতায় শিক্ষা। থামায় নতুন শুরু।
আজ থেকে আমি আবার শুরু করছি।
ছোট স্টেপ— পুরোনো ফাইল খুলে নতুন আইডিয়া লিখলাম।
কাল ক্লায়েন্টকে মেইল করব। “না” বললেও থামব না।
তালা থাকলে চাবি থাকে খুঁজতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে। চাবি পেলে দরজা খুলবেই।
ল অব অ্যাট্রাকশন?
ম্যাজিক না।
চারটা জিনিস:
১. কেমন লাগছে? – দুঃখ পেলে দুঃখ আসবে।
২. কী ভাবছো? – “পারব না” ভাবলে পারবে না।
৩. কী বিশ্বাস করো? – “পারব” বিশ্বাস করলে রাস্তা খুলবে।
৪. কী করছো? – ভাবলেই হয় না, করতে হবে।
তুমি যদি আটকে থাকো—আজ একটা ছোট কাজ করো। ফোন দাও। লেখো। হাঁটো।
বাংলাদেশ ক্রিকেটও বুঝে গেছে— জিততে ব্যাট-বলের সাথে মনের জোর লাগে। ২০৩৫-এ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেললে বলব—
“হার মানিনি, হার থেকে শিখেছি।”
প্রশ্ন তোমার কাছে— তুমি কি “Hopeless End” বলে বসে আছো?
নাকি “Endless Hope” লিখে উঠবে?
আমি উঠে দাঁড়িয়েছি। তুমিও এসো।
চলো, একসাথে এগোই।
#EndlessHope #আজথেকেশুরু #জীবনবদলাও #মনেরজোর #বাংলারস্বপ্ন #NeverStop #আমরাওপারব #MentalToughness
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।