ঘামের চুম্বন
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
লেখার ধরন: বিশ্লেষণধর্মী
তারিখ: ৪ নভেম্বর ২০২৫
“তুমি যদি দৃশ্যমান মানুষকেই ভালোবাসতে না পারো, তবে অদৃশ্য ঈশ্বরকে কী করে ভালোবাসবে?” — মাদার তেরেসা।
আমার কানে এটা আজও বাজে, যেন কেউ বুকের ভিতরে একটা ছোট্ট ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে।
আমি এই কথাটা প্রথম শুনি একটা ভাঙা বাসে।
চট্টগ্রাম যাচ্ছি, রাতের পথ। পাশে বসা একজন বুড়ো, তার হাতে একটা মলিন বই।
তিনি পড়ছিলেন। আমি উঁকি মারলাম।
জিজ্ঞেস করলাম, “কী বই?”
হাসলেন। বললেন, “মাদারের কথা।”
তারপর এই লাইনটা ধীরে ধীরে পড়ে শোনালেন।
আমার গলা শুকিয়ে গেল।
কারণ আমি তখনো আমার বাবাকে ফোন করিনি।
তিনি হাসপাতালে। আমি বলেছি, “পরে কল করব।”
আমি মিথ্যে বলেছি।
রিকশাওয়ালার পায়ে আমার বাবার রক্তঃ
পরদিন সকাল। মিরপুর। একটা রিকশা উল্টে গেল।
লোকজন ঘিরে দাঁড়াল। কেউ ছোঁয় না।
আমি দাঁড়িয়ে রইলাম, হাত কাঁপছে।
মনে হলো, এটা আমার বাবার পা।
রক্ত বেরোচ্ছে, আমি নেমে গেলাম।
তার পায়ে হাত রাখলাম।
তিনি চোখ তুলে তাকালেন।
বললেন, “বাবু, ধন্যবাদ।”
আমার চোখ ভিজে গেল প্রথমবার।
বুড়িগঙ্গার পানিতে আমার মুখঃ
সেই রাতে বুড়িগঙ্গার ধারে গেলাম।
জল কালো। চাঁদ নেই।
আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম—
আমি কি সত্যিই আল্লাহকে ভালোবাসি?
নাকি শুধু মসজিদে দাঁড়াই?
নাকি শুধু রমজানে কাঁদি?
পকেটে একটা কাগজ।
তাতে লেখা—
“যাকে তুমি দেখো না, সে তোমার আল্লাহ।”
আমি সেটা জলে ছেড়ে দিলাম।
জলটা কালো। কিন্তু আমার বুকটা হালকা।
ঈদের দিন, রহিমের হাসিঃ
ঈদ এল। নতুন পাঞ্জাবি,মসজিদ, নামাজ।
বাড়ি ফিরছি।
রাস্তায় একটা ছেলে। হাতে প্লাস্টিকের ব্যাগ।
কয়েকটা টাকা।
বলল, “চাচা, একটা?”
আমি থামলাম।
পঞ্চাশ টাকা দিলাম, তার গালে হাত রাখলাম।
জিজ্ঞেস করলাম, “নাম?”
হাসল। “রহিম।”
আমি বললাম, “রহিম, তুমি আমার ভাই।”
সেই হাসিতে আমি বুঝলাম—ভালোবাসা একটা নাম। একটা হাত। একটা হাসি।
মায়ের কপালে প্রথম চুম্বনঃ
বাড়ি ফিরে মাকে জড়ালাম। তিনি অবাক।
“কী হয়েছে?”
“কিছু না। ভালোবাসি।”
কপালে চুমু খেলাম প্রথমবার।
তিনি কাঁদলেন, আমিও।
জ্যামে এক বোতল পানিঃ
পরদিন। ট্রাফিক। পাশে রিকশা।
ঘামে ভিজে গেছে লোকটা।
জানালা খুললাম।
পানির বোতল দিলাম।
হাসলেন।
“আল্লাহ ভালো রাখুক।”
আমি বললাম, “আপনিও।”
সেই মুহূর্তে আল্লাহ দৃশ্যমান হলেন।
ঘামে,হাসিতে, পানিতে।
বর্ষায় একটা ছাতাঃ
বর্ষা নামল।ছাতা মাথায়। একটা শিশু ভিজছে।
ছাতা তার মাথায় দিলাম।
নিজে ভিজলাম।
সে হাসল, আমার বুক ভরে গেল।
আজ রাতে, তোমার হাতঃ
তুমি এখন পড়ছ।
চোখ ভিজে গেছে?
বুক ভারী?
এই ভারই তোমার পথ।
আজ রাতে, যাকে কষ্ট দিয়েছ, যাও তার কাছে-
হাত ধরো, বলো, “দুঃখিত।”
বলো, “ভালোবাসি।”
এটাই নামাজ।
এটাই প্রার্থনা।
এটাই আল্লাহ।
যেন তোমার ঘাম তার ঘামে মিশে।
যেন তোমার অশ্রু তার অশ্রুতে মিলে।
যেন তোমার হৃদয় তার হৃদয়ে বাজে।
শুধু ধরো।
একটা হাত।
একটা মুহূর্ত।
একটা চুম্বন।
#ঘামের_চুম্বন #হাতের_আলো #অশ্রুর_প্রার্থনা #রহিমের_হাসি #মায়ের_কপাল #বৃষ্টির_ভালোবাসা #আল্লাহর_হাত #enolej_idea
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।