Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

এক মুঠো ভাতের কী দাম

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
6 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,310 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

এক মুঠো ভাতের কী দামimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণমূলক | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দুপুরের খাওয়া শেষ। টেবিলে একটা প্লেট পড়ে আছে। একপাশে বেশ কিছু ভাত।


“ফেলে দাও।”


এই একটা বাক্য বলে আমরা উঠে যাই। ভাতগুলো ময়লার ঝুড়িতে যায়। দৃশ্যটা এত পরিচিত যে ফেলে দেওয়ার সময় আমরা আর ভাতের দিকে তাকাইও না।


অথচ একই শহরের অন্য গলিতে একজন মা হাঁড়ির তলা থেকে লেগে থাকা ভাতটুকু চামচ দিয়ে তুলে ছেলের পাতে দিচ্ছেন। ছেলেটা বলছে, “মা, আর একটু দাও।” মা বলছেন, “এইটুকুই আছে বাবা।”


দুই বাড়িতেই ভাত আছে। শুধু তার মূল্য এক নয়। আমাদের আলোচনাটা এই মূল্যের পার্থক্য নিয়েই।


১. ভাতের দুটো দাম আছে


আমরা ভাতের বাজারদর জানি। চালের কেজি কত বাড়ল, সেই হিসাব রাখি। কিন্তু ভাতের আরেকটা দাম আছে, যেটা টাকায় হয় না।


এক মুঠো ভাত পাতে আসার আগে একটা দীর্ঘ শেকল পেরিয়ে আসে। কাদায় নেমে চারা লাগানো, রোদে দাঁড়িয়ে থাকা, ধান কাটা, বয়ে নেওয়া, মাড়াই, চালকল, বাজার, তারপর রান্নাঘর। সকালে আরেকজন মানুষ চাল ধুয়ে চুলা জ্বালান। এই পুরো শ্রমটা আমরা প্লেটে থাকা অবস্থায় ভুলে যাই।


যখন খাবার সহজলভ্য হয়, তখন আমরা তাকে আর খাবার হিসেবে দেখি না। তাকে আয়োজনের অংশ হিসেবে দেখি। তাই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি নিই, রেখে দিই। বিয়ে বাড়িতে হাঁড়ি ভর্তি খাবার থেকে যায়, আমরা বলি “একটু বেশিই তো লাগে।”


অন্যদিকে যে পরিবারে মাসের শেষে টান পড়ে, সেখানে এক কেজি চালের হিসাব হয় দিনে। মা রান্না করার আগে গুনে নেন আজ কয়জন খাবে। সেখানে ভাত কোনো আয়োজন নয়, সেখানে ভাত হলো নিরাপত্তা।


এই দুই দেখার পার্থক্যটাই আসল বৈষম্য।


২. ক্ষুধা কোনো ছবি নয়


আমরা ক্ষুধার ছবি দেখি — পত্রিকায়, মোবাইলের স্ক্রিনে, ত্রাণের লাইনে। কিছুক্ষণ খারাপ লাগে, তারপর স্ক্রল করে চলে যাই।


কিন্তু যার ঘরে ভাত নেই, তার কাছে ক্ষুধা কোনো ছবি নয়। ক্ষুধা একটা দীর্ঘ রাত।


সবচেয়ে কষ্টের দৃশ্যটা তখন, যখন একজন বাবা নিজের পাতের ভাত সন্তানের দিকে ঠেলে দিয়ে বলেন, “খেয়েছি।” হয়তো তিনি খাননি। দারিদ্র্য শুধু কম খেতে শেখায় না, নিজের ক্ষুধাটা লুকাতেও শেখায়।


এই কারণে খাবারের অপচয়কে শুধু “অপচয়” বললে ছোট করা হয়। একজনের পাতে পড়ে থাকা ভাত আর আরেকজনের খালি পেট — এই দুটোকে পাশাপাশি রাখলে বোঝা যায়, এটা শুধু খাবারের সংকট নয়, এটা বণ্টনের সংকট।


৩. সমস্যাটা শুধু পাতে নয়, শেকলে


এখানেই বিশ্লেষণের জায়গা। শুধু “পাতে ভাত নষ্ট করবেন না” বললে সমস্যা মিটবে না। প্রশ্ন করতে হবে আরও গভীরে।


একজন শ্রমিক সারাদিন কাজ করেও কেন রাতে নিশ্চিত হতে পারেন না যে ঘরে ভাত থাকবে? একজন রিকশাচালক কেন ভাবেন, আজ মাছ বাদ দিলে চালটা বেশি কেনা যাবে? যে কৃষক ধান ফলালেন, তিনি কেন নিজের ফসলের ন্যায্য দাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় থাকেন?


যিনি ফলান, তিনি দাম পান না। যিনি কেনেন, তার কাছে দাম বেশি। মাঝখানে এই ফারাকটা কেন তৈরি হয়? এই ফারাকটাই একজন মানুষের সারাদিনের মজুরিকে অনিশ্চিত করে দেয়।


তাই একবেলা খাবার দিয়ে ক্ষুধা থামানো যায়, কিন্তু ক্ষুধার কারণটা থামে না। কারণটা রান্নাঘরে নেই, কারণটা আছে বাজারের ব্যবস্থাপনায়, কৃষকের প্রাপ্যতে, শ্রমিকের মজুরির নিরাপত্তায়।


শেষ কথা


দিন শেষে আমরা সবাই ভাত খাই। কারও পাতে পাঁচ পদ থাকে, কারও পাতে শুধু ডাল। ভাত একই থাকে, কিন্তু সবার কাছে তার মানে এক থাকে না।


তাই পাতে এক মুঠো ভাত পড়ে থাকলে ফেলে দেওয়ার আগে একবার তাকানো যায়। সেখানে শুধু ভাত পড়ে নেই, সেখানে একজন কৃষকের ঘাম, একজন মায়ের সকাল আর একজন শ্রমিকের সারাদিনের হিসাব পড়ে আছে।


আর হয়তো দূরের কোনো ঘরে এখনো একটা শিশু বলছে, “মা, আর একটু ভাত দাও।”

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 11 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1352 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27310। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4863
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-০১ এক মুঠো ভাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। ৫ আগষ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
44 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বিশ্বস্ততার দাম মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিশ্বস্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
9 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মানুষের দাম মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ আপনি যখন সন্&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
23 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সম্মানের দাম মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ২২ আগস্ট ২০২৬ “গরিবের কাছে টা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
40 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সমাজ ও পরিবারে ব্যক্তিগত উদাসীনতার দাম মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ৭ মার&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
262 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1211 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    60 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    290 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    14 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-আমিন (আলো)

    117 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    83 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...