Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

আমরা কি স্মৃতি হারাচ্ছি?

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (26,360 পয়েন্ট)   3 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

আমরা কি স্মৃতি হারাচ্ছি?image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী | ১ সেপ্টেম্বর  ২০২৬


হাজার ছবি তুলি।


তবু আশ্চর্যভাবে অনেক মুহূর্ত মনে থাকে না।


কথাটা একটু অদ্ভুত।


আমাদের আগের প্রজন্মের কাছে স্মৃতি ধরে রাখার সুযোগ ছিল খুব কম। একটা বিয়েতে হয়তো দশটা ছবি উঠেছে। কোনো ভ্রমণে পাঁচটা। শৈশবের অনেক বছর কেটে গেছে একটাও ছবি ছাড়া।


আমাদের কাছে সেই অভাব নেই।


মোবাইলটা পকেট থেকে বের করলেই ক্যামেরা।


যে মুহূর্তটা ঘটছে, সঙ্গে সঙ্গে ধরে রাখা যায়। ভালো না হলে আবার তোলা যায়। একই দৃশ্যের দশটা, বিশটা, একশোটা ছবি রাখা যায়।


তবু প্রশ্নটা থেকেই যায়—


এত ছবি জমছে, স্মৃতি কি ততটা জমছে?


কখনো কখনো মনে হয়, আমরা মুহূর্তটা বাঁচার আগেই তার ছবি তুলে ফেলছি।


একটা শিশু প্রথমবার হাঁটছে।


বাবা-মা সামনে দাঁড়িয়ে।


শিশুটি টলতে টলতে এক পা, তারপর আরেক পা এগিয়ে যাচ্ছে।


সেই দৃশ্যটা চোখের সামনে ঘটছে।


কিন্তু কখনো কখনো বাবা-মায়ের চোখ শিশুর মুখে থাকার বদলে মোবাইলের পর্দায় আটকে থাকে। তারা মুহূর্তটাকে ধরে রাখছেন, কিন্তু মুহূর্তটাকে পুরোপুরি দেখছেন কি না—সেই প্রশ্নটা থেকেই যায়।


ভ্রমণেও একই ব্যাপার।


পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে পাহাড় দেখার আগে ছবি তুলি।


সমুদ্রের ঢেউ পায়ের কাছে এসে ফিরে যাচ্ছে, আর আমরা ভাবছি—ছবিটা ঠিকমতো উঠল তো?


তারপর বাড়ি ফিরে ছবিগুলো দেখি।


একশো ছবি।


দুইশো ছবি।


একই পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের অসংখ্য মুখ।


কিন্তু সেই পাহাড়ি বাতাসের গন্ধটা মনে পড়ে না।


সন্ধ্যার ঠান্ডাটা মনে পড়ে না।


পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির হাতটা কেমন ছিল, সেটাও হয়তো মনে থাকে না।


ছবি দৃশ্য ধরে রাখে।


কিন্তু দৃশ্যের ভেতরে আমরা কেমন ছিলাম, সবসময় তা ধরে রাখতে পারে না।


একটা পুরোনো ছবি হাতে নিয়ে আমরা কখনো হঠাৎ থেমে যাই।


ছবিতে বাবা আছেন।


অনেক বছর আগের ছবি।


মুখটা একটু ঝাপসা। পেছনে পুরোনো বাড়ি। হয়তো একটা গাছও আছে।


ছবিটা বাবার মুখ ফিরিয়ে দেয়।


কিন্তু বাবার গলার স্বর?


হাঁটার শব্দ?


রাগ করে চুপ করে থাকার সেই ভঙ্গি?


সকালে ঘুম থেকে ডেকে তোলার গলা?


ক্যামেরা এগুলোর কিছুই ধরে রাখেনি।


তবু আশ্চর্যভাবে এগুলোর কিছু কিছু থেকে যায়।


মানুষের স্মৃতি শুধু চোখের জিনিস নয়।


একটা গন্ধ হঠাৎ বহু বছর আগের একটা দুপুর ফিরিয়ে আনতে পারে।


পুরোনো সাবানের গন্ধে মায়ের ঘর মনে পড়ে।


ভেজা মাটির গন্ধে স্কুল থেকে বৃষ্টিতে ভিজে ফেরার দিন।


কোনো পুরোনো গান হঠাৎ এমন একজন মানুষের কথা মনে করিয়ে দেয়, যার সঙ্গে বহু বছর কথা নেই।


