Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যে রাতে বাবা কাঁদেনি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
524 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,290 পয়েন্ট)   23 নভেম্বর 2025 "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

যে রাতে বাবা কাঁদেনিimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প  ⋄ ২৪ নভেম্বর ২০২৫


আমাদের বাড়িটা মিরপুর ১২-এর একটা গলির ভেতর। টিনের চালে বৃষ্টি পড়লে এমন শব্দ হয়, যেন কেউ পুরো রাত ধরে দরজায় ধাক্কা মারছে। বাবা বলতেন, “এই শব্দটা শুনলে ঘুম ভেঙে যায়, কিন্তু মনটা জেগে থাকে।”


গত পরশু রাতে আমি কলেজ থেকে ফিরে দেখি বাবা দাওয়ায় বসে। পায়ের কাছে একটা প্লাস্টিকের ব্যাগ। ভেতরে দুটো পুরনো শার্ট আর একটা ছেঁড়া প্যান্ট। বাবা বললেন,  

“আজ অফিস থেকে ছেড়ে দিয়েছে। বলল, বয়স হয়েছে। আর পারব না।”


বাবার বয়স মাত্র ৫৫ বছর। কিন্তু চোখের নিচে কালি এত গাঢ় যে মনে হয় ৮০  পেরিয়েছে।তার পর আবার প্রচন্ড অসুস্থ। হার্টের জটিল রোগে আক্রান্ত।


আমি পড়ি বিবিএ চতুর্থ সেমিস্টারে। পরীক্ষা আর কদিন পরে। ফি বাকি বারো হাজার সাতশো টাকা। বাসায় আছে দুই হাজার দুশো। বাকিটা কোথায় পাব জানি না।


কাল সকালে বাবা বেরিয়ে গেলেন। বললেন, “দুপুরের মধ্যে আসব।”  

এলেন রাত সাড়ে দশটায়। হাতে একটা ছোট্ট পলিথিন। ভেতরে ছয় হাজার আটশো টাকা। সব কুড়ি-পঞ্চাশের নোট। কয়েকটা দশ টাকারও আছে। একদম ঘামে ভিজে গেছে।


আমি জিজ্ঞেস করলাম, 

“বাবা, এত টাকা কোথায় পেলে?”  

বাবা চুপ করে রইলেন। তারপর ধরা গলায় বললেন, 

আমার পরিচিত অনেকের কাছে কাল ম্যাসেজ দিয়ে ছিলাম,সবাই দেখেছে কিন্তু কেউ জবাব দেয় নি। 


“আজ সারাদিন ধানমন্ডি থেকে মতিঝিল, মতিঝিল থেকে গুলশান… যাদের চিনি, যাদের চিনি না, সবার কাছে গিয়েছিলাম। কেউ দিয়েছে পঞ্চাশ, কেউ একশো। একজন বলল, ‘আঙ্কল, আমার কাছে আছে দুশো। নিয়ে যান।’ আমি নিইনি। বলেছি, ‘তোমার ছেলে পড়ে। রাখো।’”


বাবা থামলেন। তারপর আস্তে আস্তে বললেন,  

“একজন বলল, ‘আপনি তো এককালে আমার বাবার বস ছিলেন।’ তারপর পকেট থেকে পাঁচশো টাকার একটা নোট বের করে দিল। আমি নিতে চাইনি। সে জোর করে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘আপনি আমার বাবাকে একদিন চাকরি দিয়েছিলেন। আজ আমি আপনার মেয়েকে পড়ার সুযোগ দিচ্ছি।’”


বাবা আর বলতে পারলেন না। আমি দেখলাম, বাবার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে না। কিন্তু গাল বেয়ে যেন একটা নদী বইছে। আমি প্রথমবার বুঝলাম—পুরুষ মানুষ কাঁদে না বলে কথা নেই। 

কাঁদে, শুধু চোখের বদলে বুক দিয়ে।


আমি বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম। বললাম,  

“বাবা, আর কক্ষনো কারো কাছে যাবে না। আমি পড়া ছেড়ে দেব। চাকরি করব।”  

বাবা আমার মাথায় হাত রেখে বললেন,  

“না। 

তুই পড়বি। আমি আরেকটু হাঁটব। আর মাত্র কয়েকটা মাস। তারপর তুই যখন চাকরি করবি, আমি বাড়িতে বসে তোর জন্য চা বানাব।”


আজ সকালে আমি কলেজে গিয়ে ফি জমা দিয়ে এসেছি। রসিদটা হাতে নিয়ে বাবার কাছে গেলাম। বাবা দাওয়ায় বসে ছিলেন। রসিদ দেখে কিছু বললেন না। শুধু আমার হাতটা ধরে অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন।


আমি বাবার হাতে সেই ছয় হাজার আটশো টাকা ফেরত দিতে গেলাম। বাবা নিলেন না। বললেন,  

“রাখ। এটা তোর প্রথম বেতনের টাকা। আমি আর নেব না।”


তোমরা যারা এখনো বাবা-মায়ের হাতে টাকা গুঁজে দাওনি, যারা এখনো বাবাকে বলোনি 

“তুমি আর হাঁটবে না, আমি আছি”,  


একদিন বাবা আর হাঁটতে পারবে না।  

সেদিন যেন তোমার হাতে টাকা থাকে।  

যেন তুমি বলতে পারো—  

“বাবা, এবার তুমি বসো। আমি দাঁড়াব।”


আমি আজ থেকে দাঁড়িয়েছি। তোমরাও দাঁড়াও।যতদিন বাবা বেঁচে আছেন।


শেয়ার করো। যদি তোমার বাবা এখনো বেঁচে থাকেন আজই তাকে জড়িয়ে ধরো।  

বলো, “বাবা, এবার আমি আছি।”


#যে_রাতে_বাবা_কাঁদেনি  

#বাবার_হাতে_ঘাম_ভেজা_টাকা  

#আমি_দাঁড়িয়েছি  

#তুমিও_দাঁড়াও  

#বাবা_আর_হাঁটবে_না

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1252 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25290। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1548
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
           যে রাতে শৈশব কেঁপে উঠেছিলো                     — রফিক আতা — দূরন্ত এক স্মৃতি। আবছা আ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
125 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবা দূরের নির্জন গ্রহে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   গদ্যকবিতা। ডিসেম্বর ১২,২০২৫  আমা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
497 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
প্রত্যাশার সীমা: বাবা-মায়ের আর সন্তানের চোখে মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
459 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

পরির বাবার ডায়েরি: যখন মেয়ে চুপ করে যায়, বাবা জেগে ওঠে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
219 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে শৃঙ্খলা মানুষ বানায় না মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্নী |  ডিসেম্বর ২১, ২০[...] বিস্তারিত পড়ুন...
466 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1456 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    72 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Mayabi Ilmaz Megh

    81 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...