Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

গল্প আছে, সাহিত্যে নেই

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (19,811 পয়েন্ট)   2 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

গল্প আছে, সাহিত্যে নেইimage   

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

বিশ্লেষণধর্মী । ১২ জুন, ২০২৬


চারপাশে গল্পের কমতি নেই। তবু সাহিত্যের পাতা ওল্টালে সেই গল্পগুলোর দেখা মেলে কই?


কথাটা মাথায় ঘুরপাক খায়। প্রায়ই।


সকালের কাগজে চোখ রাখলেই টের পাওয়া যায়। মিরপুরের এক গ্যারেজে দশ বছরের শফিক কালি মাখা হাতে ভাতের থালায় বসে। স্কুলের নাম সে কেবল সাইনবোর্ডে দেখেছে। পিজি হাসপাতালের বহির্বিভাগে রহিমা বেগমের হাতে ভাঁজ পড়া টিকিট। ছয় দিন হলো ডাক্তার দেখাতে পারেননি। উত্তরার এক ফ্ল্যাট নিয়ে সন্ধ্যায় গুজব ছড়াল। ‘বাড়িওয়ালা ছেলেধরা’। রাত নামার আগেই পরিবারটা সুটকেস গুছিয়ে ফেলল। আবার কাঁটাবনের মোড়ে রাসেল দাঁড়িয়ে হিসাব কষে। ৭০০ টাকা হলেই ৪৫তম বিসিএসের ফরম তোলা যায়। পকেটে আছে ২৬০।


এগুলোই গল্প। এবং আমার ধারণা, সবচেয়ে জরুরি গল্প।


কিন্তু সাহিত্যের দিকে তাকালে মনে হতে পারে, এই মানুষগুলো কোনো অদৃশ্য ফাঁক গলে পড়ে যাচ্ছে।


বলছি না যে কেউ লিখছেন না। ইলিয়াসের পরে শাহাদুজ্জামানের ‘ক্রাচের কর্নেল’ কিংবা হারুন হাবীবের কোনো কোনো গল্পে সময়ের আঁচ লাগে। তবু সামগ্রিক ছবিটা দেখলে অস্বস্তি হয়। আমাদের কালের যে ক্ষতগুলো রোজ সকালে ব্যান্ডেজ ছাড়াই রাস্তায় নামে, সাহিত্যে তার দাগ কি ততটা গাঢ়?


এর একটা কারণ হয়তো আরাম। নিরাপদ বিষয়ে কলম চলে সহজে।


প্রেম নিয়ে লিখলে কেউ মানহানির মামলা করে না। নিজের ছেলেবেলার পদ্মপুকুর নিয়ে লিখলে পাঠক চোখ মোছেন। এগুলো লেখা যাবে না, তা নয়। সমস্যাটা বাঁধে তখন, যখন প্রায় সব লেখাই একই উঠানে হাঁটে। তখন যে প্রশ্নগুলো আমাদের ঘুম কামড়ে ধরে, সেগুলো পাণ্ডুলিপির বাইরে থেকে যায়।


ওখানে ঝামেলা কম। কেউ তেড়ে আসবে না। কাউকে অস্বস্তিতে ফেলার ভয় নেই। ফলে আমরা এমন গল্প বাছি যা পড়ে আরাম লাগে, অথচ আয়নার সামনে দাঁড় করায় না।


অথচ সাহিত্যের কাজ তো ধাক্কা দেওয়া।


‘চিলেকোঠার সেপাই’ তার সময়ের দমবন্ধ অবস্থাকে পাশ কাটায়নি। ‘গণদেবতা’য় আকাল এসেছে খালি পায়ে। লেখকেরা চোখ ফিরিয়ে নেননি। কারণ সাহিত্য শুধু বানিয়ে তোলা জগত না। এটা একটা সমাজ কীভাবে হাঁটল, কোথায় উষ্টা খেল, কীভাবে সেলাই নিয়ে আবার উঠে দাঁড়াল, তার হিসাব।


আজকের দিন কি কম জটিল? মনে হয় না।


আমাদের সবার হাতে একটা করে স্ক্রিন। সেটা সম্পর্ক বদলায়, মনোযোগ কাটে। মগবাজারের রফিক সাহেব গত মাসে চাকরি হারালেন। সামনে ইএমআই, ছেলের স্কুলের বেতন, বাসা ভাড়া। থেরাপিস্টের কথা উঠলেই আমরা হেসে ফেলি। ‘আমি কি পাগল?’ ফলাফল, আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কানেক্টেড, কিন্তু রাত দুটোয় মেসেঞ্জারের নীল আলোয় একা।


এই বাস্তবতাগুলো সাহিত্যে কতটা আসছে?


আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি না। পাঠক হিসেবে পড়তে গিয়ে মাঝে মাঝে মনে হয়, যথেষ্ট না।


অনেক উপন্যাসে এমন সব চরিত্র মেলে যাদের বসার ঘরটা অসম্ভব পরিপাটি। তাদেরও যন্ত্রণা আছে। কিন্তু সেই যন্ত্রণার সাথে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার ইন্টারভিউর আগের রাতটা মেলে না। বই শেষ হয়। ভালোও লাগে। তবু কোথায় যেন একটা দূরত্ব রয়ে যায়।


কারণ পাঠক তখনই নড়ে ওঠেন, যখন পাতার ভেতর নিজের হাতের রেখা দেখতে পান।


সত্যি বলতে, বাস্তবতা নিয়ে লেখা সহজ না। সত্যের গায়ে সবসময় আতরের গন্ধ থাকে না। সেখানে অন্যায়ের ঝাঁজ আছে। বঞ্চনার কালি আছে। লিখতে গেলে নিজেকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড়াতে হয়।


সেই অস্বস্তি এড়িয়ে গেলে সাহিত্য নিরাপদ হয়। তবে একই সাথে দূরেরও হয়ে যায়।


আমার কাছে মনে হয়, সাহিত্যের কাজ কেবল বাক্যের কারুকাজ না। এর কাজ হলো সেই মানুষটার পাশে গিয়ে বসা যাকে আমরা রোজ দেখি, কিন্তু যার কথা শুনি না।


গার্মেন্টস থেকে ফিরে যে মেয়েটা পায়ের ফোস্কায় মলম লাগায়। সিভি ফটোকপি করতে গিয়ে যার শেষ বিশ টাকা ফুরিয়ে যায়। কলাবাগানের যে দাদুটা এখন বিকেলে ছাদে একা চা খান আর পুরোনো চিঠি পড়েন। ইটভাটায় যে বাচ্চাটার তালুতে ফোসকা পড়ে।


এই টেনশনগুলোই বলে দেয়, এরা কেউ দৃশ্যের বাইরের লোক না। এরাই সময়।


হ্যাঁ, সাহিত্যে প্রেম থাকবে। রহস্য থাকবে। জাদুবাস্তবতাও থাকুক। কিন্তু তার সাথে রাস্তার ধুলোটাও থাকা দরকার। কারণ আমরা কেবল স্বপ্নে বাঁচি না। আমরা বাজারে দামাদামি করি। বৃষ্টিতে বাস মিস করি। রিপোর্ট হাতে নিয়ে ডাক্তারের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকি।


আসলে কথাগুলো আমি অন্যদের শোনাচ্ছি না শুধু। নিজেকেও। লিখতে বসলেই টের পাই, কঠিন গল্পের সামনে আঙুল কাঁপে। সহজ গল্পের নরম বিছানায় গা এলিয়ে দিতে ইচ্ছে করে।


তাই প্রশ্নটা ফিরে আসে। বারবার।


চারপাশে এত মুখ, এত ঘটনা। তার কতটুকু আমরা কাগজে তুলতে পারছি?


গল্পের অভাব আছে বলে মনে হয় না। গল্প ফুটপাতে শুয়ে আছে। বাসের হাতলে ঝুলছে। বিকাশের দোকানের লাইনে দাঁড়িয়ে ঘামছে।


কমতি যদি থাকে, সেটা আমাদের দেখার। আমরা কতটা মন দিয়ে তাকাচ্ছি, সেটাই আসল কথা।


আপনার চোখে, আজকের বাংলাদেশের কোন চাপা দীর্ঘশ্বাসটা সাহিত্যে আরও স্পষ্ট হওয়া দরকার?

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 981 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 19811। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4054
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


  বাংলা সাহিত্যে শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর[...] বিস্তারিত পড়ুন...
619 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

বাংলা সাহিত্যে ধর্ম: বিশ্বাস নাকি ব্যবহার? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । এপ্রিল ৩০, ২০২৬ বাংলা সাহিত্যকে বোঝার চেষ্টা করলে ধর্মকে আলাদা করে দেখা যায় না। শুরু থেকেই এটি কখনো বিশ্বাস[...] বিস্তারিত পড়ুন...
622 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাহিত্যে বাস্তবতা সংকট মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। এপ্রিল ২৫, ২০২৬ (“সা&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
70 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাহিত্যে প্রান্তিক কণ্ঠ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | এপ্রিল ২৫, ২০২৬ (আমা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
425 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাংলা সাহিত্যে ব্রেকআপ কালচার নতুন সাহিত্য ভাষা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
73 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    509 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    25 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    113 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

...