Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শিশুদের হারানো শৈশব

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
521 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,767 পয়েন্ট)   01 মার্চ "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শিশুদের হারানো শৈশব

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী কলম | মার্চ ০১,২০২৬


গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরপুরের বাসা থেকে বের হলাম। রাস্তার ধারে একটা খোলা মাঠ দেখে থেমে গেলাম। সেই মাঠে আমি ছোটবেলায় ফুটবল খেলতাম। মাটি ছিলো নরম, বৃষ্টির পর কাদা থাকতো। এখন? কংক্রিট। পার্কিং। গাড়ি দাঁড়ানো। একটা কুকুর পর্যন্ত নেই।


পাশেই "স্মার্ট টিউটোরিয়াল" — তিনতলা। কাঁচের জানালা। ভেতরে টিউবলাইটের আলো। জানালা দিয়ে দেখলাম, ছোট ছোট মুখ। সবাই টেবিলে বসে। একটা ছেলে, বয়স নয় বা দশ, মাথা নিচু করে ঘুমাচ্ছিলো। কেউ তাকে ধাক্কা দিলো। মাথা তুললো। চোখ লাল। আবার বইয়ে তাকালো।


আরেকটা ছেলে জানালার কাছে এলো। আমার দিকে নয় — আকাশের দিকে তাকালো। মেঘ ছিলো না। নীল। সে কতক্ষণ তাকিয়ে ছিলো? জানি না। কেউ ডাকলো — "রিয়াদ, বসো!" সে ফিরে গেলো। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। কতক্ষণ? জানি না। একটা গাড়ি বাজার দিলো। তবু দাঁড়িয়ে ছিলাম।


ওর নাম জানি না — রিয়াদ নাকি অন্য কিছু। কিন্তু চোখ মনে আছে। খালি চোখ। যেন কিছু চায়, কিন্তু কী চায় বোঝে না। আমরা বড়রা তো বুঝি? বুঝি না। বুঝলে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতাম না। চলে যেতাম। কিন্তু গেলাম না। কেন?


আমার ভাগ্নে রাফি। ক্লাস ফোরে পড়ে। গত ঈদে দেখা হলো। লাল টি-শার্ট পরেছিলো — ওর মা কিনেছিলো, কিন্তু ওর পছন্দ ছিলো না। নীল চেয়েছিলো। কিন্তু বলেনি। শুধু নাক টিপে টিপে কথা বলছিলো। ওর বাবার অভ্যাস। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কি করিস?" নাক টিপলো। বললো, "কোচিং।" আর? "আর কিছু না।" খেলো? "সময় নাই।" কথা বলার সময় ওর মা ডাক দিলেন — "রাফি, অনলাইন ক্লাস শুরু হবে।" রাফি দৌড়ে গেলো। লাল টি-শার্টটা পিঠে কুঁচকে ছিলো। আমি বসে রইলাম।


সোফায় একটা বই পড়েছিলো। "ম্যাথ প্র্যাকটিস" — কিন্তু ভেতরে ছবি আঁকা। একটা বাড়ি, একটা গাছ, একটা সূর্য। সূর্যের পাশে লেখা — "৪৫° এঙ্গেল।" কে লিখেছিলো? রাফি নাকি শিক্ষক? জানি না। কিন্তু সূর্যের পাশে কেন ডিগ্রি? সূর্য তো উঠে। শুধু উঠে। কেউ জিজ্ঞেস করে না কতটা উঠে। শুধু দেখে। আমরা দেখতাম। এখন?


রাফির বাবা বলেছিলেন — চা খাওয়ার সময়, কাপ হাতে। কাপটা পুরনো, ফাটা ছিলো নিচে। চা পড়ছিলো টেবিলে। তবু ধরেছিলেন। বললেন, "এখন কম্পিটিশন বেশি।" হ্যাঁ, বেশি। কিন্তু কার সাথে? অন্য রাফিদের সাথে? যারাও নাক টিপে টিপে কথা বলে, নীল চায়, কিন্তু পায় না? এই কম্পিটিশনে জিতলে কি মিলবে? জীবন? নাকি আরেকটা পরীক্ষা? আরেকটা কোচিং? আরেকটা "স্মার্ট টিউটোরিয়াল"?


তাহলে কি? কেউ জানে না। কিন্তু সবাই ভয় পায়। এই ভয়টাই শিশুদের হাতে তুলে দিই আমরা। ছোট ছোট হাতে। যে হাতে খেলনা থাকার কথা, সেখানে ভয়। ভয় না পেলে ভবিষ্যতে ক্ষতি হবে। কী ক্ষতি? কেউ বলতে পারে না। কিন্তু সবাই বলে। বলে যাই। বলে যাই। আর ওরা? ওরা নেয়। নাক টিপে টিপে। চোখ বড় বড় করে। আকাশের দিকে তাকায়। কিছুক্ষণ। তারপর ডাক পড়ে। ফিরে আসে।


