যোগ্যতার খোঁজ
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী। জানুয়ারি ০৫, ২০২৬
বিঃদ্রঃ @Sharmin Jahan আপুর পোস্টের সামান্য একটু বিশ্লেষণের চেষ্টা করলাম।
আমার শহরটা ছোট, কিন্তু এখানকার সমস্যাগুলো বোধহয় সব শহরেরই এক। এখানে একটা ছেলে ছিল—নাম রাজা। পড়াশোনায় ভালো, মাথায় আইডিয়া ভর্তি, কাজের প্রতি নিষ্ঠা আছে। কিন্তু যেখানে বড় দায়িত্বের জায়গা, সেখানে সবসময় অন্যরকম লোক বসে থাকে। যারা কথায় মিষ্টি, চেনা-জানা বেশি, তদবিরে পারদর্শী। রাজা দেখত, যারা সত্যিকারের কাজ পারে, তারা চুপচাপ কোণে বসে থাকে। আর যারা পদে বসে, তারা বেশিরভাগ সময় নিজেদের নাম পত্রিকায় দেখার জন্য ছুটোছুটি করে।
একদিন আমি আর রাজা পুরোনো চায়ের দোকানে বসে ছিলাম। সামনে খবরের কাগজে বড় হেডলাইন—শহরের সবচেয়ে নামকরা স্কুলের নতুন প্রিন্সিপাল নিয়োগ হয়েছে। ছবিতে যে লোকটা হাসছে, তার শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা প্রায় নেই বললেই চলে। সে কথা বলতে পারে ভালো, লোক জড়ো করতে জানে, কিন্তু ক্লাসরুমে গেলে বাচ্চারা বোঝে না কী পড়াচ্ছে। রাজা চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে বলল, “দাদা, এভাবে চললে আমাদের পরের প্রজন্ম কী শিখবে?”
আমি বললাম, “ক্ষেপে লাভ নেই।” রাজা একটু চুপ করে থেকে বলল, “আমি ক্ষেপছি না। আমি ঠিক করেছি, নিজেকে এমন করে গড়ব যে একদিন ওরা নিজে থেকেই আমাকে খুঁজে নেবে।”
সেই থেকে রাজার দিন বদলে গেল। সকালে উঠে বই পড়া শুরু করল। অনলাইনে কোর্স করতে লাগল। নতুন স্কিল শিখল—প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, ডাটা অ্যানালাইসিস, এমনকি পাবলিক স্পিকিংও। লোকে বলত, “এত পড়াশোনা করে কী হবে? চাকরি তো তদবিরে হয়।” রাজা হাসত আর বলত, “যে চাকরি তদবিরে হয়, সেখানে গিয়ে আমি কী করব? আমি আমার কাজ দিয়ে জায়গা করে নেব।”
কয়েক মাস পর শহরে একটা বড় প্রজেক্ট এলো—একটা কমিউনিটি সেন্টার বানানোর। অনেকে আবেদন করল। কিন্তু সিলেকশন কমিটির লোকেরা রাজার প্রোফাইল দেখে থ। ছেলেটা নিজে থেকে এত কিছু শিখেছে! শেষে তাকে টিম লিডার করে দেওয়া হলো। যারা আগে বড় বড় কথা বলত, তারা চুপ করে গেল। কারণ প্রজেক্ট শুরু হওয়ার পর দেখা গেল—কাজ ঠিক সময়ে হচ্ছে, বাজেটের মধ্যে হচ্ছে, আর মানুষ খুশি।
প্রজেক্টের উদ্বোধনের দিন একটা ছোট মেয়ে রাজার কাছে এসে বলল, “আঙ্কল, আমি বড় হয়ে কী হবো জানি না। সবাই বলে আমি কিছুই পারি না।” রাজা হাঁটু গেড়ে বসে বলল, “দেখ বোন, কেউ জন্ম থেকে সব পারে না। তুই প্রতিদিন একটু একটু করে শিখ। যেটা পারিস না, সেটা শিখতে থাক। একদিন দেখবি, যারা তোকে ছোট করত, তারাই তোর কাজ দেখে মুগ্ধ হবে।”
আজ রাজার শহরে অনেক কিছু বদলাচ্ছে। নতুন ছেলেমেয়েরা আর তদবিরের পথ খোঁজে না। তারা বই খুলে বসে। ল্যাপটপে কোর্স করে। কারণ তারা দেখেছে, একটা সাধারণ ছেলে নিজের পরিশ্রম দিয়ে কতদূর যেতে পারে।
আমি যখন এই গল্পটা লিখছি, তখন মনে হচ্ছে—জীবনে যখন মনে হয় অযোগ্যরা সব জায়গা দখল করে আছে, তখন ক্ষোভে সময় নষ্ট করার দরকার নেই। নিজের যোগ্যতা বাড়াও। নিজের কাজে এতটা ভালো হয়ে যাও যে একদিন তারা নিজেরাই তোমাকে জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।
আরেকটা কথা মনে রাখা দরকার—নিজের সীমা চিনে কাজ করা। সবাইকে হ্যাঁ বলে গেলে নিজের সামর্থ্য ছাড়িয়ে যাওয়া হয়। ফলাফল হয় উল্টো। রাজা যেমন শিখেছে, যেটুকু পারো, সেটা পুরো মন দিয়ে করো। বাকিটায় না বলতে শিখো। এটাই আসল শক্তি।
যোগ্যতা কখনো মিথ্যে বলে না। এটা ধীরে কাজ করে, কিন্তু যখন কাজ করে, তখন স্থায়ী হয়। আজ থেকে যদি তুমি নিজের যোগ্যতা গড়ায় মন দাও, তাহলে একদিন দেখবে—তোমার চারপাশের পৃথিবীটা বদলে গেছে। আর তুমি নিজেও অন্য কারো জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছ।
#যোগ্যতার_শক্তি #পরিশ্রম_জয় #নিজেকে_গড়ে_তোলো #সততার_পথ #জীবনের_পাঠ #আত্মবিশ্বাস
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।