সেই স্মৃতির কোনো ছবি নেই।


কোনো ভিডিও নেই।


কোনো মেঘে রাখা ব্যাকআপও নেই।


তবু সে থেকে যায়।


হয়তো স্মৃতি আসলে ছবি জমিয়ে রাখার নাম নয়।


স্মৃতি হলো কোনো একটা মুহূর্তকে নিজের ভেতরে জায়গা করে দেওয়া।


সেই জায়গায় থাকে গন্ধ।


থাকে শব্দ।


থাকে স্পর্শ।


থাকে মানুষের মুখ।


থাকে কখনো এমন কিছু কথা, যেগুলো তখন খুব সাধারণ মনে হয়েছিল।


অনেক বছর পরে সেগুলোই অমূল্য হয়ে ওঠে।


তাই সমস্যা মোবাইলের ক্যামেরায় নয়।


বরং ক্যামেরা আমাদের জীবনে অসাধারণ একটা সুযোগ এনে দিয়েছে। সন্তানের শৈশব, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের মুখ, পরিবারের উৎসব, হারিয়ে যাওয়া মানুষের ছবি—এসব ধরে রাখা ভবিষ্যতের জন্য কত মূল্যবান, তা আমরা হারানোর পর বুঝি।


সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন ছবি তোলা আর মুহূর্তে থাকা—দুটোর মধ্যে আমাদের বেছে নিতে হয়, আর আমরা বারবার প্রথমটাকে বেছে নিই।


একটা বিয়েতে সবাই নাচছে।


একজন মানুষ পুরো অনুষ্ঠানটা মোবাইলে ধারণ করছে।


বছর কয়েক পরে সেই ভিডিও দেখে সে বলতে পারে—


“সেদিন কত সুন্দর ছিল!”


কিন্তু তার নিজের কাছে হয়তো প্রশ্নটা থেকে যাবে—


আমি কি সেদিন সত্যিই সেখানে ছিলাম?


নাকি আমি শুধু অন্যদের আনন্দের একজন রেকর্ডার ছিলাম?


অবশ্য প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরা থেকে দূরে রাখতে হবে—এমন কথাও নয়।


কিছু মুহূর্ত ধরে রাখা দরকার।


কিছু ছবি একদিন খুব প্রয়োজন হবে।


কিন্তু কিছু মুহূর্ত আছে, যেগুলোকে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করালে তারা যেন একটু দূরে সরে যায়।


বন্ধুর সঙ্গে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে হঠাৎ হেসে ওঠা।


মায়ের রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা গরম ভাতের গন্ধ।


বাবার পাশে বসে কোনো কথা না বলে দশ মিনিট কাটানো।


বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে চুপ করে বসে থাকা।


এসবের কোনো ছবি না থাকলেও ক্ষতি নেই।


কারণ জীবনের সবকিছু সংরক্ষণ করার জন্য নয়।


কিছু জিনিস শুধু বেঁচে থাকার জন্য।


হয়তো কয়েক বছর পরে ফোন বদলে যাবে।


পুরোনো ছবি হারিয়ে যাবে।


কোনো হার্ডডিস্ক নষ্ট হবে।


কোনো অ্যাকাউন্ট আর খোলা যাবে না।


কিন্তু সবকিছু হারাবে না।


একটা বিকেল থেকে যাবে।


একটা কণ্ঠস্বর।


একটা গন্ধ।


একটা স্পর্শ।


একজন মানুষ।


আর হয়তো সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—


যে মুহূর্তটার কোনো ছবি আমরা তুলিনি, কোনো কোনো দিন সেটাই সবচেয়ে পরিষ্কার হয়ে ফিরে আসবে।


তখন বুঝব—


সব স্মৃতি ছবিতে থাকে না।


কিছু স্মৃতি মানুষ নিজের ভেতরে বহন করে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 11 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1305 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 26360। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4788
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
AI যুগে মানুষ: হারাচ্ছি কি আমরা?   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষনধর্মী ⋄ ২০ নভেম্বর &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
134 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
“বাংলা ঘরে ভালোবাসার চেয়ে প্রত্যাশা ভারী।” আমরা কি সন্তান বানাই, না ‘ভবিষ্যতের বি&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
473 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
“তুমি অলস না, তুমি অতিরিক্তভাবে exploited।” আমরা কি সত্যিই অলস জাতি, নাকি আমরা পরিকল্পিতভা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
467 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
এক মুহূর্তেই সব শেষ — আমরা কি সত্যিই প্রস্তুত? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
464 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
আমরা কি মানুষ, নাকি অ্যালগরিদম? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোটগল্প । ১৩ নভেম্বর ২০২৫ অ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
403 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    261 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    13 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. আল-মামুন রেজা

    20 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...