Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

প্রেমাগ্নি (প্রেম, অনুভূতি ও মনস্তত্ত্ব)

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
6 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,246 পয়েন্ট)   12 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

প্রেমাগ্নি

(প্রেম, অনুভূতি ও মনস্তত্ত্ব)image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণমূলক গদ্য | 

২৩ অক্টোবর ২০২৬


বললাম, “হৃদয়ে এত উত্তাপ জমে কেন?”


সে একটু হেসে বলল, “প্রেমাগ্নি তো এমনই হয়।”


“কিন্তু আগুনে তো পুড়ে যাওয়ার কথা। মানুষ প্রেমে পড়লে এত আনন্দ পায় কীভাবে?”


সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “আনন্দ পায় বলেই হয়তো পোড়ার কথা ভুলে থাকে। আবার কখনো পোড়ার পরও আগুনটার কাছেই ফিরে যেতে চায়।”


আমি তার দিকে তাকালাম। কথাটা শুনে মনে হলো, সে যেন নিজের কোনো পুরোনো অভিজ্ঞতার কথা বলছে। জিজ্ঞেস করলাম, “তোমারও কি এমন হয়েছে?”


সে হেসে ফেলল। তবে হাসিটা বেশিক্ষণ থাকল না।


“হয়েছে কি না, সেটা এখন আর ঠিক করে বলতে পারি না। কিছু অনুভূতি আছে, যেগুলো একসময় খুব স্পষ্ট মনে হয়। পরে ফিরে তাকালে বোঝা যায়, ভালোবাসার সঙ্গে নিজের কল্পনাও মিশে ছিল অনেকটা।”


বললাম, “কল্পনা?”


“হ্যাঁ। মানুষটাকে যতটা চিনি, তার চেয়ে বেশি হয়তো নিজের মনে তাকে নিয়ে একটা ছবি এঁকে ফেলি। তারপর সেই ছবির সঙ্গে বাস্তব মানুষটার মিল খুঁজতে থাকি। কোথাও অমিল পেলেই কষ্ট হয়। অথচ দোষটা সব সময় অন্য মানুষেরও নয়।”


কথাটা অস্বীকার করতে পারলাম না। কাউকে ভালো লাগলে তার সামান্য কথাও মনে দাগ কাটে। একটা ছোট্ট বার্তা পেলে অকারণে হাসি আসে, আর উত্তর না পেলে বারবার ফোনের পর্দায় চোখ চলে যায়। যে মানুষটাকে একসময় নিজের জীবনের বাইরের একজন বলে জানতাম, ধীরে ধীরে তার আচরণই মনের ভেতর আবহাওয়া বদলে দিতে শুরু করে।


বললাম, “তাহলে প্রেম মানুষকে এত অস্থির করে কেন?”


সে বলল, “হয়তো তখন নিজের অনুভূতিগুলো আর একা নিজের থাকে না। অন্য একজন কী বলল, কী বলল না, কেন একটু চুপ করে রইল—এসবের মধ্যেও আমরা অর্থ খুঁজতে শুরু করি। কখনো সেই অর্থ সত্যি হয়, কখনো নিজের মনই বানিয়ে নেয়।”


“তাহলে কি ভালোবাসার মধ্যে সব সময় একটা ভয় কাজ করে?”


সে মাথা চুলকে বলল, “সবার ক্ষেত্রে জানি না। তবে হারানোর ভয়টা আমার কাছে অদ্ভুত লাগে। কাউকে হারানোর আগেই আমরা কখনো কখনো তাকে হারানোর কষ্ট পেতে শুরু করি। মানুষটা তখনো পাশে আছে, অথচ মনে মনে তার চলে যাওয়ার দৃশ্যও তৈরি করে রাখি।”


আমি বললাম, “তবু যদি সে চলে যায়?”


