Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যে ক্লান্তি দেখা যায় না

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
27 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,603 পয়েন্ট)   23 সেপ্টেম্বর "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

যে ক্লান্তি দেখা যায় নাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণমূলক লেখা | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঢাকার কোনো একটি গলিতে ভোর হয়। আজানের শব্দ থামার আগেই কারও রান্নাঘরে চুলা জ্বলে ওঠে। একজন মা সন্তানের স্কুলের পোশাক গুছিয়ে দেন, টিফিন বানান, নিজের চুলটা বাঁধার সময়ও পান না। একটু পর তাঁকে দেখা যায় এক হাতে শিশুর হাত, অন্য হাতে বাজারের ব্যাগ। দিনের শুরুতেই তাঁর নিজের জন্য সময়টুকু কোথায় যেন হারিয়ে যায়—আর এই দৃশ্যটা এতটাই পরিচিত যে আমরা আর তাকাইও না।


মেয়েদের বড় হওয়ার গল্পটাও অনেকটা এমন। কৈশোরে শরীরে পরিবর্তন আসে। মাসিকের সময় রক্তক্ষরণ হয়, ব্যথা হয়, দুর্বল লাগে। তারপর একসময় সন্তান জন্ম দেওয়ার দায়িত্ব আসে। গর্ভধারণ, প্রসব, সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো—শরীরের ওপর দিয়ে যায় বড় এক পরিবর্তন। এসবকে আমরা খুব স্বাভাবিক বলে মেনে নিই।


স্বাভাবিক, অবশ্যই। কিন্তু স্বাভাবিক মানেই কষ্টহীন নয়।


সমস্যাটা সম্ভবত এখানেই। সমাজ নারীর সহ্য করার ক্ষমতাকে এত স্বাভাবিক ধরে নিয়েছে যে তাঁর ক্লান্তিটাও অনেক সময় আলাদা করে দেখা হয় না।


একজন নারী অফিস থেকে ফিরে রান্না করলেন। সন্তানের পড়া দেখলেন। শ্বশুরের ওষুধের সময় মনে রাখলেন। পরদিন মেয়ের স্কুলে অনুষ্ঠান আছে, সেটাও মাথায় রাখলেন। স্বামীর কোনো কাজ বাকি আছে কি না, সেটাও হয়তো তাঁকেই মনে করিয়ে দিতে হলো।


একটা একটা করে দেখলে কোনোটাই খুব বড় কাজ না। দুধ আনা, ওষুধ মনে রাখা, স্কুলের খাতা দেখা, রাতের খাবার গরম করা। কিন্তু সবগুলো একসঙ্গে মাথায় নিয়ে ঘোরা—ওই ভারটাই আসল।


এই ভারের একটা অংশ চোখে দেখা যায় না।


কেউ হয়তো বলবেন, সংসারে তো সবাইকেই দায়িত্ব নিতে হয়। কথাটা ঠিক। পুরুষও কাজ করেন, ক্লান্ত হন, সংসারের জন্য আয় করেন, নানা চাপ সামলান। তাই নারীর প্রতিটি কষ্টকে আলাদা করে বিশেষ কিছু বলারও প্রয়োজন নেই।


কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়।


একই সংসারে কে কাজ করবে, আর কে কাজটা মনে রাখবে—এই দুটো কি একই দায়িত্ব?


রাতে শিশুর জ্বর এলে শুধু ওষুধ দেওয়াই কাজ নয়। কখন ওষুধ দিতে হবে, শেষ কবে দেওয়া হয়েছিল, সকালে ডাক্তার দেখাতে হবে কি না—এসবও কারও মাথায় থাকে। বাড়িতে চাল শেষ হয়ে গেলে শুধু বাজারে যাওয়া নয়, চাল শেষ হয়ে আসছে সেটাও আগে বুঝতে হয়।


এই অদৃশ্য হিসাবটাই একজন মানুষকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে।


তারপরও তাঁকে বলা হয়, “তুমি তো সব সামলে নিতে পারো।”


