Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যে মানুষটা শব্দ দিয়ে বিদ্রোহ শিখিয়েছিল

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
414 বার প্রদর্শিত
করেছেন (22,580 পয়েন্ট)   25 মে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

 

যে মানুষটা শব্দ দিয়ে বিদ্রোহ শিখিয়েছিল
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী । ২৫ মে, ২০২৬

image

কিছু মানুষ সময়ের ভেতরে বাঁচে।
আর কিছু মানুষ সময়কে নাড়িয়ে দিয়ে যায়।

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন দ্বিতীয় দলের মানুষ।
তিনি শুধু কবি ছিলেন না।
তিনি ছিলেন একসাথে মসজিদের আজান আর লেটো দলের ঢোল।
এক হাতে বিদ্রোহ, অন্য হাতে ভালোবাসা।

এই কারণেই তাঁকে এক নামে মনে রাখা যায় না।

১৮৯৯ সালের ২৫ মে পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া “দুখু মিয়া” ছোটবেলা থেকেই জীবনের কঠিন মুখ দেখেছেন।
মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ করেছেন, মক্তবে পড়িয়েছেন, রুটির দোকানেও কাজ করেছেন।

আজকের ভাষায় বললে —দিনে বেঁচে থাকার লড়াই, রাতে স্বপ্ন দেখার সাহস।

কিন্তু এখানেই নজরুল আলাদা।

যে ছেলেটা সকালে আজান দিচ্ছে, সেই ছেলেই বিকেলে লেটো দলে গান লিখছে।
হিন্দু পুরাণ পড়ছে। নাটক করছে। কবিতা লিখছে।

নজরুলকে একটা নদীর সঙ্গে তুলনা করা যায়।
যে নদী পথে যত সংস্কৃতি পেয়েছে, সব নিজের ভেতরে টেনে নিয়েছে।

১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
করাচি সেনানিবাসে বসেই তাঁর সাহিত্যচর্চা আরও গভীর হয়।
রবীন্দ্রনাথ পড়ছেন, হাফিজ পড়ছেন, গান লিখছেন, কবিতা লিখছেন।

তারপর পাঁচ বছর কেটে গেল।

১৯২২ সালে এল সেই বিস্ফোরণ — “বিদ্রোহী”।

“বল বীর —
আমি চির উন্নত শির!”


এই কবিতা শুধু সাহিত্য ছিল না।
এটা ছিল শিকল ভাঙার শব্দ।

ব্রিটিশ সরকারও বুঝেছিল ব্যাপারটা।
কারণ কখনো কখনো একটা কবিতা বন্দুকের চেয়েও বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।

ধর্ম নিয়েও নজরুল ছিলেন ব্যতিক্রম।

তিনি মুসলিম ছিলেন।
কিন্তু শুধু মুসলিমদের কবি ছিলেন না।

তিনি কালী নিয়ে শ্যামা সংগীত লিখেছেন।
আবার ইসলামী গজলেও নতুন সুর এনেছেন।

তিনি বলেছিলেন—
“আমি হিন্দু-মুসলমানকে এক জায়গায় এনে হাত মেলানোর চেষ্টা করেছি।”

আজকের পৃথিবীতে এই কথাটা আরও বড় হয়ে শোনায়।

কারণ আমরা এখনও বিভক্ত হতে শিখছি।
আর নজরুল তখনই মানুষকে পাশাপাশি দাঁড়াতে শেখাচ্ছিলেন।

নজরুলের জীবন শুধু বিদ্রোহে ভরা না।
ভালোবাসাও ছিল গভীর।

প্রমীলা দেবীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল সংগ্রামময়, কিন্তু আন্তরিক।
সংসার, অসুস্থতা, দারিদ্র্য — সব একসাথে এসেছে জীবনে।

১৯৪২ সালে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লেন তিনি।
ধীরে ধীরে হারালেন বাকশক্তি।
তারপর স্মৃতি।
তারপর নীরবতা।

যে মানুষ শব্দ দিয়ে ঝড় তুলত,
শেষ জীবনে সেই মানুষটাই চুপ হয়ে গেলেন।

এ যেন মাঝপথে থেমে যাওয়া এক পিয়ানো।

চিকিৎসার জন্য তাঁকে ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় নেওয়া হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা জানান, মস্তিষ্কের এক বিরল রোগ তাঁর শব্দের ঘরটাই ধীরে ধীরে তালাবন্ধ করে দিচ্ছে।

১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ তাঁকে নিজের কাছে নিয়ে আসে।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশেষ উদ্যোগে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসেন।

১৯৭৬ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সমাধিস্থ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে।

কারণ তিনি নিজেই লিখেছিলেন—

“মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিয়ো ভাই...”

আজও তাঁর কবিতা মিছিলে উচ্চারিত হয়।
তাঁর গান রেডিওতে বাজে।
তাঁর লেখা প্রেমিকও পড়ে, প্রতিবাদকারীও পড়ে।

এই কারণেই নজরুল শুধু একজন কবি নন।

তিনি এক ধরনের শক্তি।
একটা অস্থির, সাহসী, মানবিক শক্তি — যে শক্তির নাম নজরুল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1118 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 22580। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3929
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলা গল্প-৪ যে মানুষটা আমাকে চিনত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প [...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 অন্ধকারের আগে যে মানুষটা ছিল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।মে ০৭, ২০২৬ সারাদিনে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
348 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
কাজী নজরুলের ধর্ম-বিদ্রোহ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন নিবন্ধ। এপ্রিল ০৩, ২০২৬ কাজী নজরু&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
31 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শান্তি না বিদ্রোহ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। মার্চ ২৮,২০২৬ রবীন্দ্র÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
442 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 যে চিঠিগুলো কখনো শেষ হয় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। মে ১২, ২০২৬ রঞ্জন &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
425 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1111 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    55 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. রাতিন আহমেদ

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...