Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মায়ের দোয়ায় ভয়

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
4 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,829 পয়েন্ট)   13 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মায়ের দোয়ায় ভয়image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প।২৬ অক্টোবর ২০২৬


“আমার মা আমার জন্য দোয়া করে, যাতে আমার সংসারটা ভেঙে যায়।”


কথাটা নীলার মাথায় এসেছিল মায়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে। কাউকে বলা হয়নি। এমনকি রাশেদকেও না।


ছোটবেলায় নীলা দেখেছে, তার মা রহিমা বেগম পুরোনো শাড়ি যত্ন করে ভাঁজ করে আলমারিতে তুলে রাখতেন। নতুন শাড়ি কেনার কথা উঠলে বলতেন, “থাক, এই সংসারে এত শখ মানায় না।” অসুস্থ হলেও নিজের ওষুধের আগে ছেলেমেয়ের প্রয়োজন মেটাতেন। নীলা তখন মায়ের হাত ধরে বলত, “আমি বড় হয়ে তোমাকে অনেক সুখে রাখব।”


মা তাকে বুকে টেনে নিতেন।


বিয়ের পর নীলা সত্যিই মাকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিল। রাশেদ মায়ের পছন্দের একটা শাড়িও কিনে দিয়েছিল। বাড়ি ফিরে মা শাড়িটা আলমারিতে তুলে রেখেছিলেন।


“পরবে না?” নীলা জিজ্ঞেস করেছিল।


“বিশেষ দিনে পরব।”


সেই বিশেষ দিন আর আসেনি।


একদিন মায়ের বাড়িতে গিয়ে নীলা রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছিল। পাশের ঘরে শিউলি খালা বসে ছিলেন। দুজনের সামনে চায়ের কাপ, মাঝখানে একটা প্লেটে বিস্কুট।


শিউলি খালা বলছিলেন, “নীলার জামাই তো বেশ ভালো। মেয়েটাকে সুখে রেখেছে।”


রহিমা বেগম কাপটা নামিয়ে বললেন, “ভালো তো রাখবেই। মেয়ের ভাগ্য ভালো।”


“তাতে তোমার খুশি হওয়ার কথা।”


“খুশি হই না, তা বলিনি।”


মা জানালার দিকে তাকালেন। বাইরে শুকাতে দেওয়া কাপড়গুলো বাতাসে উড়ছিল।


“কিন্তু নিজের জীবনটার কথা মনে পড়ে যায়। এত বছর সংসার করলাম, কোনো দিন কেউ জিজ্ঞেস করল না আমার কী ভালো লাগে। একটা শাড়ি পছন্দ হলে দাম দেখে রেখে দিয়েছি। অসুখ হলে নিজেই ওষুধ কিনেছি। আর ওর মুখ একটু ভার হলেই জামাইয়ের কত চিন্তা!”


শিউলি খালা চুপ করে চা খাচ্ছিলেন।


মা আবার বললেন, “মেয়েটা ভালো থাকুক, আমিও চাই। কিন্তু সবকিছু এত সহজে পেয়ে গেলে সংসারের দাম বোঝে?”


নীলা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। তার হাতে মেয়ের জন্য কেনা ফ্রকের প্যাকেট। আঙুলের চাপে প্লাস্টিকটা মচমচ করে উঠল।


মা একটু থেমে বললেন, “মাঝে মাঝে মনে হয়, ওর জীবনেও একটু ঝড় আসুক। তখন বুঝবে, সব দিন এক রকম যায় না।”


কথাটা বলেই মা বিস্কুটের প্লেটটা শিউলি খালার দিকে এগিয়ে দিলেন।


“আরেকটা নাও।”


নীলা আর দাঁড়াতে পারল না। রান্নাঘরের কল খুলে হাত ধোয়ার ভান করল। পানির শব্দে নিজের শ্বাসের শব্দটাও চাপা পড়ে গেল।


এই সেই মা, যে ছোটবেলায় তার জ্বর হলে সারারাত মাথায় পানি দিতেন। যে মা নিজের ভাগের মাছটুকু মেয়ের পাতে তুলে দিয়ে বলতেন, তাঁর খেতে ইচ্ছে করছে না।


সেই মানুষটির ভালোবাসা কি মিথ্যা ছিল?


“কে রে?”


মায়ের ডাকে নীলা ঘরে ঢুকল।


“আমি, মা।”


মা তার হাত থেকে প্যাকেটটা নিয়ে ফ্রক দেখলেন। তারপর বললেন, “বাচ্চাদের জিনিসেরও কত দাম! তোদের সময়টা ভালো।”


নীলা মৃদু হেসে বলল, “তোমার সময়টাও তো ভালো হতে পারত, মা।”


রহিমা বেগম মুখ তুলে তাকালেন। কথাটা তাঁর ভালো লাগল কি না, বোঝা গেল না।


কিছুক্ষণ পর তিনি নীলার জন্য চা বানালেন। নিজের কাপ থেকে একটা বিস্কুট ভেঙে অর্ধেক মেয়ের দিকে বাড়িয়ে দিলেন।


“নে, খা।”


নীলা বিস্কুটটা নিল। মায়ের চোখের নিচে কালি পড়েছে, হাতের আঙুলগুলোও আগের চেয়ে বাঁকা। হঠাৎ তার মনে হলো, এই মানুষটার জীবনে কত কিছুই হয়তো অপূর্ণ থেকে গেছে।


কিন্তু সেই অপূর্ণতার দায় কি তার?


বেরোনোর সময় মা ওড়নাটা ঠিক করে দিয়ে বললেন, “পৌঁছে ফোন করিস। আর শরীরের দিকে খেয়াল রাখিস।”


নীলা মাথা নাড়ল।


রাতে বাড়ি ফিরে মেয়েকে কোলে নিয়ে বসেছিল সে। রাশেদ পাশ থেকে বলল, “কী হয়েছে? আজ এত চুপচাপ কেন?”


“কিছু না।”


সে জানত, কথাটা বললে রাশেদ হয়তো অবাক হবে। কিন্তু মায়ের সম্পর্কে অভিযোগ করতে গিয়ে নিজেরই কেমন অপরাধী মনে হয়।


ঘুমানোর আগে ফোনটা বেজে উঠল।


মা।


“পৌঁছেছিস?”


“হ্যাঁ, মা।”


“নাতনি কী করছে?”


“ঘুমাচ্ছে।”


মা একটু থেমে বললেন, “আল্লাহ তোদের ভালো রাখুক।”


ফোন কেটে গেল।


নীলা ঘরে ফিরে দেখল, রাশেদ ঘুমিয়ে পড়েছে। মেয়েটাও ঘুমের মধ্যে মাকে খুঁজে হাত বাড়াল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1476 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29829। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5093
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
মায়ের ভাগে শুধু পুরোনো ঘর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন পারিবারিক দ্বন্দ্বের ছোটগল্প ১৯[...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মায়ের বাক্সের তালিকা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন মায়ের আত্মত্যাগের ছোটগল্প ১৯ অক্টো&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
21 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মানুষ সবচেয়ে বেশি ভয় পায় অভাবী মানুষকেই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী  | &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
477 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মায়ের পক্ষপাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ১৬ অক্টোবর ২০২৬ একটি বাড&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
23 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৫-এক মায়ের নীরব লড়াই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
56 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2225 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    11 মন্তব্য

    110 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    210 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    10 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...