Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

গরিব কে?

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,787 পয়েন্ট)   4 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

গরিব কে?image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণমূলক লেখা | ৪ অক্টোবর ২০২৬


রিকশাওয়ালাকে দেখলেই আমরা অনেক সময় ধরে নিই, মানুষটা গরিব।


কেন?


তার পেশা রিকশা চালানো। গায়ে হয়তো পুরোনো একটা শার্ট, পরনে লুঙ্গি। রোদে পুড়ে গায়ের রং কালো হয়ে গেছে। কথা বলে স্থানীয় টানে। হয়তো স্কুলের গণ্ডিও পেরোতে পারেনি।


ব্যস, আমাদের মাথায় একটা পরিচয় তৈরি হয়ে যায়—“গরিব মানুষ।”


অথচ তার পকেটে মাস শেষে কত টাকা থাকে, তার সংসারে কতজন মানুষ, নিজের রিকশা আছে কি না, দিনে কত ঘণ্টা কাজ করেন, কত টাকা খরচ হয়—এসব জানার প্রয়োজনই আমরা অনেক সময় মনে করি না।


আমরা পেশা দেখে মানুষের আর্থিক অবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।


এটাই আসল সমস্যা।


একজন রিকশাচালকের আয় একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। রিকশা নিজের নাকি ভাড়ার, কোন এলাকায় চালান, দিনে কত ঘণ্টা রাস্তায় থাকেন, কত দিন কাজ করতে পারেন—সবকিছু তার আয়কে প্রভাবিত করে।


তাই শুধু রিকশা চালান বলেই একজন মানুষকে গরিব ধরে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।


কিন্তু আমাদের ধারণাটা এত সহজে বদলায় না।


কারণ আমরা শুধু আয় দেখি না। আমরা মানুষের পোশাক দেখি, ভাষা শুনি, পেশা দেখি, চেহারা দেখি। তারপর সবকিছুকে একসঙ্গে মিলিয়ে তার একটা সামাজিক পরিচয় বানিয়ে ফেলি।


পোশাককে সামর্থ্য মনে করি।

ইংরেজি বলাকে যোগ্যতা মনে করি।

ডিগ্রিকে বুদ্ধির মাপকাঠি মনে করি।

আর কায়িক শ্রমকে দারিদ্র্যের পরিচয় বানিয়ে ফেলি।


একদিন অভিক অফিস থেকে ফেরার পথে রিকশায় উঠল।


রিকশাওয়ালা বলল, “স্যার, কোথায় যাবেন?”

অভিক ঠিকানা বলল।


কিছুদূর যাওয়ার পর লোকটি বলল, “স্যার, এই রাস্তা দিয়ে গেলে একটু জ্যাম কম পাবেন।”


অভিক বলল, “এই রাস্তা দিয়ে যাবেন?”

লোকটি হেসে বলল, “হ্যাঁ। এই সময় ওই রাস্তায় গাড়ি বেশি থাকে।”


অভিক একটু অবাক হলো। বলল, “আপনি এই এলাকার রাস্তা ভালো চেনেন?”


লোকটি এবার হেসে বলল, “পনেরো বছর ধরে চালাই। কোন সময় কোন রাস্তায় জ্যাম হয়, একটু তো বুঝি।”


অভিক আর কিছু বলল না।


পনেরো বছর ধরে শহরের রাস্তা চেনা মানুষটাকে এতক্ষণ সে শুধু একজন রিকশাওয়ালা হিসেবেই দেখছিল।


কথা বলতে বলতে আরও জানা গেল, লোকটির দুই ছেলে। বড় ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। ছোট ছেলে কলেজে। রিকশাটা নিজের নয়। প্রতিদিন ভাড়া দিতে হয়। তারপরও ছেলেদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।


অভিকের মনে হলো, লোকটির জীবনে শুধু রিকশা নেই।


তার সংসার আছে। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা আছে। প্রতিদিনের হিসাব আছে। শহরের অসংখ্য রাস্তার অভিজ্ঞতা আছে। হয়তো নিজের জীবনের কিছু স্বপ্নও আছে।


আমরা পেশাটাকে দেখি।

মানুষটাকে দেখি না।


অবশ্য এর মানে এই নয় যে রিকশাচালক মানেই সচ্ছল। অনেকের আয় অনিয়মিত। কারও রিকশা ভাড়ার। কারও চিকিৎসার খরচ আছে, কারও পরিবারের সদস্য বেশি, কারও আবার দিনের আয় দিয়েই দিনের সংসার চলে।


