Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চাপা পড়ে গেছে আত্মসম্মান (বিশ্লেষণধর্মী)

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
124 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,767 পয়েন্ট)   21 অক্টোবর 2025 "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

চাপা পড়ে গেছে আত্মসম্মান 

লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

লেখার ধরণঃ বিশ্লেষণধর্মী 

তারিখঃ ২১ অক্টোবর ২০২৫


অভাব—শব্দটা ছোট, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে এমন এক নীরব অন্ধকার, এর ভেতরে কত অদৃশ্য কঙ্কাল লুকিয়ে আছে, তা কেবল সেই মানুষই জানে যে প্রতিদিন বাজারের দামে নিজেকে বিক্রি করে টিকে থাকতে চায়। 


অভাব মানুষকে শুধু দরিদ্র করে না; তা ধীরে ধীরে ভেতরের মানুষটাকেই গিলে ফেলে। যখন ক্ষুধা এবং ওষুধের হিসাব একসাথে মেলে না, তখন আত্মসম্মান নামের সেই শেষ অবলম্বনও নীরবে মরে যেতে থাকে।


একসময় যে মানুষ আত্মমর্যাদা নিয়ে চলত, এখন সে মাথা নিচু করে সাহায্য চায়। কারণ অভাব আর অসুস্থতা তাকে এমন এক প্রাচীরে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে বাঁচার জন্য তাকে নিজের আত্মসম্মানকে প্রতিদিন একটু একটু করে মরতে দেখতে হয়। 


মানুষ তখন বোঝে—ক্ষুধা শুধু পেটের নয়, ক্ষুধা একটা সামাজিক দারিদ্র্যের নামও।


অভাব কাউকে হত্যা করে না একদিনে; সে প্রতিদিন একটু একটু করে মানুষকে ভাঙে। আজ একবেলা না খেয়ে থাকা, কাল কাউকে ধার চাওয়া, পরশু নিজের চোখে নিজের লজ্জা ধরা—এইভাবেই ধীরে ধীরে মর্যাদা হারায়, আত্মসম্মান নিঃশেষ হয়।


যে মানুষ গতকাল নিজের ঘামের গন্ধে নিজের সম্মান চিনত, আজ সে অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচে, অন্যের অনুমতিতে শ্বাস নেয়।


কেউ সাহায্য করলে সে কৃতজ্ঞ হয়, কিন্তু ভেতরে এক ধরণের অজানা অপরাধবোধ কাজ করে। মনে হয়, আমি কি নিজেকে বিক্রি করে ফেললাম? 


এই প্রশ্নটাই তাকে নিঃশেষ করে ফেলে। তার চোখে তখন এক ধরনের নিঃশব্দ লজ্জা, যা কোনো শব্দে প্রকাশ করা যায় না। আত্মসম্মান—যা একদিন তার অহংকার ছিল—আজ তা তার দুর্বলতা।


অভাবেই আত্মসম্মানের মৃত্যু ঘটে নীরবে—যেন কারও হৃদয়ে অচেনা এক কবর খুঁড়ে রাখা হয়, যার নাম ‘আমি’।


অসুস্থতা তখন আসে সেই কবরের পাশে দ্বিতীয় ফুল হয়ে—যেখানে শরীর দুর্বল হয়, মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, আর মানুষ হারিয়ে ফেলে নিজের নিয়ন্ত্রণ।

অসুস্থ মানুষ এক সময় বুঝে যায়—স্বাধীনতা কেবল সুস্থ শরীরের মানুষের অধিকার।


যে মানুষ একসময় নিজের হাতে অন্যকে সাহায্য করত, আজ সে নিজেই অন্যের অনুগ্রহের অপেক্ষায় বসে থাকে।


কেউ সাহায্য করে, কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয়।

কিন্তু প্রতিবার সাহায্য চাইবার ভেতরেই একটা ছোট্ট মৃত্যু ঘটে—নিজের ভেতরের সেই অহংকার, সেই আত্মবিশ্বাস, সেই “আমি পারব” বলার শক্তি।


