Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পুরুষের যুদ্ধটা একার

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
506 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,290 পয়েন্ট)   17 ফেব্রুয়ারি "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

পুরুষের যুদ্ধটা একার

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

লেখক ও সাহিত্য গবেষক | 

বিশ্লেষণধর্মী কলাম।ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬


রাত সাড়ে দশটা। বাইরে বৃষ্টি—টিনে টুপটাপ, করিডোরে কাঁচা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ। জরুরি বিভাগের দেয়ালে পলেস্তারা উঠে গেছে; এক কোণায় কালি দিয়ে কেউ লিখে গেছে, “২০১৯—এখনও বেঁচে আছি।”


পাশের বেঞ্চে এক বৃদ্ধ কাশছিলেন। মনে হচ্ছিল কাশি নয়—ভেতর থেকে কিছু একটা ভেঙে যাচ্ছে।


আমার সামনে মাঝবয়সী এক লোক। অফিস যাওয়া শার্ট, কলারে ভাঁজ। হাতে প্রেসক্রিপশন। ডাক্তারের লেখা পড়া যায় না, কিন্তু টাকার অঙ্কটা স্পষ্ট—তিন হাজার… না, তারও বেশি।


তিনি পকেটে হাত ঢোকান। বের করেন। আবার ঢোকান। একই তিনটা নোট। আঙুলে নোটের কোণা মোচড়াচ্ছে।


আমি তাকিয়ে ছিলাম। কিছু বলিনি। পারিনি।


আমার বাবাকে দেখেছি এমন। জ্বর নিয়ে ফ্যাক্টরিতে যেতেন। বলতেন, “ছুটি নিলে কাটছাপ।” আমরা জানতাম না। মা জানতেন না। পরে যখন ফুসফুসে সমস্যা ধরা পড়ে, ডাক্তার বলেছিলেন—আগে এলে হতো।


আগে আসেননি। কারণ আসা মানে স্বীকার করা।

স্বীকার করা মানে ভরসা ভাঙা।


আমার বন্ধু সোহেল—বুকে ব্যথা হচ্ছিল। স্ত্রীকে বলেছে, “গ্যাস।” রিপোর্টে অ্যাঞ্জাইনা ধরা পড়েছে। এখনও পুরো সত্যি বলেনি।


আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, “কেন?”


সে বলেছিল, “ওরা ভয় পাবে।”


আমি ভাবি—কার ভয়? তাদের, না নিজের?


অসুস্থতা নিজেই যুদ্ধ। দারিদ্র্য সেটাকে দ্বিগুণ কঠিন করে।


বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখরচের বড় অংশ মানুষকে নিজের পকেট থেকে দিতে হয়—অনেক ক্ষেত্রে ৬০–৭০ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে অসুস্থ হওয়া মানে শুধু রোগ না, ঋণও।


রিকশাচালক আবুল খায়েরকে চিনি। একদিন দেখি পা টেনে চালাচ্ছে। বলে, “বয়স হইছে।” পরে জানলাম হাড়ে ফাটল। চালায়, কারণ বউ অসুস্থ, ছেলের ওষুধ লাগে।


গার্মেন্টসে কাজ করা এক আত্মীয় জ্বর নিয়ে মেশিন চালায়। ছুটি মানে বেতন কাটা। বেতন কাটা মানে স্কুল ফি বন্ধ।


এই মানুষগুলো একা নয়। পরিবার আছে। কিন্তু তারা বলতে পারে না। কারণ বলা মানে অক্ষমতা স্বীকার করা—আর অক্ষমতা যেন পুরুষ পরিচয়ের বাইরে কিছু।


“ছেলেরা কাঁদে না”: বিপজ্জনক শিক্ষা

ছোটবেলা থেকে শুনেছি—“ছেলেরা কাঁদে না।”

এই কথাটা শুধু বাক্য না, মানসিক কাঠামো।


ফলে একজন পুরুষ শিখে—কষ্ট লুকাতে,

ভয় চেপে রাখতে, সাহায্য না চাইতে।


অসুস্থ হলে সে হাসপাতালে বসেও হিসাব করে—বাসা ভাড়া, সন্তানের ফি, বাবার ওষুধ। সে কাঁদে না। ভাবছে, কাঁদলে সব থেমে যাবে।


অথচ না কাঁদলেও কিছু থেমে যায়—নিজের ভেতরে।


পরিবার কি সত্যিই পাশে থাকে না?

