Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নীরব সাক্ষী

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (19,607 পয়েন্ট)   3 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

নীরব সাক্ষী image  

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প। ৫ জুন, ২০২৬


আমি একটা গাছ। এখন আমার ছায় মানুষ বসে। দুপুরে রোদ চড়া হলে কেউ একটু জিরিয়ে নেয়। পাখিরা আসে, ডালে বসে আবার উড়ে যায়। পাশের বাড়ির বাচ্চাগুলোও মাঝে খেলতে খেলতে এসে গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। আমাকে দেখে মনে হতে পারে, আমি বুঝি সবসময় এখানেই ছিলাম। কিন্তু শুরুটা এমন ছিল না।


একসময় আমি একটা বীজ ছিলাম। কোথা থেকে এসেছিলাম, মনে নেই। এসব মনে রাখার উপায়ও নেই। শুধু এটুকু জানি, একদিন মাটির নিচে ছিলাম, আর একদিন মাথার ওপর আলো দেখলাম। তার আগে অনেকদিন শুধু অন্ধকার। উপরে কী হচ্ছে দেখা যেত না। তবে শব্দ পাওয়া যেত। বৃষ্টি পড়ার শব্দ। মানুষের হাঁটার শব্দ। কখনও মাটির ভেতর কিছু একটা নড়ে উঠত। এক বছর, না হয়তো তারও বেশি—সময়টা ঠিক বলতে পারব না।


তারপর একদিন বৃষ্টি হলো। সেই বৃষ্টির পর মাটি নরম হয়ে গেল। আমি ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে শুরু করলাম। খুব সহজ ছিল না। মাটির চাপ ছিল। তবু উঠলাম। প্রথম আলোটা আজও মনে আছে। ঠিক কী রকম ছিল, সেটা ভাষায় বলা মুশকিল। ছোট ছিলাম তখন। এতটাই ছোট যে একটা ছাগল এসে কয়েকটা পাতা খেয়ে ফেললে মনে হতো, আর বুঝি কিছু বাকি রইল না। ছেলেপেলেরা দৌড়াতে গিয়ে গায়ে পা দিয়েছে কতবার। কেউ খেয়ালও করেনি। গরমের দিনে মাটি ফেটে যেত। আবার বর্ষায় এমন বাতাস উঠত যে সারারাত কাঁপতাম। তবু রয়ে গেলাম। সম্ভবত শিকড়গুলো তখন মাটির আরও গভীরে চলে গিয়েছিল।


এরপর ধীরে ধীরে বড় হলাম। কখন যে একটা শালিক এসে ডালে বাসা বানাল, খেয়ালই করিনি। পরে দেখি, শুধু সে না—আরও কত পাখি আসছে। ভোর হলে চারপাশে এত ডাকাডাকি শুরু হতো যে ঘুমানোর সুযোগ থাকলেও ঘুমানো যেত না। অবশ্য গাছের আবার ঘুম কিসের? আমার নিচ দিয়ে কত মানুষ গেছে, তার হিসাব নেই। কেউ তাড়াহুড়ো করে গেছে। কেউ গল্প করতে করতে। কেউ আবার এমন মুখ করে হেঁটেছে, যেন পৃথিবীর সব চিন্তা তার কাঁধে।


একজন বৃদ্ধ মানুষকে মনে আছে। প্রায় রোজ বিকেলে আসতেন। হাতে একটা লাঠি থাকত। এসে কিছুক্ষণ বসে থাকতেন। খুব বেশি নড়াচড়া করতেন না। তারপর একদিন আর এলেন না। প্রথম কয়েকদিন খেয়াল করিনি। পরে মনে হলো, লোকটাকে অনেকদিন দেখা যাচ্ছে না। তারপর আর কখনও না। আমার সামনেই একটা ছেলে বড় হয়েছে। স্কুলে যেত। কাঁধে পুরোনো ব্যাগ। পরে তাকে যুবক হতে দেখলাম। তারপর একদিন দেখি, তার পাশে আরেকটা ছোট্ট ছেলে হাঁটছে। হাত ধরে। সময় যে কখন কেটে যায়, মানুষদের দেখলেই বোঝা যায়। আমি তো একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি।


তবে সবকিছু ভালোও ছিল না। আমার গায়ে পেরেক মারা হয়েছে। বিজ্ঞাপন ঝোলানো হয়েছে। কেউ নিজের নাম কেটে লিখে রেখেছে ছালে। কেন করেছে, জানি না। শুধু এটুকু জানি, সেসব দাগ অনেকদিন থাকে। একবার বড় একটা ঝড়ে আমার একটা মোটা ডাল ভেঙে পড়েছিল। কয়েক মাস সেই জায়গাটা ফাঁকা দেখাত। পরে সেখানে আবার নতুন পাতা এলো। নতুন ডালও।


আজ আমি বুড়ো। আগের মতো নেই। কিছু ডাল শুকিয়ে গেছে। গায়ের ছালও রুক্ষ হয়ে গেছে। তবু সকালে রোদ উঠলে ভালো লাগে। বৃষ্টি নামলে এখনও পাতাগুলো নড়ে ওঠে। আর যখন দেখি কোনো পথিক এসে ছায়ায় বসেছে, বা বাচ্চারা খেলছে, তখন মনে হয়, এতদিন দাঁড়িয়ে থাকা একেবারে বৃথা যায়নি।


আর কতদিন থাকব, জানি না। হয়তো কোনো ঝড়ে পড়ে যাব। হয়তো ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাব। এসব নিয়ে খুব একটা ভাবি না। কারণ চারপাশে এখন নতুন নতুন চারা উঠেছে। তাদের দিকে তাকালে নিজের কথা মনে পড়ে। ওদের মধ্যে কেউ হয়তো একদিন অনেক বড় হবে। তার ছায়ায় মানুষ বসবে। কোনো পাখি বাসা বাঁধবে। আর সে হয়তো আমার মতোই দাঁড়িয়ে মানুষদের আসতে-যেতে দেখবে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 971 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 19607। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4004
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নীরব সাক্ষী   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ৫ জুন, ২০২৬ আমি একটা গাছ। এখন আমার ছ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সময়ের কাছে মানুষের নীরব পরাজয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । মে ১৭, ২০২৬ আম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
268 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

লেখকদের নীরব অন্ধকার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১৪ মার্চ ২০২৬ রাত দুটো। টেবিলের ওপর খোলা খাতা। একজন লেখক বসে আছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটি বাক্য নিয়ে লড়াই করছেন—লিখছেন, মুছছেন, আ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
277 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
কবি হওয়ার নীরব লড়াই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১২ মার্চ ২০২৬ রাত প্রা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
288 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ধর্ষণ: ক্ষমতার সংস্কৃতি, বিচারহীনতা এবং সমাজের নীরব সহিংসতা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
388 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    305 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    15 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    143 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    103 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    91 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...