Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অসুখের পর মানুষটা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
15 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,603 পয়েন্ট)   2 দিন পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

অসুখের পর মানুষটাimage
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণমূলক লেখা। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানুষ অসুস্থ হলে শুধু শরীরটা পরীক্ষা হয় না, তার সম্পর্কগুলোও পরীক্ষা হয়ে যায়।

সুস্থ থাকতে আমরা নিজের কাজ নিজেই করি। সকালে উঠে অফিসে যাই, বাজার করি, ব্যাংকের কাজ সেরে আসি, নিজের ওষুধ কিনি। পরিবারের কে কী চায়, সেটাও দেখি। অন্যের প্রয়োজন মেটাতে মেটাতে কখন যে নিজের জীবনটা অন্যদের ঘিরে চলে যায়, টেরও পাই না।

মনে হয়, এভাবেই তো চলবে।

তারপর একদিন শরীর থেমে যায়।

কয়েকটি পরীক্ষা, ডাক্তার, একগাদা ওষুধ। তারপর হয়তো হাসপাতালের বিছানা। যে মানুষটি এতদিন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে ছিল, তাকেই একসময় কারও হাত ধরে হাঁটতে হয়। বিছানা থেকে উঠতেও কাউকে ডাকতে হয়। কোন ওষুধ কখন খেতে হবে, সেটাও অন্য কেউ মনে করিয়ে দেয়।

শরীরের এই পরিবর্তনটা সবাই দেখতে পায়। মনের ভেতরে যে পরিবর্তন শুরু হয়, সেটা দেখা যায় না।

একসময় বাবা সন্তানকে বলতেন, “কী লাগবে বলো।”

বয়স বাড়ার পর সেই বাবাকেই বলতে হয়, “ফেরার সময় আমার ওষুধটা নিয়ে এসো।”

যে মা সারাজীবন সবার খাবার গুছিয়ে দিয়েছেন, একদিন নিজের জন্য এক গ্লাস পানিও অন্যের কাছে চাইতে হয়।

যে মানুষটি সংসারের কঠিন সময়ে সবার সামনে দাঁড়িয়েছেন, তাকেই একসময় হাসপাতালের কাগজ হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করতে হয়, “ডাক্তার কী বললেন?”

এই বদলটা শরীরের চেয়ে মনেই বেশি লাগে।

বিশেষ করে যে মানুষটি সারাজীবন অন্যের ভরসা হয়ে থেকেছেন, তার কাছে নিজের প্রয়োজনের জন্য অন্যের দিকে তাকানো সহজ নয়।

তাই অনেক অসুস্থ মানুষ কষ্টটাও ছোট করে বলেন।
ব্যথা হচ্ছে, তবু বলেন, “এখন একটু কম।”
ওষুধ শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু বলেন না।
ডাক্তারের কাছে যেতে হবে, তবু ভাবেন, “আরেক দিন দেখি।”

রাতে শরীর খারাপ লাগে। পাশে থাকা মানুষটাকে ডাকতে গিয়েও থেমে যান। মনে হয়, সারাদিন মানুষটা এত কাজ করেছে, আবার ঘুম থেকে তুলে বিরক্ত করব কেন?

এই সামান্য দ্বিধার ভেতরেই জমে থাকে অনেক না বলা কথা।

আমরা অসুস্থ মানুষের প্রয়োজন বলতে ওষুধ, পরীক্ষা, ডাক্তার আর হাসপাতালের কথাই বুঝি। অথচ তার আরেকটি প্রয়োজন আছে—সে যেন বুঝতে পারে, অসুস্থ হওয়ার পরও সে পরিবারের একজন মানুষ।

শুধু রোগী নয়।
শুধু বাড়তি খরচ নয়।

অসুস্থ মানুষকে দেখাশোনা করতে করতে পরিবারের অন্যরাও ক্লান্ত হয়। চিকিৎসার খরচ, কাজের চাপ, হাসপাতালে ছোটাছুটি, ঘুম কমে যাওয়া—সব মিলিয়ে বিরক্তি আসতেই পারে।

কিন্তু ক্লান্তি আর অবহেলা এক জিনিস নয়।

ক্লান্তি থেকে মানুষ একটু বিশ্রাম চায়। অবহেলা অসুস্থ মানুষকে নিজের প্রয়োজন নিয়েই অপরাধবোধে ভোগায়।

তখন তার মনে হতে পারে,
“আমার জন্য এত খরচ হচ্ছে।”
“আমাকে নিয়ে সবাইকে এত দৌড়াতে হচ্ছে।”
“আমি না থাকলে হয়তো সবার জীবনটা সহজ হতো।”
কথাগুলো সে হয়তো কাউকে বলবে না। নিজের ভেতরেই রেখে দেবে।

শরীরের ব্যথার কারণ পরীক্ষায় ধরা পড়ে। কিন্তু একজন মানুষ নিজেকে পরিবারের বোঝা মনে করছে কি না, সেটা কোনো রিপোর্টে লেখা থাকে না।

অথচ তার সবসময় বড় কিছু দরকার হয় না।
পাশে কয়েক মিনিট বসে থাকা।
একই কথা বারবার বললেও বিরক্ত না হওয়া।
হাসপাতালে যাওয়ার সময় বলা, “চলো, আমি আছি।”
খাবার সামনে রেখে জিজ্ঞেস করা, “খেতে পারছ?”

