আপনার কণ্ঠ আজ বন্ধ?
মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী। ডিসেম্বর ২৩,২০২৫
আজ সকালে উঠে দেখি জানালার কাচে কুয়াশা।
কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম। কোনো শব্দ নেই। না পাখি, না গাড়ি, না কারো হাঁক। শুধু নিজের শ্বাসের আওয়াজ। তখন মনে হলো—আরে, আমার কণ্ঠও তো আজ কোথাও নেই।
গলা খাঁকারি দিলাম। কিছু বেরোল না। যেন কেউ সুইচ অফ করে দিয়েছে।
এটা শুধু আমার কথা নয়।
আমরা অনেকেই এমন দিন দেখছি। কথা বলতে গিয়ে থেমে যাই। হাসতে গিয়ে মুখ শক্ত হয়ে আসে। গান গাইতে গিয়ে গলা আটকে যায়। কেন?
কারণটা একটু একটু করে জমেছে।
সারাদিন স্ক্রিনে চোখ। সেখানে সবাই কথা বলছে, কিন্তু কেউ আমাদের সঙ্গে নেই। লাইক, কমেন্ট, শেয়ার—এগুলো শব্দ নয়, শুধু নম্বর।
আর ভয়।
অনেক ভয়। কথা বললে কী হবে?
কেউ হাসবে?
কেউ আঙুল তুলবে?
চুপ থাকলে নিরাপদ। তাই চুপ।
আরও একটা কথা।
আমরা নিজেদেরও আর শুনি না। কী চাই, কী ভয় পাই, কীতে কষ্ট হয়—এসব জানার সময় নেই। ব্যস্ততা বলে ঢেকে রাখি।
ফলে কী হয়?
কণ্ঠ চলে যায়।
যে কণ্ঠে একদিন মা’কে ডাকতাম, বন্ধুর সঙ্গে হাসতাম, নিজের মনের কথা বলতাম—সেই কণ্ঠ এখন বন্ধ। যেন কেউ দরজা লাগিয়ে চাবি ফেলে দিয়েছে।
কিন্তু নীরবতা কি শেষ কথা?
না। এটা আসলে একটা ডাক।
যেন বলছে—একটু থাম। বস। শোন।
শোনার শুরু নিজের থেকে।
রাতে লাইট নিভিয়ে শুয়ে থাকি। হৃৎপিণ্ডের শব্দ শুনি। খুব ছোট্ট শব্দ। কিন্তু আছে। সেটা শুনতে শুনতে মনে হয়—আরে, আমি তো এখনো বেঁচে আছি।
তারপর একটু একটু করে কথা বলা শুরু করি।
প্রথমে নিজের সঙ্গে। আয়নায় তাকিয়ে। তারপর কাছের মানুষের সঙ্গে। খুব ছোট কথা। “আজ খারাপ লাগছে।” “আজ একটু ভালো লাগছে।” এইটুকুই। কিন্তু এইটুকুতেই কণ্ঠটা আবার নড়ে ওঠে।
লিখি।
কাগজে, ফোনে, যেখানে পারি। ভাঙা ভাঙা। অসম্পূর্ণ। তাতে কিছু যায় আসে না। লেখার মধ্য দিয়ে কণ্ঠটা ফিরে আসে।
আর মাঝে মাঝে গাই।
যে গানটা মনে আসে, সেটাই। ভুল সুরে হলেও। কেউ শুনুক বা না শুনুক। নিজের জন্য।
একদিন দেখবেন,
গলা খুলে কথা বলতে পারছেন। হাসছেন। কাঁদছেন। চিৎকার করছেন। আবার সেই পুরনো কণ্ঠটা ফিরে এসেছে।
আজ যদি কণ্ঠ বন্ধ মনে হয়,
তাহলে চুপ করে বসুন।
নিজের শ্বাস শুনুন।
একটু অপেক্ষা করুন।
সুরটা হারায়নি।
শুধু লুকিয়ে আছে।
একটু ডাক দিন।
দেখবেন, সে ফিরে আসবে।
#কণ্ঠেরখোঁজ #নীরবতারডাক #নিজেরসুর #মানুষেরগান #অনুভবেরভাষা #ফিরেআসা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।