Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বৃদ্ধ বাবা-মায়ের একাকীত্ব

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
427 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,411 পয়েন্ট)   24 ফেব্রুয়ারি "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
বৃদ্ধ বাবা-মায়ের একাকীত্ব

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী কলাম | ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

আমার বাবার চশমাটা ভাঙা। ডান দিকের কাঁচটা ফাটল ধরেছে, তিনি সেলোটেপ লাগিয়ে চালাচ্ছেন। আমি বলেছিলাম, "নতুন কিনে দিই?" 

উনি হেসেছেন—সেই হাসি যেটা আর এত আসে না। বলেছেন, "এতদিনের সঙ্গী, ছেড়ে দেব কেমন করে?"

আমি কিছু বুঝিনি তখন। এখন বুঝি।

সেই সঙ্গীটাই আমি নই। গত ছয় মাসে তিনবার দেখেছি উনি সকালে ঘুম থেকে উঠে ছাদে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন। কী দেখেন সেখানে? 

আমি ভেবেছিলাম, হয়তো রাস্তা দেখছেন। না, তা নয়। দেখছেন স্কুলগামী বাবা-মায়েদের। যারা ছোট ছোট হাত ধরে হাঁটে। যারা ছেলেমেয়েদের কাঁধে হাত রাখে, যখন রাস্তা পার হয়।

একদিন আমি চুপচাপ উনার পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। বাবা টের পাননি। পাঁচ মিনিট পর যখন ঘুরলেন, চমকে উঠলেন। চোখে কিছু একটা ছিল—জল নাকি ঘাম, বলতে পারি না।

বলেছেন, "তোর ছোটবেলার কথা মনে পড়ছিল। তুই যখন এত ছোট ছিলি..."

আমি বাধা দিয়েছিলাম। মিটিং ছিল, তাড়া ছিল। বলেছিলাম, "বাবা, পরে কথা বলি।"

এখনো সেই "পরে" আসেনি।

শহরের ফ্ল্যাটগুলোতে একটা নীরব অভ্যাস তৈরি হয়েছে। সকালে মা উঠেন, নিজের জন্য চা বানান—একটা কাপ, শুধু তার জন্য। বাবা উঠেন, ছাদে চলে যান। দুপুরে খান একসাথে, কিন্তু টিভি চলতে থাকে। কোনো সিরিয়াল নয়, সংবাদ চ্যানেল। কারণ কথা বলার মতো কিছু আর নেই। বা থাকলেও বলার সাহস নেই।

মা ফোন ধরার আগে দুবার নিঃশ্বাস নেন। প্রথমবার ভাবেন, আজ কী বলবেন যা আমার কাজে বাধা দেবে না। দ্বিতীয়বার ভাবেন, কতক্ষণ বলবেন—যাতে আমার ফোনের ব্যাটারি খরচ না হয়, বা আমি বিরক্ত না হই।

আমি কখনো এটা বুঝিনি। এখন বুঝছি।

গত বছর ঈদে বাড়ি গিয়েছিলাম। তিন দিনের জন্য। মা রাতে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "তোর বন্ধু রফিক এখন কী করে?"

আমি বিরক্ত হয়েছিলাম। রফিকের কথা কেন? রফিক তো বিশ বছর আগের বন্ধু। কলেজ ছাড়ার পর দেখা হয়নি। আমি বলেছিলাম, "জানি না, মা। ঘুমাও না, কাল অফিস আছে।"

মা চুপ করে গেছেন। আমি শুয়ে পড়েছি। ফোনে কাজের ইমেইল দেখেছি। পরদিন সকালে দেখি, মা আমার পুরোনো অ্যালবাম ঘেঁটে রফিকের ছবি বের করেছেন। ছবিটা টেবিলে রাখা আছে।

আমি জিজ্ঞেস করিনি কেন। মা বলেননি কেন খুঁজেছেন। আমরা দুজনে শুধু দেখেছি সেই ছবি। রফিক হাসছে, আমি হাসছি, আমাদের বয়স ছিল বিশ।

সেই "কেন"-টা এখনো আমার মনে আছে। অপরাধের মতো।

আমার এক বন্ধু আছে—ফারহান। সে প্রতিদিন রাত দশটায় দশ মিনিট হাঁটে। জিমে নয়, বাড়ির গলিতে। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম কেন।

