অর্থহীনতার পরের সকাল
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী | মার্চ ৬, ২০২৬
আজ অ্যালার্ম বাজার চার মিনিট আগে ঘুম ভেঙে গেল। ঘরে ধূসর আলো ঢুকছে। বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে রইলাম। মনে হলো, আজ না উঠলেও পৃথিবীর কোনো পরিবর্তন হবে না। বারান্দার টবের গাছটিকে কিন্তু ভুলে থাকা সম্ভব নয়; পাতাগুলো শুকনো, মাটি শক্ত, তিন দিন পানি পান করেনি।
ধীরে উঠে বারান্দায় গেলাম। মগ ভর্তি পানি হাতে নিয়ে ঢালতে শুরু করি। প্রথমে মাটি পানি ঠেলছে—ধীরে ধীরে শোষণ করতে করতে পাতায় ছোট ফোঁটা জমল। সূর্যের আলো পড়তেই পাতাগুলো কেঁপে উঠল। এই ছোট নড়াচড়া দেখেই মনে হলো, আমার উপস্থিতি এলে কিছু টিকে থাকে।
পরের সকালে নতুন কুঁড়ি ফুটেছে—শুকনো পাতার পাশে উজ্জ্বল সবুজ। থেমে দাঁড়াই। তিন সপ্তাহ আগে ভেবেছিলাম গাছটি বাঁচবে না। এখন সে নিজে থেকেই পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। ভুলে দুই দিন পানি দিতে পারি; তৃতীয় দিন দেখি দুটো পাতা হলদে। পাতার একপাশে ছোট পোকার আক্রমণ। হাত দিয়ে সরিয়ে দিলাম। ঝুঁকির মধ্যে থাকা কুঁড়িটি টিকে আছে।
অন্যদিকে, দৈনন্দিন জীবনও অনুরূপ। অফিসে হাতে ল্যাপটপ, পায়ে হালকা জুতো, সুইটিং রুমের দরজা খুলতেই সহকর্মীর রাখা ইমেইল চোখে পড়ে। যদি আমি না থাকতাম, হয়তো একদিন বিলম্ব হতো। ছোট এই পরিবর্তনও প্রভাব ফেলে—প্রকাশ্যে নয়, কিন্তু আছে।
দুপুরে ফিরে বারান্দায় দেখি আগের শুকনো পাতাগুলো পড়ে গেছে। কুঁড়ি আরও শক্তিশালী। জীবন এখানেই আছে—সাধারণ, ক্ষুদ্র, ফলপ্রসূ। কেউ হাততালি দেয় না, কেউ বড় ঘোষণা করে না। তবু কাজটি ঘটে।
সন্ধ্যায় বারান্দায় দাঁড়াই। মাটি ভেজা, সূর্য ডুবছে। গাছ শান্ত, পাতাগুলো ধীরে নরম। আমি কিছু করি না। জানি, আগামীকালও পানি দেব, এবং গাছ আবার প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
এই ছোট উপস্থি থেকেই বোঝা যায়—ছোট কাজ, ক্ষুদ্র উপস্থিতি, নিয়মিত যত্নই জীবনের অর্থ বহন করে। পৃথিবী বড়, আমি ছোট; কিন্তু আমার নজর ও হাতের মধ্যেই কিছু টিকে থাকে।
তবু আগামীকালও উঠে যাই।
#অর্থহীনতার_পর
#ক্ষুদ্রজীবন
#সংবেদন
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।