অসীম অপেক্ষা
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী। জানুয়ারি ১৪,২০২৬
সব ব্যস্ততা কি সত্যিই ব্যস্ততা?
নাকি কিছু মানুষকে এড়িয়ে যাওয়ার অজুহাত?
একটা ফোন কল, একটা ছোট মেসেজ। এমন ছোটো জিনিসও কারো সারাদিনের ভরসা হয়ে যায়।
যে মানুষটি আপনার জন্য অপেক্ষা করে—সে কিন্তু বেশি কিছু চায় না। শুধু একটু গুরুত্ব চায়।
প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে মনে পড়ে তার কথাগুলো, হেসে ওঠা মুহূর্তগুলো, ছোট ছোট আঙ্গিকের ছোঁয়া।
আপনি জানেন, সে আর কখনো ফিরবে না,
তবুও মনে থাকে—শুধু একটি বার্তা, একটি ফোন কল, আর সব কিছু ঠিক হয়ে যেতে পারে।
ঘড়ির কাঁটা ঘোরে, ঋতু বদলায়, মানুষ বদলায়।
কিন্তু এই অপেক্ষার ভার ক্রমে বাড়ে।
হয়তো আমরা চাই না, হয়তো ভয় পাই—তাকে হারানোর বাস্তবতা মেনে নিতে।
অসীম এই অপেক্ষা আসলে আমাদের নিজের ভেতরের নিঃশব্দ আশা।
কখনো আশায়, কখনো অভ্যাসে, কখনো শুধু শূন্যতা ভরাট করার জন্য আমরা অপেক্ষা করি।
একটা মেসেজের প্রতীক্ষা, একটি ফোন কলের অপেক্ষা—এই ছোটো অঙ্গগুলোই হয়ে ওঠে দিনের ভরসা। কিন্তু অনেক সময় আসে, মানুষ বুঝতে পারে—এই অপেক্ষা শুধুই নিজের জন্য।
যে মানুষটির জন্য আমরা অপেক্ষা করি, সে হয়তো আমাদের বোঝে না।
সে হয়তো জানে না, কেউ তাকে স্মরণ করছে, কেউ তাকে চায়।
তবুও আমরা অপেক্ষা করি, আমাদের চোখে অদৃশ্য এক গল্প লেখা থাকে—একটি গল্প যা কেউ পড়ে না।
সম্পর্কের বাস্তবতা অনেক সময় নীরব। যে মানুষ পাশে নেই, সে হয়তো অন্য পথে চলে গেছে।
কিন্তু আমাদের হৃদয় সে পথে হাঁটতে চায় না।
আমরা দাঁড়িয়ে থাকি, প্রতীক্ষা করি, এবং কখনো কখনো সেই অপেক্ষায় নিজের জীবনও বিলিয়ে দেই।
অপ্রকাশিত ভালোবাসা, অসমাপ্ত স্বপ্ন, নীরব আক্ষেপ—সবই এই অপেক্ষার সঙ্গে মিশে যায়।
একটি হাসি, একটি দৃষ্টিতে ভরসা খুঁজে পাওয়া—এটাই আমাদের প্রতিদিনের ছোট আনন্দ।
অসীম এই অপেক্ষা আমাদের শিখায়,
যে আমরা কখনো কেবল অন্যের জন্য বাঁচি না,
আমরা নিজেদের জন্যও বাঁচি, আমাদের ভালোবাসার জন্যও।
এই অপেক্ষা কখনো ব্যর্থতা নয়। এটি শক্তি, সহনশীলতা, এবং অনুভূতির গভীরতা।
যে মানুষটি অপেক্ষা করতে জানে, সে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আরও গভীরভাবে বোঝে।
একটি মেসেজ বা ফোন কল না এলে হতাশা হয়, কিন্তু ধীরে ধীরে আমরা বুঝতে শিখি—অপেক্ষার শক্তি নিজের ভেতরেও থাকতে পারে।
কখনো কখনো, এই অপেক্ষা হয় নীরব শিক্ষার মতো।
আমরা শিখি, শুধু ভালোবাসা যথেষ্ট নয়।
শিখি, কখনো কোনো সম্পর্ককে ধরার চেষ্টা নয়,
শিখি, নিজের অনুভূতিকে শক্ত করে রাখা—কখনো অনেক বড় প্রাপ্তি।
তাই, “অসীম এই অপেক্ষা কার জন্য?”
হয়তো কেউ নেই, হয়তো শুধু আমরা নিজেদের জন্য অপেক্ষা করছি।
এই অভ্যাস, এই নীরব অপেক্ষা—আমাদের হৃদয়কে জাগ্রত রাখে, আমাদের অনুভূতিকে সতেজ রাখে, এবং আমাদের শেখায়—ভালোবাসা মানে সবসময় পাওয়া নয়, ধৈর্য ধরে থাকা।
শেষমেষ আমরা স্বীকার করি—অসীম এই অপেক্ষা কার জন্য, সেটা হয়তো কেবল আমাদের নিজের জন্য।
আমরা শিখি অপেক্ষার মূল্য, শিখি নীরব ভালোবাসার শক্তি,
শিখি, যে মানুষ চলে গেলেও তার স্মৃতিতে বেঁচে থাকা যায়।
যে মানুষ চলে গেছে, তবুও স্মৃতিতে বাঁচে,আপনি কি কখনও তার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন?
#অসীম_অপেক্ষা
#নীরব_ভালোবাসা
#অসমাপ্ত_প্রেম
#মনছোঁয়া_লেখা
#ধৈর্য_এবং_শক্তি
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।