বলেছে, "আমার বাবা ফোনে বলেছিলেন, পায়ে ব্যথা করে, আর হাঁটতে পারি না। এখন আমি রোজ দশ মিনিট হাঁটি। যাতে বাবাকে বলতে পারি, আমিও হাঁটলাম আজ।"

আমি একবার করেছিলাম এটা। বাবাকে ফোন করেছিলাম, বলেছিলাম হাঁটলাম। দুই মিনিট পর আমার ম্যানেজার মেসেজ করেছেন। জরুরি কাজ। আমি ফোন রেখে দিয়েছিলাম।

মাকে বলেছিলাম পরে, "বাবার সাথে দুই মিনিট কথা বলেছিলাম।" মা হেসেছেন। বলেছেন, "ব্যস্ত মানুষ, কী করবি?" কিন্তু চোখ নামিয়ে নিয়েছেন। আমি দেখেছিলাম তখন। এখন বুঝি, সেটা কী ছিল।

আমার বাবার ডাক্তার বলেছেন, উনি রাতে ঘুমান না। ঘুমের ওষুধ খান, কিন্তু তিনটার আগে চোখ বন্ধ হয় না। ডাক্তার জানেন না কেন। আমি জানি—বা জানার চেষ্টা করছি।

রাত হলে ঘরে শুধু দুজন থাকে। কথা বলার মানুষ নেই—মা ঘুমিয়ে আছেন। টিভি দেখা যায় না—সবাই ঘুমিয়েছে। অন্ধকারে শুধু শ্বাসপ্রশ্বাস থাকে। আর স্মৃতি।

আমার মায়ের হাত কাঁপে। চা'র কাপ ধরতে গেলে দেখা যায়। উনি বলেন, "বয়স হয়েছে।" ডাক্তার বলেছেন, শারীরিক কোনো সমস্যা নেই। মানসিক চাপ থাকলে এটা বাড়ে।

আমি জানি, কখন বাড়ে। যখন ফোনের পর্দায় আমার নাম দেখেন, কিন্তু আমি ধরি না। যখন আমার ভয়েস মেইলে আমার ব্যস্ততার ওজর শুনেন। তখন।

আমাদের প্রজন্ম শিখেছে—বাবা-মাকে ভালোবাসা মানে টাকা পাঠানো, ওষুধ কেনা, মাসে একবার ভিডিও কল করা। 

কিন্তু হাত ধরা? 

গল্প শোনা? 

"পরে বলো" না বলে এখনই শোনা? 

এটা আমাদের শেখানো হয়নি।

আমার মেয়েরা দেখছে, আমি তার দাদুর সাথে কীভাবে কথা বলি। দেখছে, আমি কীভাবে ফোন কেটে দিই। শিখছে। কাল সে আমার সাথেও এমন করবে। এটা নিশ্চিত। কারণ আমরা শিখি দেখে দেখে।

আজ রাতে ফোন দেব। না, আজ নয়—এই মুহূর্তে।

বাবার চশমার কথা জিজ্ঞেস করব। মায়ের হাত কেন কাঁপে। রফিকের ছবি কেন খুঁজেছিলেন। আমি শুনব। শুধু শুনব। কারণ তারা আমার বাবা-মা নন শুধু, তারা আমার সাক্ষী। যারা দেখেছেন আমি কীভাবে হাঁটতে শিখেছি। কীভাবে পড়তে শিখেছি। কীভাবে একা হয়ে গেছি।

আমার সব অর্জন—এই ফ্ল্যাট, এই গাড়ি, এই পদবি—এর কোনো মানে নেই যদি তারা একা থাকেন। কারণ বিজয়ের অর্থ হলো, যারা দেখেছেন তোমার শুরু, তারা থাকবে তোমার শেষে।

আজ রাতে ফোন দেব। আসলেই দেব।

#বৃদ্ধবাবামা #পরিবার #মানবিকতা #সমাজ #সচেতনতা
আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1258 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25411। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3489
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বাবা-মায়ের সঙ্গে দূরত্ব মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ৩০ জুন, ২০২৬ "বাবা-&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
31 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
প্রত্যাশার সীমা: বাবা-মায়ের আর সন্তানের চোখে মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
459 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বয়স বাড়ার সঙ্গে একাকীত্ব মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী। জানুয়ারি ১৩, ২ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
93 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি অবহেলার মূল কারণ : মানসিকতার সংকট মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
483 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ফুটপাতের শৈশব পর্ব ৪ — যে শিশুটি জানে না তার বাবা-মা কোথায় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
9 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1577 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    78 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    743 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...