Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ঘর

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (28,256 পয়েন্ট)   8 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ঘরimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

জীবন নিয়ে ভাবনা। ২২ অক্টোবর ২০২৬


দরজা খুলে ঘরে ঢুকলাম। ড্রয়িংরুমে টেলিভিশন চলছে। মা খাবার টেবিলে ভাত বেড়ে রেখেছে। বাবা সোফায় বসে আছেন। পাশের ঘর থেকে কথার শব্দ আসছে।


সবাই আছে। শুধু আমার জন্য কোনো কথা নেই।


কেউ জিজ্ঞেস করল না, এত দেরি হলো কেন। কেউ বলল না, খেয়েছিস? আমিও কিছু বললাম না। জুতো খুলে নিজের ঘরে চলে গেলাম। জামাকাপড় বদলে আবার বেরিয়ে এলাম খেতে।


টেবিলে ভাত, ডাল, মাছের তরকারি। মা আমার প্লেটের পাশে মাছের একটা টুকরো রেখে দিল। ছোটবেলায় যেটা আমার পছন্দের ছিল। এখনো পছন্দ করি কি না, কেউ জিজ্ঞেস করেনি। আমিও বলিনি।


খেতে বসে মনে হলো, এই মানুষগুলোর সঙ্গে কত কথা বলার ছিল আমার। অথচ একটা কথাও শুরু করতে পারছি না।


কয়েক দিন ধরে বাড়িতে অশান্তি চলছে। কে ঠিক, কে ভুল, সেই হিসাব করতে করতে কখন যে কথাগুলো সম্পর্কের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে, কেউ খেয়াল করেনি। এখন সামান্য একটা প্রশ্ন থেকেও নতুন ঝগড়া শুরু হতে পারে। তাই সবাই কথা বলার আগে ভাবে। তারপর কথা না বলাই নিরাপদ মনে করে।


আমি চুপ করে ভাত মাখতে থাকি।


মাঝেমধ্যে মনে হয়, উঠে গিয়ে বলি, এভাবে আর কত দিন চলবে? আমরা কি কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারব? এত দিনের সম্পর্ক কি কয়েকটা রাগের কথার চেয়ে ছোট হয়ে গেল?


কিন্তু কথাগুলো মুখ পর্যন্ত এসে থেমে যায়। কারণ আমি জানি, কথাটা যেভাবে বলতে চাই, সেভাবে হয়তো শোনা হবে না। আমার কষ্টের কথা বলতে গিয়ে পুরোনো অভিযোগ উঠে আসবে। কে আগে কী বলেছিল, কে কাকে কতটা অসম্মান করেছে, সেই হিসাব শুরু হবে আবার।


শেষ পর্যন্ত চুপ করে থাকি।


আমার এই চুপ করে থাকাকে কেউ হয়তো অহংকার ভাবে। কেউ ভাবে, আমার কিছু যায় আসে না। অথচ ভেতরে ভেতরে কতবার যে ভেবেছি, সব ছেড়ে কোথাও চলে যাই! এমন একটা জায়গায়, যেখানে কারও মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে হবে না আজ কথা বলা নিরাপদ কি না। যেখানে ঘরে ফেরার আগে বুকের ভেতর অকারণ একটা চাপ অনুভব করতে হবে না।


কিন্তু কোথায় যাব?


এই বাড়ির প্রতিটি ঘরে আমার কত স্মৃতি। এই টেবিলে বসেই একসময় সবাই মিলে খেয়েছি। সামান্য একটা ঘটনা নিয়ে হাসতে হাসতে খাবার ঠান্ডা হয়ে গেছে। কেউ অসুস্থ হলে অন্যরা রাত জেগেছে। একসময় এই বাড়িতে ফিরতে ইচ্ছে করত। বাইরে যত ক্লান্তিই থাকুক, দরজার ওপাশে নিজের মানুষগুলো আছে, এই ভাবনাটুকুই যথেষ্ট ছিল।


