Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

সফলতার আলোর পিছনে অদৃশ্য অন্ধকার

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
436 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,411 পয়েন্ট)   15 মার্চ "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সফলতার আলোর পিছনে অদৃশ্য অন্ধকারimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী | ১৫ মার্চ ২০২৬


২০১৭ সালের এক সন্ধ্যা। ঢাকার মোহাম্মদপুরের ছোট অফিসঘর। দুটি প্লাস্টিকের চেয়ার, একটি পুরোনো টেবিল, কোণের দেয়ালে খসে পড়া রঙ—একসময় সবুজ, এখন ধূসর। রাসেল বসে ছিল নোটবুকের পাশে। তিন মাসের ভাড়া বাকি। চেয়ার দুটির একটি বিক্রি হয়ে গেছে। ফোন বারবার বেজে উঠছিল, কিন্তু সে ধরেনি। ঋণের কথা? শুধু নোটবুক। সে লিখছিল, মুছছিল, আবার লিখছিল। আর কতদিন—তিন মাস, দুই মাস, এক মাস, কিংবা এক সপ্তাহ।


ঝাপসা আলো, চারপাশে অন্ধকার। ভেতরে শূন্যতা—যা কেউ দেখেনি, যা সে নিজেও বোঝেনি। সেই রাতে রাসেল জানত না—পরের দিন কি হবে। কতদিন টিকে থাকা যাবে। কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। শুধু একটি ঘর, একটি টেবিল, আর হাতে কলম। আর সেই অদ্ভুত জেদ—যা থামতে দেয় না, যদিও থামা উচিত মনে হয়।


আজ রাসেলের কোম্পানির নাম অনেকে জানে—অ্যাপেক্স ল্যাবস। তাকে মঞ্চে দাঁড় করিয়ে বলা হয়—"সফলতার গল্প বলুন।" সে হাসে। কেউ জানতে চায় না—সেই হাসির আগে কত রাত কেটেছে নিরবে। কেউ দেখেনি ধূসর দেয়াল, একক চেয়ার, সেই নোটবুক। আমি জানি।


শেষটা মনে থাকে। করতালি, স্বীকৃতি, আলো। মাঝখানের অংশ? ফিকে। দ্বিধা গল্পের বাইরে পড়ে গেছে। সরিয়ে দিয়েছি। কারণ দ্বিধা দেখতে ভালো লাগে না। আমরা চাই পরিষ্কার গল্প। শুরু, সংগ্রাম, সাফল্য। মাঝখানে কষ্ট থাকে, নিয়ন্ত্রিত। বাস্তবে তা হয় না। বাস্তবে কষ্টের অর্থ থাকে না। থাকে শুধু কষ্ট। থাকে সন্দেহ। থাকে প্রশ্ন—ঠিক আছে তো?


নতুন কিছু শুরু করলে পরিকল্পনা থাকে না। থাকে কেবল একটি ধারণা—যা পরে ভুলও হতে পারে। অর্ধেক বিশ্বাসে নেওয়া হয় সিদ্ধান্ত। কিছু রাত আসে, যখন মনে হয়—থামলে ভাল। তবু কিছু ঠেকছে না। শেষ কোথায়? জানা নেই। জানতে চাওয়াও নিষেধ। কারণ জানলে হয়তো আর এগোনো যায় না। এই সন্দেহ গল্পে আসে না। আসে না। কিন্তু বাস্তবে এই সন্দেহই সবচেয়ে সত্য। সবচেয়ে মানবিক। রাসেলের সেই রাতগুলো ছিল এমনই—প্রশ্ন, সন্দেহ, আর তবু এগিয়ে যাওয়া।


একদিন, ছাত্রের কথার আগে, রাসেল নিজের ঘরে মন খারাপ করে বলল:


"আমার জানা নেই, শেষ ঠিক কোথায়। তবু থামতে পারি না।"


ছাত্রটি তখন বলল:


"আমি জানি না আমি ঠিক করছি কি না। কিন্তু থামলে মনে হবে এতদিনের চেষ্টা অর্থহীন।"


নিশ্চিত নয়, তবু এগিয়ে যাওয়া। কারণ থামলে সব অর্থহীন হয়ে যেত। ভীতির সেই অনুভূতিই অজান্তে টেনে নিয়ে যায়। কেউ এ কথা বলে না। বলা যায় না। বাস্তবে ভীতি ছাড়া কোনো সংগ্রাম হয় না। রাসেল জানত। সেই ছাত্রও জানত। আমি দেখেছিলাম দুজনকেই।