তাই একজন রিকশাচালকের আর্থিক অবস্থা জানতে হলে তার বাস্তব জীবন দেখতে হবে।


শুধু তার রিকশাটা দেখলে হবে না।


আর এখানেই আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির একটা অদ্ভুত দিক আছে।


আমরা কাউকে দেখেই তার অর্থনৈতিক অবস্থার একটা ছবি বানিয়ে ফেলি।


রিকশাওয়ালা দেখলে নিচু আয় ধরে নিই।

গৃহশ্রমিক দেখলে অসহায় ধরে নিই।

দিনমজুর দেখলে দরিদ্র ধরে নিই।

অথচ তাদের প্রত্যেকের জীবন আলাদা।


কেউ হয়তো প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। কেউ হয়তো টাকা জমাচ্ছেন। কেউ গ্রামের বাড়িতে জমি করেছেন। কেউ সন্তানের পড়াশোনায় খরচ করছেন। কেউ হয়তো ঋণের বোঝায় আছেন।


বাইরে থেকে তাদের জীবন একই রকম মনে হতে পারে। ভেতরের হিসাবটা এক নয়।


আর একজন মানুষের আর্থিক অবস্থা যেমন তার পোশাক দিয়ে বোঝা যায় না, তেমনি তার মর্যাদাও তার পেশা দিয়ে নির্ধারিত হয় না।


সমস্যাটা হয়তো এখানেই—আমরা মানুষের আয় জানার আগেই তার অবস্থান ঠিক করে দিই।


তারপর সেই অবস্থান অনুযায়ী আচরণ করি।


রিকশায় ওঠার সময় ভাড়া নিয়ে দরদাম করি। কখনো পাঁচ-দশ টাকা নিয়ে এমনভাবে কথা বলি, যেন সামনের মানুষটির সময় আর শ্রমের কোনো মূল্য নেই।


অথচ একই পাঁচ-দশ টাকা কোনো রেস্টুরেন্টে সার্ভিস চার্জ হিসেবে দিলে আমরা তেমন প্রশ্ন করি না।


কেন?


কারণ আমাদের চোখে কিছু শ্রমের দাম আছে, কিছু শ্রমের শুধু প্রয়োজন আছে।


রিকশাওয়ালা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। তার কাজ শেষ হয় সেখানে।


কিন্তু মানুষটি সেখানেই শেষ হয়ে যায় না।


সে বাড়ি ফেরে। সন্তানকে দেখে। বাজার করে। হয়তো নিজের বৃদ্ধ মায়ের ওষুধ কেনে। পরদিন আবার রাস্তায় নামে।


তার জীবনও আমাদের মতোই একটি পূর্ণ জীবন।

শুধু তার কাজটা আমাদের চোখে একটু নিচে।


হয়তো সমস্যাটা “গরিব কে” এই প্রশ্নে নয়।


সমস্যাটা হলো, আমরা কাকে দেখে গরিব বলে সিদ্ধান্ত নিই।


একজন মানুষ কত টাকা আয় করেন, কত সম্পদ আছে, কী পরিমাণ খরচ করেন—এসব না জেনে শুধু পেশা, পোশাক আর ভাষা দেখে তাকে গরিব ভাবা আসলে তার সম্পর্কে নয়, আমাদের নিজেদের ধারণা সম্পর্কে বেশি কিছু বলে।


হয়তো সেদিনই আমাদের ভুলটা ধরা পড়বে, যেদিন রিকশা থেকে নেমে আমরা ভাড়া দেওয়ার সময় শুধু রিকশাটার দিকে নয়, মানুষটার চোখের দিকেও একবার তাকাব।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1375 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27787। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4931
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
করুণার খাঁচায় বন্দি গরিব মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ব&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
48 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
আমার কে আছে? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প | ১ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ অবসর নেওয়ার পর প্রথ÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
38 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

স্বপ্ন কিনি ঘুম ভেঙে, দাম দিই ঘাম আর ক্ষত, ভয়কে রেখে পায়ের নিচে, এগোই একা নিরত। কে কী বলল, কে কী ভাবল—গুনে রাখি না আর, নিজের সঙ্গে যুদ্ধ জিতে, বানাই নিজের ভার। আজ না হলে কাল হবেই, সময় আমার পক্ষ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
238 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিজেকেই কেন্দ্র করে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ৪ অক্টোবর ২০২৬ কিছু [...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সব চাপ নিতে হয় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা। ৩ অক্টোবর ২০২৬ কখন মান[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    183 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    9 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...