Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

এক মুহূর্তেই সব শেষ — আমরা কি সত্যিই প্রস্তুত?

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
457 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,411 পয়েন্ট)   21 নভেম্বর 2025 "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

এক মুহূর্তেই সব শেষ — আমরা কি সত্যিই প্রস্তুত?image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

বিশ্লেষণধর্মী। ২১ নভেম্বর ২০২৫


(আজ সকালে যে ১০.৪০ সেকেন্ড আমার বুক কাঁপিয়ে দিলো, সেই গল্পটা পড়ে দেখো)


আজ শুক্রবার সকালে নাস্তা সেরে বিছানায় হেলান দিয়ে চা খাচ্ছিলাম। বাচ্চা দুটো পাশে বসে কার্টুন দেখছিল। হঠাৎ মনে হলো কেউ যেন পুরো বাড়িটাকে দুই হাতে ধরে ঝাঁকাচ্ছে। চায়ের কাপ হাত থেকে ছিটকে পড়ল। গরম চা শার্টে লাগল, কিন্তু তখন ব্যথা টের পাইনি। 


মেয়ে দুটো চিৎকার করে আমার গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল, “বাবা! বাড়ি ভাঙছে!” আমার বুকটা থরথর করে কাঁপছে। দেওয়ালের পলেস্তারা খসে মেঝেতে পড়ছে। ফ্যানটা এমন ঘুরছে যেন এখনই ছিঁড়ে পড়বে। মাত্র দশ সেকেন্ড। কিন্তু ওই দশ সেকেন্ডে আমার চোখের সামনে জীবনটা যেন ফিল্মের মতো চলে গেল।


নিচে নামার সময় দেখি পুরো বাড়ির লোক সিঁড়িতে। কেউ কোলে বাচ্চা নিয়ে কাঁদছে, কেউ খালি পায়ে দৌড়াচ্ছে, কারো হাতে শুধু মোবাইল। 


ষষ্ঠ তলা থেকে নামতে যে এক মিনিট লাগে, আজ মনে হচ্ছিল ওই এক মিনিটও পাব না। 

যদি আরেকটু লম্বা চলত? 

যদি বিল্ডিংটা ভেঙে পড়ত? 

তখন কি সিঁড়ি দিয়ে নামার সুযোগ থাকত?


আমাদের বিল্ডিংটা ২০০৮-০৯ সালে বানানো। মালিক বলেছিল পাঁচ তলার প্ল্যান। এখন আট তলা। নিচে দোকান-মার্কেট, ওপরে আরো তিন তলা চুপিচুপি তোলা। কলামের ভিতরে ইটের গুঁড়ো, রডের বদলে তার। গত বছর রাজউকের লোক এসেছিল। পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে “ম্যানেজ” করে চলে গেছে। এই গল্প শুধু আমার না। গোড়ান, খিলগাঁও, বাড্ডা, রামপুরা, মিরপুর, উত্তরা, বনানী—যেখানেই যান, একই কাহিনি। 


আমরা ভাড়াটিয়ারা শুধু টাকা দিয়ে ঘর ভাড়া নিই, কিন্তু জানি না যে ঘরটা আমাদের কবর হয়ে যেতে পারে।


আজ শুধু ঢাকা না, গোটা বাংলাদেশ কেঁপে উঠেছে। চট্টগ্রামের বন্ধু ফোন করে বলল,

“ভাই, আমাদের বাড়ির পানির ট্যাংক পর্যন্ত দুলছিল।” 

সিলেটের মামা বললেন, 

“জানালার কাচ ঝনঝন করে উঠল।” 

রাজশাহী, খুলনা, বগুড়া, কক্সবাজার—সব জায়গা থেকে একই খবর। 


৫.৭ মাত্রা। কাগজে ছোট সংখ্যা। কিন্তু যারা উঁচু তলায় থাকি, আমরা জানি—এটা ছিল শুধু ট্রেলার। আসল ছবি এখনো বাকি।


বিশেষজ্ঞরা বছরের পর বছর বলে আসছেন—ঢাকার নিচে যে ফল্টলাইন আছে, সেটা যদি একবার জেগে ওঠে, ৭.৫-৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলে লাখ লাখ মানুষ একসাথে মারা যাবে। ৭০% ভবন ধসে পড়বে। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে পারবে না। হাসপাতাল উপচে পড়বে। বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস সব বন্ধ। যারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকবে, তাদের বের করার মতো প্রশিক্ষিত লোকবল আমাদের নেই।