আমার মা বলতেন, "বিকেলে বাইরে যাস না, পড়াশোনা কর।" কিন্তু তখনো বিকেল ছিলো। এখন? এখন তো সকাল থেকে রাত। স্কুল, কোচিং, অনলাইন, হোমওয়ার্ক। আর ফাঁকে ফাঁকে? ফাঁকে ফাঁকে ফোন। স্ক্রিন। ইউটিউব। কার্টুন না, "এডুকেশনাল কন্টেন্ট।" শেখার নামে আরেকটা চাপ। ছোট ছোট চোখে বড় বড় স্ক্রিন। ঘুম আসে না। চোখ জ্বলে। ডাক্তার বলে, "স্ক্রিন টাইম কমাও।" কী করে কমাবে? পড়াশোনা তো স্ক্রিনেই। এই চক্র। বের হওয়ার পথ নেই। নেই। নেই।


শৈশব হারানো মানে শুধু খেলার অভাব নয়। এটি জিজ্ঞেস করার অভাবও। আমরা কখনো প্রশ্ন করি না — "তুমি কি চাও?" বলি, "তুমি এটা করো।" ওরা করে। নাক টিপে টিপে। চোখ বড় বড় করে আকাশের দিকে তাকায়। কিছুক্ষণ। তারপর ফিরে আসে। ক্লাসে। কোচিংয়ে। এই চক্রে কত শিশু ঘুরছে? গুনি নি। গুনতে ভয় লাগে। লাগে। লাগে।


ভয় — এই ভয় কি আমরা ওদের হাতে দিচ্ছি? নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন? নিজের ব্যর্থতা? "আমি পারিনি, তুমি পারবে" — এই বাক্য কত ভারী? ছোট ছোট কাঁধে। ওরা পড়ে না। ভাঙে না। কিন্তু ভেতরে কী ঘটে? কেউ দেখে না। দেখার সময় নেই। পরীক্ষা আসছে। কম্পিটিশন চলছে। চলবে। চলবে।


আমরা ভাবি আমরা সব ঠিক করছি। পরিকল্পনা করছি। ভবিষ্যৎ গড়ছি। কিন্তু কার ভবিষ্যৎ? আমাদের না ওদের? ওদের যদি জিজ্ঞেস করতাম? করি না। করলে উত্তর জানি — "আমি ছবি আঁকতে চাই।" "আমি খেলতে চাই।" "আমি ঘুমাতে চাই।" এই উত্তরগুলো আমাদের কাজের নয়। তাই জিজ্ঞেস করি না। করি না। করি না।


শৈশব হারানো মানে হারানো আনন্দ, হারানো স্বাধীনতা, হারানো শিশুমন। আর যখন হারানো যায়, ফিরে আসে না। আমি সেই মাঠে আর ফুটবল খেলি না। কংক্রিটে পা ব্যথা করে। কিন্তু মাঝে মাঝে যাই। দাঁড়াই। জানালার দিকে তাকাই। কেউ কেউ তাকায়। কেউ দেখে না। ব্যস্ত। আমরা ব্যস্ত। ওরা ব্যস্ত। সবাই ব্যস্ত। ব্যস্ত হয়ে শৈশব হারাই। হারাই। হারাই।


রাফি এখনো কোচিং যায়। লাল টি-শার্টটা এখনো আছে — ছোট হয়ে গেছে। ওর মা নতুন কিনবেন। নীল। কিন্তু রাফি আর চায় না। কিছুই চায় না। শুধু ঘুমাতে চায়। বলে না। বললে ক্লাস মিস হবে। আর সেই নাম না জানা ছেলেটা? রিয়াদ? সে কি আকাশ দেখতে পায় এখনো? নাকি তাকে চিরকাল ডেকে নিয়েছে? জানি না। জানব না। কারণ আমি শুধু দাঁড়িয়ে থাকি। লিখি। আর কিছু করি না। করি না। করি না।


আপনি কি মনে করেন এই দিন আসবে, যখন শিশুরা আকাশ দেখবে — ড্রিলিং নয়, স্বপ্ন দিয়ে? আমি মনে করি না। কিন্তু মাঝে মাঝে যাই। দাঁড়াই। তাকাই। অপেক্ষা করি। কী? জানি না। শুধু দাঁড়িয়ে থাকি। কংক্রিটের উপর। পা ব্যথা করে। চলে যেতে ইচ্ছে করে। যাই না।


#শৈশবহারানো #শিশুমনস্বাস্থ্য #শিক্ষারচাপ #প্রজন্মহারানো #মানবিকশিক্ষাimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1374 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27767। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3504
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


‎ঝড়ের রাইতে আজও মনে পড়ে শৈশব ‎—রফিক আতা ‎ ‎গভীর রাত। আধার যেন নিকষ আধারেরই এক গ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
157 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শিশুদের বর্তমান সমস্যা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ। জানুয়ারি ২১[...] বিস্তারিত পড়ুন...
162 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাংলা সাহিত্যে গ্রাম হারানো নাকি রক্ষিত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক প্রবন্&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
165 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হারানো বইমেলা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১৩ মার্চ ২০২৬ স্টল #২৪৭। ফেব্র[...] বিস্তারিত পড়ুন...
465 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
কাঁচের গুলি আর হারানো আনন্দ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী।জানুয়ারি ১০,২০২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
486 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    163 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...