নজরুলকে আমরা অর্ধেক চিনেছি
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী । ২৪ মে, ২০২৬
কেউ যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করে,
“নজরুল মানে কী?”
বেশিরভাগ মানুষ একটাই উত্তর দেবে—
“বিদ্রোহী কবি।”
ব্যস।
এই এক লাইনের ভেতর আমরা পুরো মানুষটাকে আটকে ফেলেছি।
সমস্যা হলো,
আমরা নজরুলকে এমনভাবে পড়েছি, যেন তিনি সারাক্ষণ রাগ করে থাকা একজন মানুষ ছিলেন।
যেন তিনি সবসময় বজ্রপাত হাতে নিয়ে ঘুরতেন।
আসল নজরুল কিন্তু এত সহজ না।
তিনি শুধু বিদ্রোহ লিখেননি।
তিনি প্রেম লিখেছেন।
অভিমান লিখেছেন।
ক্ষুধা লিখেছেন।
ধর্ম নিয়ে লিখেছেন।
মানুষ নিয়ে লিখেছেন।
একজন মানুষ কত রকম হতে পারে, নজরুল তার জীবন্ত উদাহরণ।
একদিকে তিনি লিখছেন—
“আমি চির বিদ্রোহী বীর…”
অন্যদিকে আবার এমন কোমল গান লিখছেন, যা শুনলে মনে হয় মানুষটা হয়তো গভীর রাতে একা বসে চাঁদ দেখতেন।
এই বৈপরীত্যটাই নজরুলকে আলাদা করে।
আমরা আসলে তাকে “বিদ্রোহী কবি” ট্যাগের মধ্যে বন্দি করে ফেলেছি।
এটা অনেকটা পুরো আকাশ দেখে শুধু একটা বজ্রপাতের গল্প করার মতো।
তারার কথা বাদ।
চাঁদের কথা বাদ।
নিঃশব্দ রাতের কথাও বাদ।
আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় কী জানেন?
মানুষটা জীবনে প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছেন।
দারিদ্র্য দেখেছেন।
জেল খেটেছেন।
অবহেলা সহ্য করেছেন।
তবু তার লেখার ভেতর কেমন একটা দাঁড়িয়ে যাওয়ার শক্তি ছিল।
আমরা একটা হা-হা রিয়্যাক্টে রাতে ঘুমাতে পারি না।
আর নজরুল পুরো রাষ্ট্রের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে লিখে গেছেন।
এই সাহসটা হঠাৎ আসে না।
এটা আসে ভেতরের আগুন থেকে।
যে আগুন মানুষ পোড়ানোর জন্য না, মানুষ জাগানোর জন্য।
ভাবুন তো,
আজকের দিনে নজরুল বেঁচে থাকলে কী হতো?
সম্ভবত উনি প্রতিদিন ফেসবুকে রিপোর্ট খেতেন।
কারণ তিনি চুপ থাকতে জানতেন না।
অন্যায় দেখলে তার কলম শান্ত থাকত না।
আর এ কারণেই নজরুল এখনো বিপজ্জনক।
কারণ সত্যিকারের বিদ্রোহীরা কখনো পুরোপুরি অতীত হয়ে যায় না।
তাই নজরুলকে শুধু মুখস্থ করার মানুষ হিসেবে দেখলে ভুল হবে।
তাকে অনুভব করতে হয়।
কারণ তিনি শুধু কবি ছিলেন না।
তিনি ছিলেন একাই একটা ঝড়।
যে ঝড় আজও মানুষের ঘুম ভাঙাতে পারে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।