Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

রাখীর দায়

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
50 বার প্রদর্শিত
করেছেন (28,256 পয়েন্ট)   27 অগাস্ট "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

রাখীর দায়image

শুভ রাখীবন্ধন

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

বিশ্লেষণধর্মী। ২৭ আগষ্ট, ২০২৬


রাখীর দিন এলেই ছোটবেলার একটা দৃশ্য মনে পড়ে। বোনের হাতে নতুন রাখী, ভাইকে ধরে বসানোর চেষ্টা, ভাইয়ের দুষ্টুমি, বোনের রাগ। তারপর মিষ্টি খাওয়া, হাসাহাসি। অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলে রাখীটা কয়েকদিন হাতে থাকে, তারপর একসময় খুলে যায়।


ছোটবেলায় এসবের অর্থ বুঝতাম না। তখন ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল খুব সহজ। একই ঘরে বড় হওয়া, একজনের জিনিস আরেকজনের অনুমতি ছাড়া নিয়ে নেওয়া, মায়ের কাছে নালিশ করা, আবার কিছুক্ষণ পরেই পাশাপাশি বসে থাকা। ঝগড়া হতো, অভিমান হতো, কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে হিসাব ঢোকেনি।


বড় হওয়ার পর হিসাব ঢোকে।


ভাই চাকরির জন্য অন্য শহরে যায়। বোন বিয়ের পর অন্য সংসারে। কারও সন্তান হয়, কারও ব্যবসা, কারও চাকরি, কারও নিজের সংসারই ঠিকমতো চলে না। বাবা-মা যতদিন থাকেন, তাঁদের বাড়িটা কোনোভাবে সবাইকে এক জায়গায় টেনে রাখে। তারপর একদিন সেই বাড়িটাও ফাঁকা হয়ে যায়।


তখন বোঝা যায়, রক্তের সম্পর্ক থাকলেই মানুষ কাছের থাকে না।


কাছের থাকতে হয়।


এই জায়গাটাই রাখীবন্ধনের আসল প্রশ্ন।


যার হাতে রাখী বাঁধছি, তার জীবনে আমার জায়গাটা কোথায়?


শুধু উৎসবের দিনে? ছবি তোলার সময়? নাকি তার খারাপ সময়েও?


আমাদের অনেক সম্পর্ক আসলে ঝগড়ায় ভাঙে না; ভাঙে দীর্ঘদিন কথা না বলায়। একজন ভাবে, “সে তো ব্যস্ত।” অন্যজন ভাবে, “ওর নিজের সংসার আছে।” কেউ ফোন করে না। কেউ অভিমান ভাঙায় না। একটা ছোট দূরত্ব ধীরে ধীরে এমন জায়গায় পৌঁছায়, যেখান থেকে ফিরে আসতে দুজনেরই অস্বস্তি হয়।


তারপর একসময় বুঝি, যাকে খুব আপন ভাবতাম, তার সঙ্গে কথা বলার জন্যও একটা উপলক্ষ দরকার হয়।


রাখী সেই উপলক্ষ হতে পারে।


তবে রাখী শুধু ভাইয়ের হাতে সুতো বাঁধার অনুষ্ঠান নয়। এর ভেতরে দায়িত্বের কথাও আছে। কিন্তু দায়িত্ব মানেই শুধু ভাই বোনকে রক্ষা করবে, এমন নয়।


ভাইও দুর্বল হতে পারে।


বোনও আশ্রয় হতে পারে।


আজ যে ভাই পরিবারের সবার দায়িত্ব নিচ্ছে, কাল হয়তো তার নিজের প্রয়োজন হবে। আজ যে বোন সবাইকে সামলে রাখছে, কোনো এক রাতে হয়তো তার নিজেরই কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করবে।


সেই জায়গায় ভাই-বোনের সম্পর্ক অন্যরকম হয়ে ওঠে।


আর সম্পর্কের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা আসে তখন, যখন বাবা-মা অসুস্থ হন।


হাসপাতালের বিল কে দেবে, কে রাত জাগবে, কে ওষুধ আনবে—এসব নিয়েও ভাই-বোনের মধ্যে হিসাব হতে পারে। একজন হয়তো বিলটা দিল, আরেকজন সারারাত হাসপাতালের করিডরে বসে থাকল। সকালে দুজনের চোখেই ঘুম নেই, অথচ কে বেশি করল সেই হিসাবের কোনো মিল নেই।


