Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পকেটে বিশ টাকা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,310 পয়েন্ট)   3 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

পকেটে বিশ টাকাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণমূলক | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সকালে এক কাপ চা খেয়ে মানুষটি কাজে বের হয়েছিল। দুপুরে খাওয়ার সুযোগ হয়নি। সন্ধ্যায় পকেটে হাত দিয়ে দেখল, আছে মাত্র বিশ টাকা।


ঘরে ফিরলে সন্তান খাবার চাইবে।


কয়েক দিন ধরে কাজ নেই। বাজারে চাল-ডালের দাম বেড়েছে। ধার করার মতো মানুষও আর নেই।


এই অবস্থায় তাকে যদি বলা হয়, “সৎ থাকো”, কথাটা সে হয়তো শুনবে। কিন্তু তার মাথায় তখন নীতিকথা ঘুরবে না।


একটাই প্রশ্ন থাকবে—


আজ রাতে ঘরে চুলা জ্বলবে তো?


এখানেই আসে কথাটি—পেটের ক্ষুধা কি সত্যিই সকল পাপের উৎস?


আক্ষরিক অর্থে নয়।


মানুষ শুধু ক্ষুধার কারণে অন্যায় করে না। যার ঘরে খাবারের অভাব নেই, সেও লোভের কাছে হেরে যেতে পারে। প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি থাকার পরও কেউ আরও টাকা, আরও সম্পদ, আরও ক্ষমতা চাইতে পারে। অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য সব সময় খালি পেট লাগে না।


কিন্তু ক্ষুধারও একটা ক্ষমতা আছে।


দীর্ঘদিনের অভাব মানুষের পৃথিবীটাকে ছোট করে ফেলে। আগামী পাঁচ বছর কী হবে, সেই চিন্তার জায়গায় তখন আজকের বাজার, আজকের ভাড়া আর আজকের ওষুধ এসে বসে।


একজন বাবা যখন জানেন, ঘরে সন্তানের জন্য রাতের খাবার নেই, তখন তার সামনে শুধু অর্থের সংকট থাকে না। থাকে নিজের কাছে নিজেকে ঠিক রাখার একটা কঠিন পরীক্ষা।


সে কি নিয়ম মেনে অপেক্ষা করবে?


নাকি এমন কোনো পথ বেছে নেবে, যেটাকে সে নিজেই একদিন অন্যায় বলেছিল?


আমরা চুরি করা মানুষটিকে খুব সহজেই চোর বলে দিই। কিন্তু তার আগের রাতগুলো সম্পর্কে জানতে চাই না।


হয়তো তিন দিন ধরে তার কাজ নেই। মেয়ের স্কুলের বেতন তিন মাস বাকি, ওদিকে মায়ের ওষুধের পাতাটাও কালই শেষ হয়েছে। বাড়িওয়ালা ভাড়ার জন্য দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।


এসব কোনো অপরাধকে বৈধ করে না। কিন্তু অপরাধের পেছনের মানুষটাকে দেখতে সাহায্য করে।


অভাব মানুষকে প্রতিদিন এমন কিছু হিসাবের সামনে দাঁড় করায়, যেগুলোর উত্তর দূর থেকে দেওয়া খুব সহজ।


আজ ভাত কিনবে, নাকি ওষুধ?


সন্তানের খাতা কিনবে, নাকি নিজের খাবার?


বাসাভাড়া দেবে, নাকি মায়ের চিকিৎসা?


যে মানুষ প্রতিদিন এমন হিসাব করে বাঁচে, তার কাছে “সৎ থাকো” কথাটার অর্থ আমাদের মতো এক থাকে না।


এখানেই সমাজের কথাটাও আসে।


আমরা একজন মানুষকে ভালো থাকতে বলি। কিন্তু সে ভালো থাকার মতো কোনো পথ পেয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন করি না।


কাজের সুযোগ ছিল?


ন্যায্য মজুরি পেয়েছিল?


অসুস্থ হলে চিকিৎসা করার সামর্থ্য ছিল?


দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল?


এসব প্রশ্নের উত্তর না জেনে শুধু অপরাধের মুহূর্তটাকে দেখলে মানুষটাকে বোঝা যায় না।


ক্ষুধার্ত মানুষকে নীতিকথা শোনানো সহজ। তার ঘরে একবেলা খাবার পৌঁছে দেওয়া কঠিন।


তবে এখানেই আরেকটি সত্য আছে—সব ক্ষুধার্ত মানুষ অন্যায় করে না।


কেউ নিজের ক্ষুধা চেপে সন্তানের জন্য খাবার নিয়ে বাড়ি ফেরে। কেউ অভাবের মধ্যেও অন্যের টাকা ফিরিয়ে দেয়। কেউ নিজের কষ্টের কথা ভুলে অসুস্থ প্রতিবেশীর দরজায় দাঁড়ায়।


অর্থাৎ ক্ষুধা মানুষকে দুর্বল করতে পারে, কিন্তু মনুষ্যত্ব কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা তার সব সময় থাকে না।


আর পেটের ক্ষুধার চেয়েও অদ্ভুত একটি ক্ষুধা আছে—আরও পাওয়ার ক্ষুধা।


যার ঘরে খাবার আছে, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ, জীবনে অভাব নেই; তবু তার চাওয়া শেষ হয় না। একটার পর একটা সম্পদ, ক্ষমতা, প্রভাব—সবকিছু পাওয়ার পরও মনে হয়, আরও চাই।


একজন দরিদ্র মানুষের ক্ষুধা তাকে এক মুঠো ভাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।


আর একজন লোভী মানুষের ক্ষুধা তাকে অন্যের পুরো থালাটাই কেড়ে নিতে শেখাতে পারে।


দুটো ক্ষুধা এক নয়।


একটি বেঁচে থাকার তাগিদ। অন্যটি সীমাহীন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।


তাই পেটের ক্ষুধাকে সকল পাপের উৎস বলা হয়তো পুরো সত্য নয়। কিন্তু ক্ষুধার্ত মানুষের সামনে নৈতিকতার পরীক্ষা যে অনেক কঠিন হয়ে যায়, সেটা অস্বীকার করারও উপায় নেই।


সেদিন সন্ধ্যার সেই মানুষটির পকেটে ছিল মাত্র বিশ টাকা।


আমরা হয়তো তার পরের সিদ্ধান্তটা দেখব।


চুরি করল কি না, সেটাও দেখব।


কিন্তু তার আগে আরেকবার ভাবা দরকার—


ওই বিশ টাকার মানুষটির সামনে বাঁচার আর কোনো দরজা খোলা ছিল কি?


হয়তো মানুষের মনুষ্যত্বের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটা সেখানেই।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 11 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1352 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27310। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4869
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
জিডিপি বাড়ছে, কিন্তু পকেটে টাকা বাড়ছে কই? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষনধর্মী। ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
464 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বুক পকেটে টাকা না থাক বুকে আত্মসম্মান থাকাটা জরুরী!বুদ্ধি না থাক, বিবেক থাকাটা জরুরি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
170 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 টাকা আর জীবন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ০৩,জুন ২০২৬ দোকানের সামনে ছেল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
246 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

যখন টাকা হয়ে যায় সবচেয়ে বড় মাপকাঠি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ আজকাল দারিদ্র্য শুধু পকেট খালি থাকার নাম নয়। এটি আমাদের সম্পর্কগুলোকে চুপচাপ ক্ষয় করছে। আমি নি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
472 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

"মনটাই আসল –টাকা নয়" তারিখ:২৪–ডিসেম্বর–২০২৫ বিচিত্রতা সত্যিই এক অদ্ভুত নিয়ম। কারো পকেটে হাজার টাকা থাকা সত্ত্বেও সে বলবে— “আরে, আমার কাছে একটা টাকাও নাই, বন্ধু তুই কিছু খাওয়া।” আবার কার�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
160 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1211 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    60 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    290 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    14 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-আমিন (আলো)

    117 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    83 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...