Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

দায়িত্বের নিচে চাপা মানুষ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
23 বার প্রদর্শিত
করেছেন (18,449 পয়েন্ট)   17 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

 দায়িত্বের নিচে চাপা মানুষ

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী । ১৬ মে, ২০২৬


রায়হানের বয়স মাত্র ২৮ বছর।

বুয়েট থেকে পাস করার পর তার স্বপ্ন ছিল ঢাকায় একটা ভালো চাকরি করবে, নিজের মতো একটা জীবন গড়বে। কিন্তু এখন সে গ্রামের বাজারে তিনটা টিউশনি করে। বিকেলে ফার্মেসিতে বসে হিসাব লেখে। কারণ প্রতি সপ্তাহে তার বাবার ডায়ালাইসিস করাতে হয়।


মাঝে মাঝে রাতে সে মোবাইলের ক্যালকুলেটর খুলে বসে।

একদিকে হাসপাতালের বিল। অন্যদিকে ছোট বোনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফি। তারপর নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টে তাকায়। সংখ্যাটা এত ছোট হয় যে স্ক্রিনটা পর্যন্ত অপমানজনক লাগে।


তবু আশেপাশের মানুষ তাকে দায়িত্ববান ছেলে বলে।

এই জায়গাটাই ভয়ংকর।


আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে, যাদের দায়িত্ববোধ আছে, কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করার মতো ক্ষমতা নেই। তারা খারাপ মানুষ না। অলসও না। বরং সমস্যাটা উল্টো। তারা এত বেশি দায়িত্ব নিতে শেখে যে একসময় নিজের ভেতরটাই ভেঙে যায়।


বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত সমাজে এই সংকট খুব নীরবে কাজ করে। এখানে বড় ছেলে মানেই পরিবারের “ব্যাকআপ জেনারেটর”। বাবা অসুস্থ হলে সে সামলাবে। ছোট ভাই বেকার হলে সে দেখবে। বাসার ভাড়া বাকি পড়লে তাকেই ফোন যাবে। মজার বিষয় হলো, এই দায়িত্বগুলো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে দেয় না। এগুলো বাতাসের মতো। জন্মের পর থেকেই মানুষ এগুলোর ভেতরে বড় হয়।


আমার পরিচিত এক বড় চাচা আছেন। প্রতি কোরবানির আগে ফোন করে বলেন,

“এবার গরুটা তুমিই দিও।”


কিন্তু আমি কখনো শুনিনি তিনি কাউকে ফোন করে বলছেন,

“তোমার চাকরির জন্য আমি একজনের সাথে কথা বলেছি।”


এটাই আমাদের সমাজের এক অদ্ভুত নৈতিকতা।

দায়িত্ব সবাই দিতে চায়। ক্ষমতা খুব কম মানুষ ভাগ করে।


এই কারণেই অনেক তরুণ আজকাল বয়সের চেয়ে ক্লান্ত বেশি দেখায়। তাদের মুখে দাড়ি ওঠার আগেই সংসারের হিসাব শিখতে হয়। তারা প্রেমের চেয়ে হাসপাতালের সিরিয়াল বেশি বোঝে। জীবনের সবচেয়ে শক্ত সময়টা তারা কাটায় টিকে থাকার চিন্তায়।


তারপরও সমাজ তাদের অলস বলে।


সমস্যাটা শুধু পরিবারে না। শিক্ষা ব্যবস্থাতেও আছে। আমরা ছোটবেলা থেকে শুনি—দায়িত্ববান হও, পরিবারের পাশে দাঁড়াও, দেশের জন্য কাজ করো। কিন্তু কেউ শেখায় না কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে শক্ত হতে হয়। কীভাবে মানসিক চাপ সামলাতে হয়। কীভাবে “না” বলতে হয়।


ফলে আমরা এমন এক প্রজন্ম তৈরি করছি, যারা নৈতিকভাবে সচেতন কিন্তু বাস্তব জীবনে অপ্রস্তুত।


এই অপ্রস্তুত মানুষগুলো বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখায়। কিন্তু রাতের বেলা তাদের ভেতরটা অন্যরকম হয়।