সব দায়িত্ব টাকা দিয়ে মাপা যায় না।


আবার সবাই সমান সামর্থ্য নিয়েও জন্মায় না। কারও হাতে টাকা থাকে, সময় থাকে না। কারও সময় থাকে, টাকা থাকে না। কেউ হয়তো কোনোভাবেই বড় কিছু করতে পারে না, শুধু প্রতিদিন ফোন করে খবর নেয়।


এই পার্থক্যটা বুঝতে না পারলে ভালোবাসার জায়গাতেও একসময় হিসাবের খাতা খুলে যায়।


সম্পত্তির সময় সেই খাতাটা আরও মোটা হয়।


বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া বাড়ি, জমি বা টাকা নিয়ে ন্যায্য অধিকার অবশ্যই থাকবে। অন্যায় হলে কথা বলতেও হবে। কিন্তু কখনো কখনো দেখি, ভাগের হিসাব করতে গিয়ে মানুষগুলোই যেন অদৃশ্য হয়ে যায়।


টেবিলের ওপর দলিলের ফটোকপি।


এক পাশে উকিলের কাগজ।


কেউ বলছে, “এই অংশটা আমার।”


কেউ পুরোনো আলমারির চাবিটা শক্ত করে ধরে আছে।


আর যে ঘরটায় একসময় ভাই-বোন পাশাপাশি ঘুমাত, সেই ঘরের জিনিসপত্রেরও তখন আলাদা মালিক তৈরি হয়।


কাগজে ভাগ করা যায় বাড়ি।


জমির মাপও ভাগ করা যায়।


টাকাও ভাগ হয়ে যায়।


শুধু শৈশবের সেই দুপুরগুলো ভাগ করা যায় না।


এই জায়গাটাই হয়তো আমাদের সবচেয়ে বেশি মনে রাখা দরকার।


ভাই-বোনের সম্পর্ক সবসময় ভালো থাকবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। রাগ হবে, মতের অমিল হবে, এমনকি কিছু সময় দূরত্বও থাকতে পারে। সব অভিমান ভুলে যেতে হবে—এমন কথাও নেই।


শুধু দরজাটা পুরোপুরি বন্ধ না করলেই হয়।


যেন বিপদে পড়লে ফোন করা যায়।


যেন বহুদিন পর দেখা হলে অস্বস্তির বদলে একটা পুরোনো হাসি ফিরে আসে।


যেন কেউ বলতে পারে—


“তোর ওপর রাগ আছে, কিন্তু তুই পর হয়ে যাসনি।”


এইটুকু সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখে।


রাখী একদিন খুলে যাবে। সুতো ছিঁড়ে যাবে। মিষ্টির বাক্স খালি হবে। ছবিগুলোও একদিন ফোনের পুরোনো অ্যালবামে চলে যাবে।


তবু আজকের এই ছোট্ট উৎসবের ভেতর যদি একটা দরজা খোলা থাকে, সেটাই অনেক।


কারণ জীবন আমাদের আলাদা করে দিতে পারে, অভিমান দূরে সরিয়ে দিতে পারে, হিসাব আমাদের মধ্যে দেয়াল তুলতে পারে।


কিন্তু দরজাটা যদি পুরোপুরি বন্ধ না করি, ফিরে আসার একটা পথ থেকে যায়।


শুভ রাখীবন্ধন।


আর হয়তো রাখীর আসল দায়টুকু এই—


তোর ওপর রাগ থাকতে পারে, কিন্তু তুই পর হয়ে যাসনি।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1398 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 28256। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4774
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
 নীরবতার দায় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   গল্পধর্মী প্রবন্ধ। ৯ জুন, ২০২৬ বিকেলের শেষ ফ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
450 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ঘর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন জীবন নিয়ে ভাবনা। ২২ অক্টোবর ২০২৬ দরজা খুলে ঘরে ঢুকলাম। ড[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মণ্ডপ থেকে জীবনে: দুর্গা পূজা নিয়ে ভাবনা শিকড়টা ভুলে গেলে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
10 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মণ্ডপ থেকে জীবনে: দুর্গা পূজা নিয়ে ভাবনা মন্ত্রের ভেতরের মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হো&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
11 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মণ্ডপ থেকে জীবনে: দুর্গা পূজা নিয়ে ভাবনা দুর্গাপূজা: পাঁচ দিনের পাঁচ অনুভব মোহাম্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
12 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    652 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    6 মন্তব্য

    32 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...