সুস্থ অবস্থায় এসব খুব সাধারণ কথা। অসুস্থতার সময় এগুলোর মূল্য অন্যরকম।

অসুস্থ হওয়ার পর আমরা অনেক সময় তার সঙ্গে এমন আচরণ করি, যেন তার শরীরের সঙ্গে তার পরিচয়টাও বদলে গেছে।

আগে সে সংসারের সিদ্ধান্ত নিত। এখন তার মতামত ছাড়াই অনেক সিদ্ধান্ত হয়ে যায়।

আগে নিজের কাজ নিজে করত। এখন তার হয়ে সবকিছু করতে গিয়ে তার কথাটাও অনেকে শুনতে চায় না।

কেউ বলে, “তুমি এসব নিয়ে ভাবো না।”

কথাটা ভালোবেসে বলা হতে পারে। কিন্তু শরীর দুর্বল হয়েছে বলে মানুষের বোধ, অভিজ্ঞতা আর আত্মসম্মান তো দুর্বল হয়ে যায়নি।

সে হয়তো আগের মতো হাঁটতে পারছে না। কিন্তু নিজের জীবন নিয়ে মত দেওয়ার অধিকার এখনও তার আছে।

তাই যত্ন মানে শুধু তার হয়ে সব কাজ করে দেওয়া নয়। যেখানে সম্ভব, তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গাটুকুও দেওয়া।

কারণ অসুস্থতা একজন মানুষকে দুর্বল করতে পারে, ছোট করে না।

একজন মানুষ সুস্থ হয়ে উঠবেন কি না, সেটা সবসময় আমাদের হাতে থাকে না। কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় তার দিনগুলো কেমন হবে, সেখানে আমাদের আচরণের একটা বড় ভূমিকা থাকে।

হয়তো কয়েক বছর পর সে মনে রাখবে না কোন দিনে কোন পরীক্ষা হয়েছিল। কোন ওষুধ কখন খেয়েছিল, সেটাও ভুলে যেতে পারে।

কিন্তু মনে থাকতে পারে, কঠিন রাতে কে পাশে বসেছিল।

ভয় পেলে কে হাত ধরেছিল।

সাহায্য চাইতে সংকোচ করলে কে বলেছিল, “বলতে লজ্জা পেয়ো না, আমি তো আছি।”

যে মানুষটি একদিন আমাদের হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছিল, একদিন হয়তো তার হাত ধরেই আমাদের তাকে হাঁটাতে হবে।

সেদিন তার শরীর আমাদের ওপর নির্ভর করবে।

কিন্তু মানুষটা যেন আমাদের চোখে ছোট হয়ে না যায়।

শেষ পর্যন্ত হয়তো তার মনে একটাই প্রশ্ন থাকে—
“আমি কি এখনও আমার আপন মানুষগুলোর কাছে আগের মতোই আপন?”

এই প্রশ্নের উত্তর মুখে দেওয়ার দরকার হয় না।
কখনো একটা চেয়ার টেনে পাশে বসে পড়াই যথেষ্ট।
কখনো ওষুধটা এনে দেওয়াই যথেষ্ট।
কখনো শুধু হাতটা ধরে বললেই হয়,
“আমি আছি।”


আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1366 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27603। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4894
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
  যে মানুষটা শব্দ দিয়ে বিদ্রোহ শিখিয়েছিলমোহাম্মদ জাহিদ হোসেনবিশ্লেষণধর্মী । ২৫ ম&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
448 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ইল্লিয়ীন ও সিজ্জীন  (মৃত্যুর পর আত্মার দুই বিপরীত গন্তব্য)  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন&nb[...] বিস্তারিত পড়ুন...
237 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল গল্প৩-মানুষটা কখনো না বলেনি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন [...] বিস্তারিত পড়ুন...
56 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–১ : কথা বলতে বলতে মানুষটা একদিন চুপ হয়ে গেল   একটি ধা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
47 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলা গল্প-৪ যে মানুষটা আমাকে চিনত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প [...] বিস্তারিত পড়ুন...
40 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1504 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    74 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    350 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...