সে এবার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল না। ঘরের ফ্যানটা ঘুরছিল একটানা। সেই শব্দের ফাঁকে আমাদের দুজনের নীরবতাও যেন স্পষ্ট হয়ে উঠল।


কিছুক্ষণ পর সে বলল, “চলে গেলে কষ্ট হবে। হয়তো অনেক দিন হবে। কিন্তু কাউকে ধরে রাখার জন্য নিজের মনের সব দরজা তার হাতে তুলে দিতে হবে কেন? সে থাকতে চাইলে থাকবে, না চাইলে হয়তো যাবে। এই কথাটা মুখে বলা সহজ, মেনে নেওয়া কঠিন।”


আমি বললাম, “তুমি কি মেনে নিতে পেরেছ?”


সে একটু হেসে বলল, “সবকিছু কি আর পেরেছি? কিছু নাম শুনলে এখনো থেমে যাই। কিছু পুরোনো কথা মনে পড়লে ভাবি, সেদিন অন্যভাবে বললে কি কিছু বদলাত? তারপর আবার নিজের কাজ করতে বসি। জীবন তো সব প্রশ্নের উত্তর না পেয়েও চলতে থাকে।”


তার কথায় কোনো উপদেশ ছিল না। বরং মনে হলো, সেও নিজের ভেতর থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি। শুধু কিছু ব্যথার সঙ্গে বসবাস করতে শিখেছে।


বললাম, “তাহলে এই যে হৃদয়ের ভেতর এত উত্তাপ, এত অস্থিরতা—এর শেষ কোথায়?”


সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “জানি না। হয়তো সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। যে অনুভূতি একসময় সারাদিন জুড়ে থাকত, একদিন সেটা ব্যস্ত দুপুরে হঠাৎ মনে পড়ে। যে অপেক্ষায় রাত কাটত, পরে তার কথা মনে পড়লেও ঘুম নষ্ট হয় না। তবে কিছু অনুভূতি পুরোপুরি চলে যায় কি না, তা আমি বলতে পারব না।”


আমি আর প্রশ্ন করলাম না।


কখনো কখনো মানুষের কাছে উত্তর চাইতে গিয়ে বোঝা যায়, তার কাছেও সব উত্তর নেই। তবু তার কথার ভেতর নিজের অচেনা অনুভূতির একটা ছায়া খুঁজে পাওয়া যায়। হয়তো সেই কারণেই প্রেমের গল্প বারবার বলা হয়। মানুষ নতুন কোনো উত্তর পায় বলে নয়, নিজের না-বলা কথাগুলো অন্য কারও মুখে শুনতে পায় বলে।


ঘরের ফ্যান তখনো ঘুরছিল। বাইরে থেকে কোনো শব্দ আসছিল না।


আমি মনে মনে প্রথম প্রশ্নটিই আবার করলাম—হৃদয়ে এত উত্তাপ জমে কেন?


এবার মনে হলো, সব আগুনের ব্যাখ্যা খুঁজতে নেই। কিছু আগুনের নাম জানা যায়, তার আঁচও টের পাওয়া যায়, অথচ কোথা থেকে তার শুরু, তা আর মনে থাকে না।


শুধু কোনো এক নির্জন মুহূর্তে পুরোনো একটা নাম মনে পড়ে যায়। বুকের ভেতর সামান্য কেঁপে ওঠে কিছু একটা।


হয়তো প্রেমাগ্নি এমনই।


নিভে গেছে ভেবে যাকে ভুলে থাকি, তার সামান্য স্মৃতিতেই বুঝতে পারি—কোথাও একটু তাপ এখনো রয়ে গেছে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 4 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1447 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29246। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5058
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
পদচিহ্ন (জীবন, সাফল্য ও মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা |  ২৩ অক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সরে গেলেই চেনা যায় (সম্পর্ক ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণ÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
না বলার অপরাধ (নারী, পরিবার ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিজের জীবন, নিজের ভয় (নারী, পরিবার ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্ল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
9 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বিচার দিতে গিয়ে (দাম্পত্য, পরিবার ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1642 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    10 মন্তব্য

    81 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    65 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...