রাত ২টায় ফার্মেসির সামনে দাঁড়িয়ে যখন কেউ মায়ের প্রেসক্রিপশনের দাম হিসাব করে, তখন দায়িত্ব শব্দটা খুব মহৎ লাগে না। তখন মনে হয় এটা একধরনের শাস্তি। এমন শাস্তি, যেটা থেকে পালালেও অপরাধবোধ হয়, আবার বহন করলেও মানুষ ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যায়।


আমি নিজেও এই ফাঁদের বাইরে না।


একসময় মনে হতো, সবাইকে সাহায্য করতে পারা মানেই ভালো মানুষ হওয়া। পরে বুঝলাম, নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে দায়িত্ব নিতে নিতে মানুষ একসময় ভিতর থেকে ফাঁপা হয়ে যায়। তখন সে কাউকেই ঠিকভাবে বাঁচাতে পারে না। নিজেকেও না।


আমাদের সমাজ একটা বিপজ্জনক ভুল করে।

এখানে দায়িত্বকে চরিত্রের মাপকাঠি ধরা হয়, কিন্তু ক্ষমতাকে ধরা হয় ভাগ্যের বিষয় হিসেবে। ফলে কেউ ক্লান্ত হলে আমরা বলি, “তুমি আরও চেষ্টা করো।” কিন্তু খুব কম মানুষ জিজ্ঞেস করে, “তোমার কাঁধে এত ওজন কে চাপিয়েছে?”


এই প্রশ্নটা জরুরি।


রায়হান এখন একটা অভ্যাস করেছে।

কেউ দায়িত্বের কথা বললে সে আগে তিনটা প্রশ্ন করে।


প্রথম প্রশ্ন — এটা পালন করার বাস্তব সামর্থ্য কি আমার আছে?

দ্বিতীয় প্রশ্ন — আমি না বললে কি সত্যিই সবকিছু ভেঙে পড়বে?

তৃতীয় প্রশ্ন — এই বোঝাটা আমি একা টানছি, নাকি কেউ পাশে আছে?


আগে সে এসব ভাবত না।

যে যা বলত, চুপচাপ কাঁধে তুলে নিত। পরে বুঝেছে, সব দায়িত্ব নৈতিক দায়িত্ব না। কিছু দায়িত্ব শুধু মানুষের প্রত্যাশা। কিছু দায়িত্ব আবেগের চাপ। আর কিছু দায়িত্ব আসে এই কারণে যে তুমি “না” বলতে শেখোনি।


আরেকটা বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা না। আমাদের সমাজ বিশেষ করে পুরুষদের শেখায়—চুপচাপ সহ্য করো। ফলে অনেকেই ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়লেও মুখে হাসি ধরে রাখে। এই নীরব অভিনয় একসময় মানুষকে মানসিকভাবে অসাড় করে দেয়।


সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, এই ক্লান্ত মানুষগুলোকে সমাজ আবার উদাহরণ হিসেবেও ব্যবহার করে। বলা হয়, “ওকে দেখো, কত দায়িত্বশীল!” কিন্তু কেউ দেখে না, লোকটা শেষ কবে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছে।


রায়হানরা এখনো টিউশনি করে।

রাত ২টার পরও তারা হাসপাতালের বিল হিসাব করে।

বড় চাচারা এখনো ফোন করে বলে,

“এবার গরুটা তুমিই দিও।”


আমরা তখন তাদের “দায়িত্বশীল ছেলে” বলে প্রশংসা করি।

কিন্তু খুব কম মানুষ জিজ্ঞেস করি — ছেলেটা শেষ কবে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছে।


আমরা আসলে কেমন সমাজ বানাচ্ছি?


মানুষের সমাজ?

নাকি ক্লান্ত মানুষদের একটা বিশাল ব্যাকআপ জেনারেটরের গোডাউন?

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 7 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 914 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 18449। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3876
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
দায়িত্বের ওজন—পদ নয়, মানসিকতার পরীক্ষায় মানুষ বড় হয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্ল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
146 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 ত্যাগের নামে হারিয়ে যাওয়া মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ১৬ মে, ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মানুষ সবচেয়ে বেশি ভয় পায় অভাবী মানুষকেই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী  | &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
144 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
স্বপ্ন না থাকলে মানুষ বেঁচে থাকে না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী লেখা | জানু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
208 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বছর বদলায় মানুষ কি বদলায়? মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ। ডিসেম্÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
138 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    834 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    41 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মাহাতাব হোসেন অপল

    170 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    143 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. আল-মামুন রেজা

    84 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...