আর আমরা? আমরা শুধু বলি, “আল্লাহ ভরসা।”


আল্লাহ ভরসা ঠিক আছে। কিন্তু আল্লাহ তো বলেছেন—উটের পা বেঁধে তারপর ভরসা করো। আমরা কি পা বেঁধেছি? না। 

আমরা শুধু চোখ বন্ধ করে আছি।


আজকের এই কাঁপুনিটা ছিল আল্লাহর রহমত। একটা শেষ সুযোগ। আরেকবার ভুলে গেলে, পরেরবার হয়তো কেউ লিখতে পারবে না, “আলহামদুলিল্লাহ বেঁচে গেছি।”


তাই আমি আর দেরি করছি না। আজ থেকেই শুরু করছি—


১. বাড়ির মালিকের কাছে বিল্ডিংয়ের প্ল্যান আর কাগজপত্র চাইব।  

২. একটা জরুরি ব্যাগ তৈরি করব—তিন লিটার পানি, শুকনো খাবার, টর্চ, ফার্স্ট এইড কিট, বাচ্চাদের জন্ম সনদ আর গুরুত্বপূর্ণ কাগজের কপি, পাওয়ার ব্যাংক।  

৩. বাচ্চাদের শিখিয়ে দেব—কাঁপলে টেবিলের নিচে যেতে হবে, দৌড়ে সিঁড়িতে যাবে না।  

৪. বউয়ের সঙ্গে বসে প্ল্যান করব—কে কোথায় যাবে, কে কার হাত ধরবে, বের হওয়ার পর কোথায় মিলিত হব।  

৫. বিল্ডিংয়ের অন্য ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলব—সবাই মিলে মালিকের ওপর চাপ দেব।  

৬. যে খোলা মাঠটা কাছে আছে, সেটা মনে রাখব—ভূমিকম্প হলে সেখানেই যাব।


এগুলো করতে কোনো টাকা লাগে না। শুধু একটু সচেতনতা লাগে। আর ভালোবাসা—নিজের পরিবারের প্রতি।


তোমরা যারা এতক্ষণ ধৈর্য ধরে পড়ছ, তোমাদের বাড়ির অবস্থাও তো একই। তোমার বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে বলো—তুমি কি আর দেরি করতে পারো?


আমি আর পারছি না। বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকালেই চোখে পানি চলে আসে। ওদের জন্য হলেও আজ থেকে শুরু করছি।


আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।  

আর এমন তাওফিক দিন, যেন আমরা শুধু বেঁচে থাকি না—নিজের পরিবারকে বাঁচাতেও পারি। আমিন।


তোমরা কারা কারা আজ রাতের মধ্যেই জরুরি ব্যাগ তৈরি করতে যাচ্ছো? কমেন্টে “আমি” লিখে জানাও, আর শেয়ার করে অন্যদেরও জাগিয়ে দাও—যেন পরের কাঁপুনিতে আর কেউ হারিয়ে না যায়।


#একমুহূর্তেইসবশেষ #আজকেরভূমিকম্প #আমরাএখনোবেঁচেআছি #জরুরিব্যাগতৈরিকরি #প্রস্তুতিএখনই #জেগেওঠোবাংলাদেশ #আল্লাহভরসা #ঢাকারভূমিকম্প #ভূমিকম্পপ্রস্তুতি

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1258 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25411। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1513
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
“তুমি অলস না, তুমি অতিরিক্তভাবে exploited।” আমরা কি সত্যিই অলস জাতি, নাকি আমরা পরিকল্পিতভা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
463 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
প্রযুক্তি কি সত্যিই শিক্ষার সমতা আনছে? মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী | ১৫ &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
243 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
“বাংলা ঘরে ভালোবাসার চেয়ে প্রত্যাশা ভারী।” আমরা কি সন্তান বানাই, না ‘ভবিষ্যতের বি&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
468 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
AI যুগে মানুষ: হারাচ্ছি কি আমরা?   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষনধর্মী ⋄ ২০ নভেম্বর &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
129 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
এক খারাপ অধ্যায়ে শেষ নয় জীবন লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরনঃ বিশ্লেষণধর্মী&nb[...] বিস্তারিত পড়ুন...
482 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1577 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    78 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    743 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...