আমরা বলি—পুরুষ একা লড়াই করে।

কিন্তু সে কি কাউকে জানায়?


অনেক পুরুষ রিপোর্ট লুকায়। ব্যথা লুকায়। জ্বর লুকায়। কারণ তারা ভয় পায়—পরিবার চিন্তায় পড়বে, নিজের সম্মান কমবে।


এই নীরব অহংকার কখনো মহৎ, কিন্তু প্রায়ই বিপজ্জনক।


মানুষ একা বাঁচার জন্য তৈরি হয়নি। সমাধান আবেগে নয়, কাঠামোয়।


এই সমস্যার সমাধান শুধু সহানুভূতি দিয়ে হবে না। বাস্তব কৌশল দরকার।


প্রতি মাসে অল্প সঞ্চয়। ১০০ টাকা হলেও।


সীমিত হলেও স্বাস্থ্যবীমা আছে—জানতে হবে, ভাবতে হবে।


একজন বন্ধু, একজন সহকর্মী—যার কাছে বলা যায়, “আমার ভয় লাগছে।”


“আমি ঠিক আছি”—এই বাক্যটা অনেক সময় মিথ্যা। পরিবারকে শুনতে শিখতে হবে।


সেই রাতে হাসপাতালের মাঝবয়সী লোকটা উঠে দাঁড়ালেন। আমি দেখলাম তিনি ফার্মেসির দিকে গেলেন না। সোজা বেরিয়ে গেলেন।


হয়তো কাল আসবেন। হয়তো আসবেন না।


আমি তার নাম জানি না। কিন্তু তাকে চিনি। আমার বাবাকে চিনি। আবুল খায়েরকে চিনি। নিজেকেও চিনি।


পুরুষের যুদ্ধ একা নয়। আমরা তাকে একা হতে শিখিয়েছি।


এখন শেখাতে হবে—বলতে। শুনতে।

কাঁদতে।


কারণ কাঁদা মানে ভাঙা নয়। মানুষ হওয়া।


#পুরুষের_যুদ্ধ #মানসিক_স্বাস্থ্য #সমাজচিন্তা #বাংলাদেশ #নীরব_যুদ্ধ #পরিবার #জীবনযুদ্ধimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1252 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25290। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3462
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
পুরুষের অদৃশ্য জীবন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। জানুয়ারি ০৬, ২০২৬ আপনি &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
457 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

দেবী -কারো একার হয় না -কাব্যপ্রহরী মন মন্দিরে বসিয়ে পূঁজো দিয়েছি যার পায়, বেলা শ্যাষে দেখি সে দেবী আমার একার নয়। দেবী - সে তো সবার  নয় কোনো দোষী, পায়ে পড়েছে পুজারীর ফুল সেও হয়েছে খুশি!  কনকনে �[...] বিস্তারিত পড়ুন...
112 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–৪ : সব দোষ কি শুধু পুরুষের?   একটি ধারাবাহিক গল্প   লে&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

পর্ব ২ *গল্প: ভ্যাকসিনের দিন* ঈদের 10 দিন পর। রিফাতের ছেলে আদি জ্বর নিয়ে কাঁদছে। ডাক্তার বলেছে MMR ভ্যাকসিন দেয়া লাগবে, 1200 টাকা। "কালকের মধ্যেই দিতে হবে" - ডাক্তার বলে দিছে। রিফাত পকেট হাতায়। ঈদের �[...] বিস্তারিত পড়ুন...
54 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

পর্ব ১ রবিবার। ঈদের 3 দিন বাকি। রিফাত মার্কেটে ঢুকল নিজের জন্য পাঞ্জাবি কিনবে বলে। 2 &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
52 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1456 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    72 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Mayabi Ilmaz Megh

    81 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...