সেই মানুষগুলো এখনো আছে। বদলে গেছে শুধু আমাদের মাঝখানের জায়গাটা।


কখনো মনে হয়, তাদেরও হয়তো কষ্ট আছে। হয়তো তারাও আমার কাছ থেকে এমন কিছু আশা করেছিল, যা আমি বুঝতে পারিনি। হয়তো প্রত্যেকেই নিজের অভিমান নিয়ে বসে আছে, কেউ আগে এগিয়ে আসতে পারছে না। আমি শুধু নিজের দিকটা দেখতে পাচ্ছি। অন্যদের ভেতরে কী চলছে, তা জানি না।


তবু একটা প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে। আপনজনের কাছেই যদি নিজের কষ্টের কথা বলা না যায়, তাহলে সেই কষ্ট নিয়ে যাব কোথায়?


রাতে নিজের ঘরে এসে দরজা বন্ধ করি। বাইরে টেলিভিশনের শব্দ থেমে গেছে। বাড়িটা নিস্তব্ধ। ফোনটা হাতে নিয়ে বসে থাকি। কাউকে ফোন করতে ইচ্ছে করে না। এমন কাউকে কীভাবে বোঝাব, যে বাড়িতে আমার সব আপনজন আছে, অথচ সেই বাড়িতেই নিজেকে এত একা লাগে?


হঠাৎ মায়ের কথা মনে পড়ে। খাবার টেবিলে মাছের টুকরোটা আমার প্লেটে তুলে দিয়েছিল। কোনো কথা বলেনি। আমিও কিছু বলিনি।


ওই ছোট্ট কাজটার মধ্যে যত্ন ছিল, নাকি অভ্যাস, জানি না। হয়তো মা-ও কিছু বলতে চেয়েছিল। হয়তো সেও ভেবেছে, এখন কথা বললে আবার কিছু একটা হয়ে যাবে।


এই ভাবনাটা আমাকে আরও চুপ করিয়ে দেয়।


সব সম্পর্ক একদিনে নষ্ট হয় না। কখনো কখনো প্রতিদিনের ছোট ছোট অভিমান, না বলা কথা আর ভুল বোঝাবুঝি জমতে জমতে এমন একটা দেয়াল তৈরি করে, যার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকেও আর ঠিকমতো দেখা যায় না।


তবু আমি চাই না, একদিন এই বাড়ির কেউ সত্যিই চলে যাক। চাই না, কোনো এক সকালে ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারি, যে মানুষটার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ ছিল, তার সঙ্গে আর কথা বলার সুযোগ নেই।


হয়তো কাল সকালে নাশতার টেবিলে বসে আমি নিজেই কথা শুরু করব। হয়তো পারব না। হয়তো আবারও সবাই নিজের মতো করে দিন শুরু করবে।


জানি না, আমাদের মধ্যে জমে থাকা কথাগুলো কোনো দিন বলা হবে কি না।


শুধু রাতে দরজা বন্ধ করার আগে একবার বাইরে তাকাই। মা পাশের ঘরের বাতিটা নিভিয়ে দিচ্ছে। বাবা নিজের ঘরে চলে গেছেন।


একই বাড়িতে সবাই ঘুমাতে যাবে। অথচ কারও সঙ্গে কারও মনের কথাটা বলা হলো না।


দরজাটা বন্ধ করে দিই।


ঘরটা আমার। কিন্তু এই ঘরে শান্তিতে শ্বাস নেওয়ার অধিকারটুকু যেন আজকাল নিজের কাছেই চাইতে হয়।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1398 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 28256। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4983
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
দুঃখের গোপন ঘর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ২৩ আগস্ট ২০২৬ রাত প্রায় দুইটা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
47 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প গল্প-১ আমাদের নীরব ঘর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ২১ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
56 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

  ধোঁয়ার ভেতর ঘর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন কথোপকথন  । মে ১৭, ২০২৬ শীত প্রায় শেষের দিকে। [...] বিস্তারিত পড়ুন...
110 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 ৭ ফেব্রুয়ারির ঘর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প । মে ০৯, ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
381 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মণ্ডপ থেকে জীবনে: দুর্গা পূজা নিয়ে ভাবনা শিকড়টা ভুলে গেলে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
10 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    652 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    6 মন্তব্য

    32 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...