সফলতার গল্পে চোখে পড়ে শুধু ফলাফল। পরিষ্কার, দৃশ্যমান। ছবি তোলা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা যায়। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্তগুলো ততটা পরিষ্কার নয়। তখন কেউ জানে না, শেষটা কেমন হবে। শুধু একটি সম্ভাবনা। মাত্র সম্ভাবনা। আর সেই সম্ভাবনাকে ধরে রাখা—দিনের পর দিন, রাতের পর রাত। কেউ দেখে না। কেউ বোঝে না। কেউ করতালি দেয় না।


বছরগুলো নীরব। একাকী। সকাল থেকে রাত, রাত থেকে সকাল। একই ঘর, একই চেয়ার, একই অজানা। কেউ সেই সময়ের ব্যথা বোঝে না। সেই রাতের অন্ধকার দেখেনি, যেখানে আশা ধীরে ধীরে নিভে পড়েছে। কেউ জানে না—হাল ছেড়ে আবার ধরা। কতবার। কত রাত। কেউ গোনে না। রাসেল গোনেনি। আমি জানি।


চেষ্টা। ব্যর্থতা। ভাঙা স্বপ্ন। সেই মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তখন মানুষ একা। পুরোপুরি একা। কেউ পাশে নেই। কেউ বলেনি—হবে। কেউ করতালি দেয়নি। কেউ বিশ্বাস করেনি। শুধু সে নিজে। আর সেই অদ্ভুত বিশ্বাস—যা কেউ দেখেনি, যা প্রমাণ ছিল না। রাসেলের গলায় কথা আটকে গিয়েছিল। আমি দেখেছি।


কিছু মানুষ সেই সম্ভাবনাকে আঁকড়ে ধরে। অনেক দিন ধরে। বছরের পর বছর। তারপর যখন তারা সফল হয়, গল্পটা সহজ হয়ে যায়। মনে হয় সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটেছে। কিন্তু আসলে তা ছিল না। কিছুই ছিল না—শুধু সন্দেহ আর ভীতি। তবু তারা এগোয়। আর সেই ভীতির মধ্যেই হাঁটতে হাঁটতে একদিন পৌঁছে গেছে। কেউ জানে না কখন। কিভাবে। শুধু পৌঁছেছে। রাসেল পৌঁছেছে। সেই ছাত্র? হয়তো পৌঁছেছে। হয়তো না। কিন্তু দুজনেই চেষ্টা করেছে। এটাই গুরুত্বপূর্ণ।


আলো উজ্জ্বল। অবশ্যই উজ্জ্বল। কিন্তু সেই আলো আসার আগে যে দীর্ঘ, নিঃশব্দ অন্ধকার ছিল—সেটা ধীরে ধীরে মুছে যায়। কেউ মনে রাখে না। কেউ চায়ও না মনে রাখতে। আমি আলো দেখি। সেটাই গল্প। অন্ধকারও ছিল—নিশ্চিত, নীরব, একা।


যে দেখে শুধু আলো, সে বোঝে না—আলোটা কতবার নিভে পড়েছিল। কতবার আবার জ্বলে উঠেছিল। কেউ জানে না। জানবেও না। কারণ আলো দেখতে ভালো লাগে। অন্ধকার স্মরণযোগ্য নয়। কঠিন পথ মানেই ভুল পথ নয়। সেই পথেই—শেষ পর্যন্ত। যদি যাওয়া যায়। যদি থামতে না হয়। যদি সেই অদৃশ্য বিশ্বাসটা ধরে রাখা যায়।


রাসেল ধরে রেখেছিল। কিভাবে? জানে না। শুধু জানে—সেই নোটবুক এখনো কোথাও আছে। হারায়নি। ফেলেও দেয়নি। লুকিয়ে রেখেছে। যেন সেই রাত, সেই ঘর, সেই একাকী লড়াই কখনো হারিয়ে না যায়। আর কতদিন টিকে থাকা যাবে—কারো জানা নেই।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1258 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25411। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3597
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


লেখকদের নীরব অন্ধকার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১৪ মার্চ ২০২৬ রাত দুটো। টেবিলের ওপর খোলা খাতা। একজন লেখক বসে আছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটি বাক্য নিয়ে লড়াই করছেন—লিখছেন, মুছছেন, আ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
561 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নববর্ষের আলোয় অন্ধকার? মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী। ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
562 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সফলতার মুখোশ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী সামাজিক প্রবন্ধ ১৩ জুলাই, ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
27 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
  অদৃশ্য হওয়ার আগে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্য কবিতা  । মে ১৬,২০২৬ শরীরটা আজকাল খুব ত&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
408 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাহিত্যে নীরবতা এক অদৃশ্য ভাষার শক্তি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন নিবন্ধ। এপ্রিল ০৫, ২০২&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
500 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1577 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    78 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    743 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...