বেঁচে থাকা ২০২৫
মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী। ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
২০২৫—একটা বছর যা আমাকে নিজের সীমারেখা দেখিয়েছে।
আমি কি সত্যিই বদলেছি, নাকি কেবল ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো উল্টেছি?
প্রতিটি দিন যেন আমাকে চ্যালেঞ্জ করেছে—একদিকে হার্টের জটিল সমস্যা, যার কারণে বেশির ভাগ সময়ই থাকতে হয়েছে সরকারি হাসপাতালে, জায়গা হয়েছে কখনও রুমে কিংবা হাসপাতালের বারান্দায়। কখনও আবার বেশি মাত্রায় অসুস্থ হলে ঠাঁই হয়েছে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিসিইউতে।
এক দিকে শারীরিক সমস্যা, কর্মহীনতা, সংসারের চাপ, মেয়ে দুটির পড়াশুনা সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল কেটেছে শারীরিক, মানসিক এবং আবেগিকভাবে।
আমার চোখে ২০২৫ ছিল আমার বেঁচে থাকার যুদ্ধ।
যুদ্ধ শুধু সময়ের সঙ্গে নয়, প্রতিটি মুহূর্তের সাথে—আমার ভেতরের ভয়, দ্বিধা, ব্যর্থতা আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে।
কিছু দিন আমাকে শক্ত করেছে, কিছু দিন আমাকে ভেঙে দিয়েছে।
আমি শিখেছি—কোনো কিছুই সহজে আসে না।
এবং যে শক্তি মনে করতেও ভয় লাগত, সেই শক্তিই আমাকে টিকতে শিখিয়েছে।
এই বছর আমাকে দেখিয়েছে, জীবনের বাস্তবতা কখনো কোমল নয়।
আমার পরিকল্পনা যতই নিখুঁত হোক,
প্রকৃতি, অর্থনীতি, সম্পর্ক—সবই আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
আমি বুঝেছি, সব সময় ঠিক থাকাটাই সবচেয়ে বড় মিথ্যা।
বাঁচা, নিজের জায়গা খুঁজে পাওয়া, আবার উঠে দাঁড়ানো—এটাই আসল জয়।
২০২৫ সালে আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি আমার সে সব বন্ধুদের, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ আমাকে সময়ের সাথে লড়াই করতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তাদের ঋণ এ জীবনে শোধ করার নয়। শুধু বলব, আল্লাহ যেন তাদের উত্তম প্রতিদান প্রদান করেন।
২০২৫ আমাকে মানসিক সহিষ্ণুতার মূল্য শিখিয়েছে।
যখন মনে হয়েছে, সব কিছু থেমে গেছে,
আমি নিজেকে নতুনভাবে টানতে শিখেছি।
হয়তো কিছু সম্পর্ক ভেঙেছে, হয়তো নতুন বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়েছে।
কিন্তু সব কিছুই আমাকে শক্ত করেছে,
আমার ভেতরের এক অদৃশ্য চেতনা বারবার বলে দিয়েছে—“তুমি পারবে। তুমি বাঁচবে।”
এবং এই বছর আমাকে দেখিয়েছে, অসহায়ত্বের অনুভূতি কত গভীর হতে পারে। আমি দেখেছি কত বন্ধুর নিষ্ঠুর আচরণ।
সমস্যার পাহাড় চোখের সামনে, সমাধান যেন নেই,
সেই ভয় আমাকে ভেঙে দিয়েছে—কিন্তু আবার গড়ে তুলেছে।
এতে আমি শিখেছি, প্রতিটি আঘাত আমাকে আরও মানবিক করেছে, আর প্রতিটি দুঃখ আমাকে বুঝিয়েছে—কী সত্যিই মূল্যবান।
২০২৫ আমাকে মনে করিয়েছে, জীবন একা নয়।
পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী—তাদের সঙ্গে আমি ঝড়ের মোকাবিলা করেছি।
আমি বুঝেছি কোন সম্পর্ক সত্যিই শক্তিশালী,
আর কোনটি সময়ের সঙ্গে ভেঙে যায়।
এবং সেই জ্ঞান আমাকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করেছে।
আমি শিখেছি—প্রত্যেকটি ক্ষতি, প্রত্যেক ব্যর্থতা, প্রত্যেক হারানো মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ সেখান থেকেই শুরু হয় পুনরুজ্জীবন।
আমি বেঁচে থাকতে শিখেছি না, বরং শিখেছি—প্রতিটি আঘাতকে শক্তিতে রূপান্তর করতে।
২০২৫ আমাকে মনে করিয়েছে, জীবন কোনো সরল রেখা নয়।
এটি বাঁক, উত্থান-পতন, অপ্রত্যাশিত ঝড়।
আমি হয়তো সব কিছু ঠিকভাবে করতে পারিনি,
কিন্তু যা করেছি, তা আমাকে আজ আরও শক্ত করেছে।
এই বছরের সবচেয়ে বড় শিক্ষা—সাফল্য শুধু অর্জনের নাম নয়।
সাফল্য হলো যুদ্ধে থাকা, ভয়কে চ্যালেঞ্জ দেওয়া, এবং প্রতিটি দিন জেগে থাকা।
এটাই আমার জন্য একক শব্দে সংজ্ঞা: Survival।
কারও শব্দ হতে পারে কারও সাহসের চাবিকাঠি।
#Survival2025 #বছরবদলায়মানুষকিবদলায় #নতুনশুরু #জীবনউপলব্ধি #হৃদয়েরকথা #আত্মসমালোচনা #নতুনশুরু #মানুষহওয়া #সময়বোধ #নববর্ষ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।