Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নিজের জীবন, নিজের ভয় (নারী, পরিবার ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব)

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,185 পয়েন্ট)   13 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

নিজের জীবন, নিজের ভয়

(নারী, পরিবার ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব)image



মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণমূলক লেখা 

২২ অক্টোবর ২০২৬


মেয়েটি পড়াশোনা করতে চেয়েছিল, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছিল, হয়তো নিজের পছন্দের একটি জীবনও চেয়েছিল। কিন্তু একসময় সে নিজেকেই প্রশ্ন করতে শুরু করল, ‘আমি যা চাই, তা কি সত্যিই চাওয়ার অধিকার আমার আছে?’


ছোটবেলা থেকে সে শুনেছে, ভালো মেয়েরা পরিবারের কথা ভাবে। বড় হওয়ার পর শুনেছে, বয়স থাকতে বিয়ে করতে হয়। বিয়ের পর প্রশ্ন এসেছে, সন্তান কবে হবে। সন্তান হওয়ার পর বলা হয়েছে, নিজের কথা পরে ভেবো, এখন বাচ্চার ভবিষ্যৎটাই আগে।


সবার প্রত্যাশা পূরণ করতে করতে একসময় সে বুঝতে পারল, নিজের চাওয়াগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। পরিবারের কে কী চায়, কার কোন কথায় মন খারাপ হয়, কী করলে সবাই খুশি থাকে—এসব সে জানে। অথচ নিজের কাছে জানতে চাইলে, সে আসলে কী চায়, উত্তর দিতে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়।


বয়সের হিসাব, জীবনের হিসাব


আমাদের সমাজে মেয়েদের জীবনের জন্য কিছু অলিখিত সময়সীমা তৈরি করা আছে। নির্দিষ্ট বয়সে পড়াশোনা শেষ করতে হবে, চাকরি পেতে হবে, বিয়ে করতে হবে, তারপর সন্তান নিতে হবে। একটু এদিক-ওদিক হলেই প্রশ্ন শুরু হয়।


“এখনো বিয়ে করছ না কেন?”


“সংসার করবে কখন?”


“সন্তান নেওয়ার কথা ভাবছ না?”


প্রশ্নগুলো স্বাভাবিক কথাবার্তার মতো শোনালেও বারবার শুনতে শুনতে একজন নারী নিজের ইচ্ছার চেয়ে অন্যের প্রত্যাশাকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন। তিনি ভাবেন না, বিয়েতে তাঁর মন সায় দিচ্ছে কি না; ভাবেন, দেরি হলে মানুষ কী বলবে। সন্তান নেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত কি না, সেই প্রশ্নের আগেই মনে আসে, পরিবারকে আর কত দিন অপেক্ষা করাবেন।


অথচ সবার জীবনের সময়সূচি এক নয়। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া মানেই পিছিয়ে পড়া নয়। কিন্তু সমাজের চোখে গ্রহণযোগ্য হওয়ার চাপে অনেক নারী নিজের পছন্দকেই সন্দেহ করতে শুরু করেন।


পরিবারকে কষ্ট দেওয়ার ভয়


মেয়েটির সবচেয়ে বড় দ্বিধা হয়তো সমাজকে নিয়ে নয়, নিজের পরিবারকে নিয়ে।


একবার সে অন্য শহরে চাকরির সুযোগ পেয়েছিল। কাজটা তার পছন্দের, নিজের পায়ে দাঁড়ানোরও সুযোগ। খবরটা মাকে জানাতেই মা বললেন, “তুই চলে গেলে আমরা এখানে একা কীভাবে থাকব?”


মেয়েটি চুপ করে গেল। সে জানত, মা তাকে ভালোবাসেন। কিন্তু মায়ের কথার পর নিজের স্বপ্নের দিকে এগোনোটা তার কাছে স্বার্থপরতার মতো মনে হলো। শেষ পর্যন্ত চাকরির আবেদনটা আর এগোল না।


কোথাও ঝগড়া হয়নি, কেউ সরাসরি নিষেধও করেনি। শুধু একজন মা নিজের ভয় প্রকাশ করেছেন, আর একজন মেয়ে সেই ভয়কে নিজের সিদ্ধান্তের ওপর বসিয়ে দিয়েছে।


এমন অনেক সিদ্ধান্তের কোনো সাক্ষী থাকে না। মেয়েটি হয়তো অন্যদের বলে, “আমি নিজেই যাইনি।” কিন্তু কেন যায়নি, সেই উত্তরটি সে নিজেকেও সব সময় বলতে পারে না।


বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকা স্বাভাবিক। তাঁদের অনুভূতিও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাঁদের ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সব সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিতে হবে, এমন নয়। কোনো বিষয়ে অসম্মতি জানানো মানেই তাঁদের অবদান অস্বীকার করা নয়।


তবু অনেক মেয়ের মনে হয়, নিজের জন্য কিছু চাইলে কাউকে না কাউকে কষ্ট পেতেই হবে, আর সেই কষ্টের দায় তাঁদেরই নিতে হবে।


নিজের ইচ্ছাও একসময় অচেনা লাগে


বছরের পর বছর অন্যের প্রয়োজনকে আগে রাখতে রাখতে একজন নারী একসময় নিজের চাওয়াকেই চিনতে পারেন না। কেউ জিজ্ঞেস করলে, “তুমি কী করতে চাও?”—তিনি প্রথমেই ভাবেন, পরিবার কোন উত্তরটি মেনে নেবে।


নিজের ইচ্ছা মনে এলেও সঙ্গে সঙ্গে ভাবেন, এতে কারও মন খারাপ হবে কি না, মানুষ তাঁকে স্বার্থপর বলবে কি না। ধীরে ধীরে নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করার আগেই তিনি তার বিরুদ্ধে যুক্তি খুঁজে বের করেন।


সে কারও মেয়ে, কারও স্ত্রী, কারও মা—এই পরিচয়গুলো তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এগুলোর বাইরেও সে একজন স্বতন্ত্র মানুষ। তার পছন্দ আছে, আগ্রহ আছে, নিজের মতো করে কিছু করার ইচ্ছা আছে। সেগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া মানে পরিবারকে ছোট করা নয়।


নিজের পরিচয় ফিরে পেতে সব সম্পর্ক ছেড়ে চলে যেতে হয় না। কখনো শুরুটা হতে পারে অসমাপ্ত পড়াশোনা আবার শুরু করা, নিজের পছন্দের কাজে সময় দেওয়া কিংবা বহুদিনের কোনো স্বপ্ন নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা থেকে।


পরিবারের ভেতরেও নিজের জায়গা


স্বাধীনতা মানেই পরিবার থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়। একজন নারী বাবা-মায়ের পাশে থেকেও নিজের পেশা বেছে নিতে পারেন, সংসারের দায়িত্ব পালন করেও নিজের জন্য সময় চাইতে পারেন। সম্পর্ক বজায় রাখা আর পরিবারের প্রত্যাশার কাছে নিজের সব ইচ্ছা সমর্পণ করা এক নয়।


পরিবারকেও বুঝতে হবে, মেয়ের সিদ্ধান্ত সব সময় তাঁদের পছন্দের সঙ্গে মিলবে না। সেই অমিলকে অবাধ্যতা না ভেবে একজন স্বতন্ত্র মানুষের অধিকার হিসেবে মেনে নেওয়া জরুরি।


মেয়েটি হয়তো একদিন আবার কোনো চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে থামবে। কাজটা তার ভালো লাগবে। অন্য শহরে থাকতে হতে পারে, মায়ের একা লাগতে পারে, আত্মীয়রা প্রশ্নও করতে পারেন। ভয়গুলো এবারও থাকবে।


তবু সে মাকে ফোন করে বলবে, “মা, একটা কাজের সুযোগ পেয়েছি। আমি চেষ্টা করে দেখতে চাই।”


ওপাশ থেকে মা কী বলবেন, সে জানে না। ফোন রেখে মেয়েটি আবার বিজ্ঞাপনটির দিকে তাকাবে। আবেদন করার বোতামটা তখনো পর্দায় জ্বলছে।


এবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সে শুধু মায়ের কথা ভাববে না। নিজের কথাটাও ভাববে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1444 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29185। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5048
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
না বলার অপরাধ (নারী, পরিবার ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বিচার দিতে গিয়ে (দাম্পত্য, পরিবার ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শক্ত থাকারও ক্লান্তি আছে (মনস্তত্ত্ব ও সমকালীন জীবন) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেø[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
আদর্শ পরিবার: স্বামী-স্ত্রীর অধিকার ও যৌথ কর্তব্য (শেষ পর্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  [...] বিস্তারিত পড়ুন...
262 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
আদর্শ পরিবার: বিবাহোত্তর কু-প্রথা ও স্বামীর কর্তব্য (ষষ্ঠ পর্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
212 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1581 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    8 মন্তব্য

    78 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    65 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...