অস্বস্তিকর সত্য
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন |
বিশ্লেষণধর্মী। জানুয়ারি ০১, ২০২৬
আমি আজ সকালে উঠে চায়ের কাপ হাতে জানালার কাছে দাঁড়ালাম।
বাইরে হালকা কুয়াশা, নতুন বছরের নরম আলো।
মনে মনে ভাবছিলাম, এবার একটা নতুন শুরু।
আর দেরি নয়। কথাগুলো বলব যেগুলো বলতে গেলে গলা শুকিয়ে যায়।
কিন্তু সত্যি বলতে কি, ভিতরে একটা অস্বস্তি দানা বেঁধেছে।
আমি ভাবছি—আমি কি সত্যিই বদলাতে চাই?
আমরা সবাই প্রতিদিন সমাজ বদলাতে চাই বলে চিৎকার করি।
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিই, গ্রুপে আলোচনা করি, রাস্তায় মিছিলে হাঁটি।
কিন্তু রাতে বিছানায় শুয়ে নিজের সঙ্গে যখন প্রশ্ন করি—
“আমি নিজে কতটা বদলাতে রাজি?”—
উত্তর আসে না।
অথবা আসে, কিন্তু চুপ করে যায়।
এটা শুনতে খারাপ লাগবে।
আমরা নিজেদের ভালো মানুষ ভাবতে ভালোবাসি।
সমস্যা সবসময় অন্য কারো।
দুর্নীতি ওদের। অসততা ওদের।
আমরা শুধু বেঁচে থাকার জন্য ছোট্ট একটি “সুবিধা” নিই।
এতে কার কী ক্ষতি?
কিন্তু সেই ছোট্ট সুবিধাটাই আমাদের ভিতরে ফাঁক তৈরি করে।
ধীরে ধীরে সবকিছু ফাঁকা হয়ে যায়।
আমি নিজেও একদিন লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
সামনে একজন পরিচিত।
তিনি হাত নেড়ে বললেন, “এদিকে আয়।”
আমি গেলাম।
লাইনের সবাই চুপ করে তাকিয়ে রইল।
আমার ভিতরে ছোট্ট গর্ব—চালাক তো!
কিন্তু বাড়ি ফিরে আয়নায় চোখ দুটো অন্যরকম লাগল।
আমরা ভোট দিই না, কিন্তু সৎ নেতা চাই।
ঘুষ দিই না বলে গর্ব করি, কিন্তু “স্পিড মানি” ছাড়া কাজ হলে অবাক হই।
বলি, “সিস্টেম খারাপ।”
কিন্তু সিস্টেমটা আমরা।
আমাদের চুপ থাকা, আমাদের “এমনটাই চলে” ভাবা, আমাদের “আমি একা কী করব?”
মনোভাব—এসব মিলেই সিস্টেম দাঁড়িয়ে আছে।
আমার বাবা একবার বলেছিলেন—“অন্যায় দেখে চুপ থাকাটাও এক ধরনের অংশগ্রহণ।”
সেই কথা আজও বাজে কানে।
কতবার চুপ করে গেছি আমি?
আমি জানি, সমস্যা বড় দুর্নীতি নয়।
সমস্যা হলো ছোট ছোট আপস, যা আমরা নীরবভাবে করি। আর রাত শেষে নিজের সঙ্গে একা থাকি।
এই লেখা লিখতে গিয়ে হাত কাঁপছে। কারণ এটি শুধু আপনাদের জন্য নয়। এটি আমার জন্যও।
আমি নিজেকে বলছি—আর নয়। আজ থেকে না।
যদি কখনো মনে হয়—“একজন মানুষের পক্ষে কীই বা করা সম্ভব?”
তাহলে মনে রাখুন, একেকটা ছোট সৎ সিদ্ধান্ত একদিন বড় পরিবর্তনের ভিত তৈরি করে।
আমি জানি, এই অস্বস্তি সহ্য করা কঠিন।
কিন্তু এই অস্বস্তি ছাড়া আমরা কখনো বদলাতে পারব না।
আজ নতুন বছরের প্রথম দিনে আমি শুধু একটাই প্রশ্ন রাখছি—নিজের কাছে, নিজের ভিতরে:
আমি কি সত্যিই নিজেকে বদলাতে রাজি?
যদি উত্তর “হ্যাঁ” হয়—তাহলে শুরু হোক। শুরুটা আমার ভিতর থেকে, তোমার ভিতর থেকে।
একটা ছোট্ট পরিবর্তন, যা একদিন বড় দোল তৈরি করবে।
হয়তো কেউ এই প্রশ্নের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হবে।
#অস্বস্তিকর_সত্য #নিজেকেইপ্রশ্ন #আয়নায়দেখা #পরিবর্তনশুরুনিজেকে #সততা #মানুষহওয়া #নিরবতারদায় #নতুনশুরু #হৃদয়েরকথা #জাগরণ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।