আজকের পদক্ষেপ আগামীর ন্যায়বিচার
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন |
বিশ্লেষণধর্মী | ৮ মার্চ, ২০২৬
আজ নারী দিবস। থিমটা কী যেন… “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার”—এরকম কিছু।
ঠিক মনে নেই।
কিন্তু এ থিমটা কি বাস্তবে সম্ভাব?
যেখানে মেয়েরা এখনও সংসারের দায়,সমাজে চরম ভাবে বৈষম্যের স্বীকার, যেখানে বিচার কেবল একটি শ্রেনীর শিকলে অবদ্ধ। যেখানে নারীদের নির্যাতন কেবল এফআর-এ সীমাবদ্ধ সেখানে এ থিমটা উপহাস ছাড়া আর কিছু কি?
ভাবছিলাম, এসব লিখলেই কি সত্যি কিছু বদলায়?
গত সপ্তাহে ময়মনসিংহের এক প্রাথমিক স্কুলে গিয়েছিলাম। ক্লাসে মেয়েরা এক কোণে বসে ছিল। ছোট্ট আক্তারের চোখ কাঁপছিল, ভয়টা স্পষ্ট। হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,
“স্যার, আমরা কি সত্যিই পড়তে পারব?”
আমি কিছু বলিনি। শুধু তাকিয়ে ছিলাম। মনে হচ্ছিল—আইন তো আছে, কিন্তু আক্তার কি সত্যি নিরাপদ বোধ করে?
বাসের একটা ঘটনা মনে পড়ে। আমার বন্ধু ফাতেমা। একদিন বাসে উঠতেই একজন পুরুষ তাকে হেনস্থা করল। সে চুপচাপ বসে রইল।
আমি কি কিছু বলেছিলাম?
না। পারিনি।
পরে ফাতেমা কেঁদে বলল,
“আমি ভয়ে কিছুই বলতে পারিনি।”
বিরক্ত লাগে। রাগ হয়। আর কষ্ট? সেটা তো আছেই।
এমন গল্প আমরা প্রায়ই শুনি। তবু প্রতিবারই অস্বস্তি লাগে।
গত মাসে ঢাকার বই মেলায় চা বিক্রয় করে,এমন এক মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। সে হঠাৎ বলল,
“আমাদের কথা কেউ শোনে না।”
এই কথাটা আগেও শুনেছি। কিন্তু সেদিন তার চোখে কষ্টের সাথে একটু আশাও ছিল। আমি চুপ করে গিয়েছিলাম। ভাবছিলাম—আমরা আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছি?
কিছু জিনিস আছে, যেগুলো খুব বড় না—কিন্তু দরকারি। যেমন স্কুলে আলাদা টয়লেট, নারী শিক্ষকের সংখ্যা একটু বাড়ানো, বা মেয়েরা যেন নিজের কথা বলতে পারে সেই সুযোগটা রাখা।
একবার দেখেছিলাম, এক মেয়ের চোখে ভয় ছিল। অনিশ্চয়তাও ছিল। কিন্তু পাশাপাশি একটা ছোট আলোও ছিল।
শহর হোক বা গ্রাম—বৈষম্য এখনো চোখে পড়ে। মেয়েদের সুযোগ কমে যায়। অনেক সময় স্বপ্ন দেখাটাও কঠিন হয়ে পড়ে।
তখন মনে হয়, অপেক্ষা না করে কিছু একটা শুরু করা দরকার।
আমি নিজেও ভাবি—কি করা যায়?
হয়তো একজন শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো।
হয়তো একটা নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।
হয়তো শুধু বলা—“তুমি পারবে।”
সব কাজ বড় হতে হবে এমন না। কখনও ছোট একটা সমর্থনই কারও সাহস বাড়িয়ে দেয়।
নারী ও কন্যার নিরাপত্তা শুধু আইন দিয়ে আসে না। মানসিকতাও বদলাতে হয়। আর সেটা শুরু হয় পরিবার থেকেই—মায়ের কোলে, বাবার কথায়, ভাইবোনের সঙ্গে।
ছোট থেকেই যদি মেয়েদের কথা বলতে দেওয়া হয়, সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হয়—তাহলে হয়তো আগামীটা একটু অন্যরকম হবে।
আজকের পদক্ষেপ মানেই বড় কিছু না। কখনও শুধু পাশে থাকা, শুনে নেওয়া—এইটুকুই।
কখনও মনে হয়, হয়তো খুব বেশি কিছু করতে পারব না।
তবু আক্তারের চোখে, বই মেলার সেই মেয়েটার কথায়, আর ফাতেমার কণ্ঠে—সেদিন একটা ছোট্ট আলো দেখেছিলাম।
হয়তো সেটাই যথেষ্ট।
সেটাই একটা শুরু।
#নারীদিবস
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।