অসুস্থতা—অভাবের থেকেও গভীর, আরও ব্যক্তিগত এক যন্ত্রণা। যে শরীর একসময় জীবনের প্রতিটি লড়াইয়ে ছিল সাহসের প্রতীক,

সেই শরীরই একদিন বিশ্বাসঘাতক হয়ে ওঠে।

মানুষ তখন অন্যের দিকে হাত বাড়ায়, সাহায্য চায়—অল্প ওষুধের জন্য, একটু যত্নের জন্য, কখনো শুধু একফোঁটা সহানুভূতির জন্য।


কিন্তু প্রতিটি সাহায্য প্রার্থনা, প্রতিটি “অনুগ্রহ করে” বলা বাক্যের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে একটুখানি মৃত্যু—নিজেকে ছোট মনে হওয়ার মৃত্যু, নিজের মর্যাদা হারানোর মৃত্যু।


সমাজের দৃষ্টিতেও অভাবগ্রস্ত মানুষদের মুখে একধরনের অদৃশ্য দাগ পড়ে যায়। আমরা তাদের দিকে তাকিয়ে বলি—“বেচারা”—কিন্তু আমরা ভুলে যাই, এই “বেচারা”র জায়গায় আমরাও একদিন থাকতে পারি। 


কারণ অভাব কখনো দরজায় কড়া নাড়ে না, সে হঠাৎ ঢুকে পড়ে আমাদের জীবনের ভেতর, সম্মানকে ধুলায় মিশিয়ে দেয়।


তবু মানুষ লড়ে যায়। নিজের মর্যাদার ছাইয়ের ভেতর থেকে খুঁজে নেয় টিকে থাকার একটুকরো আগুন। 


কেউ আবার ভেঙে পড়ে, নিজেকে ভুলে যায়, মেনে নেয় যে আত্মসম্মান শুধু ভাগ্যবানদের জন্য তৈরি এক বিলাসিতা। অথচ এটাই সত্য নয়।


যে মানুষ কখনো সম্পূর্ণভাবে মরে না, যতক্ষণ তার আত্মসম্মানের একটুকরো আলো টিকে থাকে।


তাই দরিদ্রতা বা অসুস্থতা যতই গভীর হোক, আমাদের উচিত নয় কাউকে “অসহায়” হিসেবে দেখা। 


বরং তার সংগ্রামকে দেখা উচিত এক অনন্য সম্মানের দৃষ্টিতে। কারণ অভাব তার শরীর ভেঙেছে, কিন্তু আত্মসম্মানের সেই অদৃশ্য আগুন—যেটা মানুষকে মানুষ রাখে—তা এখনও নিভে যায়নি।


এই পৃথিবী যতদিন টাকার পরিমাণে মর্যাদা মাপবে, ততদিনই অসুস্থ আর অভাবগ্রস্ত মানুষদের মুখে লেগে থাকবে সেই নীরব লজ্জা। 


কিন্তু সমাজের প্রকৃত উন্নতি তখনই হবে, যেদিন আমরা শিখব—মানুষের মূল্য তার আয় নয়, তার আত্মসম্মান।


#অভাব #আত্মসম্মান #মানবিকসংগ্রাম #সমাজ #জীবনবোধ #বাংলালেখাimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1374 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27767। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1290
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সীমারেখার সংকট: প্রেম ও আত্মসম্মান (প্রেমে সীমা না থাকলে, ঘনিষ্ঠতা হয় শোষণ।) মোহামú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
496 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
আত্মসম্মান, অহংকার ও মনোভাব  মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষনধর্মী৷ ১৪ নভেম্বর, ২০[...] বিস্তারিত পড়ুন...
482 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিঃশব্দ কষ্টের রঙ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ১০ নভেম্বর ২০২৫ তুমি জান[...] বিস্তারিত পড়ুন...
508 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরনঃ বিশ্লেষণধর্মী তারিখঃ ৯ নভেম্বর ২০২৫ প্রবাস—অন[...] বিস্তারিত পড়ুন...
260 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অসহায়ের হাসি: থামব না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরনঃ বিশ্লেষণধর্মী তারিখঃ ৯ নভেম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
524 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    163 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...