হাসির আড়ালে যে একা রাত জেগে থাকে
মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী। ০৫ ডিসেম্বর,২০২৫
আজকের তরুণরা সত্যিই এত একা কেন?
বাইরে থেকে দেখলে তো মনে হয়, তারা সবচেয়ে সচ্ছল প্রজন্ম। হাতে স্মার্টফোন, কানে হেডফোন, চারপাশে বন্ধুবান্ধবের ভিড়, ইনস্টাগ্রামে লাইকের বন্যা। কিন্তু রাত বারোটা বাজলেই সেই চকচকে পর্দা নিভে যায়। ঘর অন্ধকার। আর তখনই শুরু হয় আসল কথা—নিজের সঙ্গে নিজের। যে কথাগুলো কেউ শোনে না। যে কান্নাগুলো কেউ দেখে না।
আমরা বলি,
“আরে, এত সুযোগ-সুবিধে পেয়েও অভিযোগ?”
কিন্তু সুযোগ আর সুখ তো এক জিনিস নয়।
সকালে উঠে প্রথম কাজ—চেক করা কতজন ‘সিন’ করেছে। কতজন রিপ্লাই দিয়েছে। না দিলে মনে হয়, আমি কি অদৃশ্য হয়ে গেছি?
ক্লাসে বসে আছি, কিন্তু মনে হচ্ছে কেউ দেখছে না। বন্ধুর সঙ্গে গল্প করছি, কিন্তু মনে হচ্ছে শুধু শব্দ বেরোচ্ছে, মনটা কোথাও পৌঁছাচ্ছে না।
বাড়িতে ফিরলে বাবা-মা জিজ্ঞেস করেন, “পড়াশোনা কেমন চলছে?” তারপর নিজেরাই উত্তর দিয়ে দেন, “চাপ তো থাকবেই, এখনকার সময় এমন।” আর আমরা হাসি। কারণ বলতে গেলে বোঝানো যাবে না যে, চাপটা শুধু পড়াশোনার নয়—চাপটা বেঁচে থাকার।
আমরা যে একা, সেটা আমরা নিজেরাও স্বীকার করি না। কারণ একা বললে লোকে হাসবে। বলবে, “এত বন্ধু থাকতে একা?” কিন্তু বন্ধু থাকা আর সঙ্গে থাকা এক জিনিস নয়।
অনেকের সঙ্গে থেকেও যখন নিজের দুঃখটা বলা যায় না, তখন সেই ভিড়টাই সবচেয়ে বড় একাকীত্ব।
আমাদের বয়সে ভালোবাসা মানে লাইক আর কমেন্ট। কেউ একটা হার্ট ইমোজি দিলে মনে হয়, আজ বুঝি বেঁচে থাকার মানে পাওয়া গেছে। কেউ না দিলে মনে হয়, আমার কোনো মূল্যই নেই।
আমরা নিজেদের মূল্য ঠিক করি অন্যের আঙুলের ডগায়। আর সেই আঙুল যদি একদিন না ওঠে, তাহলে পুরো দুনিয়াটাই মনে হয় খালি।
আমরা কাঁদি না। কাঁদতে ভয় পাই। কারণ কাঁদলে লোকে বলবে, “এত ছোট বিষয়ে?” তাই আমরা হাসি। বেশি হাসি। হাসতে হাসতে গলাটা শুকিয়ে যায়। কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করলে বলি, “আরে, আমি তো একদম ঠিক আছি।”
আমরা ঠিক নেই। আমরা শুধু বলতে পারি না।
তাই আজ একটা অনুরোধ—
যদি তোমার কোনো তরুণ বন্ধু, ভাই, বোন, ছেলে-মেয়ে থাকে, তাহলে একবার শুধু জিজ্ঞেস করো, “সত্যি সত্যি কেমন আছিস?”
আর শোনো। ফোনটা পকেটে রেখে, চোখে চোখ রেখে শোনো।
হয়তো প্রথমে বলবে, “ভালো আছি।”
তুমি আবার জিজ্ঞেস করো।
তৃতীয়বারে হয়তো চোখের কোণটা ভিজে যাবে।
সেই ভিজে চোখটাই আসল কথা বলবে।
একটা মানুষকে শোনার জন্য যদি দশ মিনিট সময় দাও,
সে হয়তো বেঁচে থাকার জন্য দশটা বছর পেয়ে যায়।
#একা_নই_আমরা
#শুনলে_বদলে_যায়
#তরুণের_মন
#আজকের_একাকীত্ব
#শুধু_শুনে_দেখো
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।