এই কথাটার মধ্যে ভালোবাসা আছে, বিশ্বাসও আছে। কিন্তু কখনো কখনো এর মধ্যে আরেকটি চাপ লুকিয়ে থাকে—তুমি পারো, তাই তোমাকেই পারতে হবে।


নারীর শক্তি নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি। বলি, মেয়েরা অনেক সহনশীল। তারা বিপদের সময় পরিবারকে আগলে রাখে। কথাগুলো সত্যি হতে পারে। কিন্তু একটা সময় গিয়ে প্রশ্ন করা দরকার—এই শক্তির প্রশংসা কি কখনো তাঁদের ওপর আরও কিছু চাপিয়ে দেওয়ার সহজ উপায় হয়ে যাচ্ছে?


“ও তো শক্ত মেয়ে”—এই একটি বাক্য দিয়ে হয়তো তার কান্নাটা এড়িয়ে যাওয়া যায়। “ও সব পারে”—বলে তার বিশ্রামটাও পিছিয়ে দেওয়া যায়।


আর তখন নিজের স্বপ্নগুলো?


একজন নারী হয়তো গান গাইতে চাইতেন। কেউ পড়াশোনা শেষ করতে চেয়েছিলেন। কেউ চাকরি করতে চেয়েছিলেন, কেউ ব্যবসা শুরু করতে। সংসার করতে গিয়ে সব স্বপ্ন মরে যায় না। কিছু স্বপ্ন শুধু চুপ করে থাকে। আলমারির এক কোণে রাখা পুরোনো শাড়ির মতো—আছে, কিন্তু ব্যবহার করার সুযোগ হয় না।


সবচেয়ে অদ্ভুত হলো, নারী কাঁদলে তাঁকে আবেগী বলা হয়, রাগ করলে বলা হয় বেশি প্রতিক্রিয়াশীল। অথচ বছরের পর বছর চুপ করে থাকলে বলা হয়, “ও অনেক বুঝদার।”


তাহলে তাঁর স্বাভাবিক অনুভূতিগুলোর জায়গাটা কোথায়?


নারীকে শক্ত হতে হবে—এ কথা বলার আগে হয়তো আমাদের ভাবা দরকার, তাঁকে সবসময় শক্ত থাকার প্রয়োজনটাই বা কেন তৈরি হচ্ছে।


সংসার কারও একার নয়। সন্তানের দায়িত্ব শুধু মায়ের নয়। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের যত্নও শুধু মেয়ের বা বউয়ের দায়িত্ব হতে পারে না। ঘরের কাজের ভাগ শুধু কাজ দিয়ে মাপা যায় না; কে পরিকল্পনা করছে, কে মনে রাখছে, কে সবসময় প্রস্তুত থাকছে—সেটাও হিসাবের মধ্যে আসা দরকার।


কারণ শক্ত থাকা আর শক্ত হয়ে থাকতে বাধ্য হওয়া এক জিনিস নয়।


একজন নারী কতটা কষ্ট সহ্য করতে পারেন, সেটা জানার চেয়ে হয়তো আরও জরুরি প্রশ্ন হলো—তাঁকে এতটা কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে কেন?


প্রশ্নটা আমাদের তৈরি করা সেই সংসার নিয়ে, যেখানে একজন মানুষকে শক্ত বলেই তাঁর ক্লান্তিটাকে বারবার স্বাভাবিক ধরে নেওয়া হয়।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1366 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27603। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4889
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
চোখে দেখা যায় না ভালোবাসা লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ধরণঃ আবেগঘন ছোটগল্প তারিখঃ ০[...] বিস্তারিত পড়ুন...
498 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ভূমিকম্প থামানো যাবে না, কিন্তু ধ্বংস ঠেকানো যায় মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
530 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একলা চলা যায় না: মানুষের অস্তিত্বে সম্পর্কের অনিবার্যতা লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোস[...] বিস্তারিত পড়ুন...
659 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে মানুষটি টাকা ধার চায় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ৩০ সেপ্টেম্বর ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
13 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে শৃঙ্খলা মানুষ বানায় না মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্নী |  ডিসেম্বর ২১, ২০[...] বিস্তারিত পড়ুন...
486 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1504 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    74 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    350 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...