Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নীরবতার দায়

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
456 বার প্রদর্শিত
করেছেন (30,112 পয়েন্ট)   08 জুন "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

 নীরবতার দায়image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

গল্পধর্মী প্রবন্ধ। ৯ জুন, ২০২৬


বিকেলের শেষ ফেরিটা তখন ঘাট ছাড়বে। হঠাৎ একটা মেয়ের কান্নার শব্দ কানে এলো। শব্দটা এমন ছিল যে না তাকিয়ে থাকা যায় না।


তাকিয়ে দেখি, নৌকার পাটাতনে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পিঠে স্কুলব্যাগ। চুলে লাল ফিতা বাঁধা। কাঁদতে কাঁদতে বারবার বলছে, “আমি যাব না... আমি যাব না...”


আমি পাশে দাঁড়ানো একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, “কোথায় যাবে না?”


লোকটা যেন খুব সাধারণ একটা কথা বলছে, এমন ভঙ্গিতে উত্তর দিল, “শ্বশুরবাড়ি।”


আমি আর কিছু বলিনি।


মেয়েটার কাঁধে তখনও স্কুলব্যাগ। অথচ সে স্কুলে যাচ্ছে না। এই দৃশ্যটা কেন জানি মাথা থেকে নামেনি।

আজও না।


কারণ আমি জানি, এই দেশে এমন মেয়ের সংখ্যা এক-দুইজন না। অনেক মেয়ের শৈশব শেষ হয় ঠিক এভাবেই। একদিন বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যায়, আরেকদিন হঠাৎ সবাই ঠিক করে ফেলে তার বিয়ে হবে।


আমরা সাধারণত এসব ঘটনার পর আইনের কথা বলি। কিন্তু আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, শুধু আইন দিয়ে কি আসলেই এই সমস্যার শেষ হবে?


এই প্রশ্নটা মাথায় আসার একটা কারণ আছে।


আমার এক চাচাকে ছোটবেলা থেকে ধূমপান করতে দেখেছি। বাজারে, রাস্তার পাশে, চায়ের দোকানে—কোথায় না। কিন্তু একটা জিনিস কখনও দেখিনি। নিজের ছেলের সামনে তাকে সিগারেট ধরাতে।


কেউ তাকে নিষেধ করত না। পুলিশও না।

তবু করত না।

কারণ সে জানত, এটা সন্তানের জন্য খারাপ।


ব্যাপারটা আমাকে এখনও ভাবায়। অনেক সময় মানুষ আইনকে ফাঁকি দেয়, কিন্তু নিজের বিবেককে ফাঁকি দিতে পারে না। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রেও সমস্যাটা অনেকটা এমন।


কারণ বিয়ের সিদ্ধান্ত আদালতে বসে হয় না। হয় ঘরের ভেতরে। হয় আত্মীয়স্বজনের কথায়। হয় লোকলজ্জার ভয়ে।


অনেক বাবা-মা এখনও মনে করেন মেয়েকে দ্রুত বিয়ে দিতে পারলেই দায়িত্ব শেষ। কেউ ভাবেন এটাই নিরাপদ। কেউ ভাবেন, মেয়েকে বেশিদিন ঘরে রাখলে মানুষ কথা বলবে। সমস্যা হলো, এই বিশ্বাসগুলোকে আইন দিয়ে পুরোপুরি বদলানো যায় না।


কয়েক বছর আগে হলে হয়তো আমি কথাটা এত গভীরভাবে বুঝতাম না। কিন্তু আমার বড় বোন শেফালিকে দেখার পর বুঝেছি।


আপু পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। আমার চেয়ে ভালো। বই নিয়ে বসলে চারপাশের কিছুই যেন শুনত না। নতুন বইয়ের গন্ধ পেলে তার চোখ চকচক করত। তারও স্বপ্ন ছিল।


কিন্তু একসময় বিয়ের কথা উঠল।


আজও একটা দৃশ্য মনে আছে। বিয়ের আগের দিন।

আপু অনেক কেঁদেছিল। কেউ তাকে মারেনি। কেউ গালিও দেয়নি।


তবু সে কাঁদছিল।

কারণ তার কথা কেউ শুনছিল না।


রাতের দিকে আমাকে ডেকে বলেছিল,

“তুই পড়াশোনা ছাড়িস না।”

তখন কথাটার মানে বুঝিনি।

এখন বুঝি।


একটা মেয়ের কান্না সবসময় চোখের পানি না। অনেক সময় সেটা তার ভবিষ্যতের জন্য শেষ চেষ্টা।


আমাদের সমাজে সমস্যা এখানেই। আমরা প্রায়ই মেয়েদের জন্য সিদ্ধান্ত নিই, কিন্তু তাদের মতামত শুনি না। আমরা তাদের নিয়ে চিন্তা করি, কিন্তু তাদের কথা শুনে চিন্তা করি না।


ফারাকটা খুব ছোট মনে হয়।

আসলে ছোট না।

খুব বড়।


কারণ একটা মেয়ের জীবন বদলে যায় এই ফারাকের মাঝখানেই।


আইন আছে। থাকা দরকার। কিন্তু আইন একা কোনো সমাজ বদলায় না। সমাজ বদলায় তখন, যখন একজন বাবা মেয়ের ভয়টা বুঝতে শেখেন। যখন একজন মা মেয়ের স্বপ্নটাকে নিজের স্বপ্নের মতো গুরুত্ব দেন। যখন মানুষ অন্যায়ের পাশে দাঁড়ানো বন্ধ করে।


আমি জানি না ফেরিঘাটের সেই মেয়েটার কী হয়েছিল। ফেরিটা সেদিন ছেড়ে গিয়েছিল। মানুষজনও যার যার কাজে চলে গিয়েছিল।


কিন্তু মেয়েটার কান্নাটা রয়ে গেছে। কমপক্ষে আমার কাছে।


আর সেই কান্না আমাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়— বাল্যবিবাহ শুধু আইনের ব্যর্থতা না, আমাদের নীরবতারও।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1490 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 30112। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4040
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
পরামর্শ বনাম দায় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ১৭ অক্টোবর ২০২৬ পঞ্চাশ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
23 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
রাখীর দায় শুভ রাখীবন্ধন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ২৭ আগষ্ট, ২০২৬ রাখ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
54 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরবতার দায় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্যকবিতা। জানুয়ারি ১৪,২০২৬ চল, সব ভুল আমারই ছিল&md[...] বিস্তারিত পড়ুন...
517 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে সত্যটি বললে সংসার ভেঙে যাবে (সম্পর্ক, সত্য ও নীরবতার মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ ø[...] বিস্তারিত পড়ুন...
14 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

"আমি তোরই ছায়া" আল-আমিন (আলো) চুপচাপ সন্ধ্যা নামে জানালার কাচে, কেউ নেই ডাকে,কেউ নেই কাছে।  হাওয়ারও শব্দ আজ থেমে আছে বুকে, যেন কারো স্পর্শ ছিল হারিয়ে গেছে সুখে। ঘরভর্তি নিঃশ্বাস, তবু শূন্যতা ব�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
56 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2508 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    12 মন্তব্য

    124 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    393 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    19 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মিস্টার পেন্সিল

    252 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...