ভালোবাসার সম্পর্কে থাকাকালীন প্রেম, সংযুক্তি, নির্ভরতার অনুভূতি জমা হয়। একসঙ্গে চলতে গিয়ে কতশত স্মৃতি তৈরি হয়। মানুষটি তখন আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে ওঠে। হয়ে ওঠে শক্তি, মমতা, ভালোবাসা, আবেগের কেন্দ্রস্থল। ভালোবাসাটা যতটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে, ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে আমরা যেন ততটা দুর্বল হয়ে পড়ি। কিন্তু তুমুল এই ভালোবাসার সম্পর্কও ভেঙে যেতে পারে। সময়ের টানে ছেড়ে যেতে হতে পারে সবচেয়ে ভালোবাসার দুটি হাত।
কতটা পথ হাঁটলে ঠিক সম্পর্ক পূর্ণতা পায়? না, জানা নেই। তবে এতটুকু জানি যে, বর্তমানে বহু সম্পর্ক (Relationship) তৈরি হওয়ার আগেই ভেঙে যায়। দুজনে একসঙ্গে মিলেই নিয়ে ফেলেন ব্রেক-আপের (Breakup) সিদ্ধান্ত। কেন এমনটা হয়?
সম্পর্কে বিচ্ছেদ আসতেই পারে। ব্রেক-আপের পরে কীভাবে নিজেকে সামলাবেন—আজকের লেখায় সেটাই আমি জানাব।
কিছু অনিবার্য কারণে সম্পর্কে যখন ছেদ টানতে হয়, তা বড়ো সহজ নয়। ব্রেক-আপের পরে নিজেকে সামলে নিতে কিছুদিন সময় লাগে। তবে কয়েকটা কথা মাথায় রাখুন, আখেরে তা আপনার কাজে দেবে—
১. ব্রেক-আপের পরে, তা সে যত তিক্তই হোক না কেন, একজন মানুষকে ভুলতে একটু সময় লাগে। হাজার হোক তিনি এতদিন আপনার জীবনের একটি অংশ জুড়ে ছিলেন। তার সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগের রাস্তা বন্ধ করুন। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো থেকে নিজেকে কয়েকদিন সরিয়ে নিন। যতই কষ্ট হোক, তার সঙ্গে ফোনে কথা বলার চেষ্টা না করাই ভালো। নিজেকে কিছুদিন বিচ্ছিন্ন রাখলে, সামলে ওঠা অনেকটাই সহজ হবে। আরও একটা ব্যাপার অনেকেই করেন—সম্পর্কের খাতিরে অনেক সময় আমরা আমাদের ঘনিষ্ঠ মানুষদের অনেক গোপন তথ্য জানি, যেমন ই-মেইল পাসওয়ার্ড ইত্যাদি। সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পরে তার গতিবিধির উপরে নজর রাখতে পাসওয়ার্ড ইত্যাদি ব্যবহার করে তার ব্যক্তিগত পরিসরে ঢোকার কোনও অধিকার আপনার নেই।
২. ব্রেক-আপের পরে একটা শূন্যতা বোধের সৃষ্টি হয়। এই শূন্যতাবোধ থেকে মানসিক অবসাদ তৈরি হতে পারে। তাই এই সময়টা যতটা পারেন পরিবারের মানুষের সঙ্গে সময় কাটান। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। আপনার বন্ধুকে আপনার কষ্টের কথা বলুন। বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে যান, রেস্তোরাঁয় খেতে যান। আগে যেমন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন, তেমনই স্বাভাবিক জীবন কাটানোর চেষ্টা করুন।
৩. নিজের কাজের উপর মনোযোগ বাড়ান। আপনি যখন কোনও কাজ মন দিয়ে করেন, তখন মন খারাপ তেমনভাবে আপনার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। তাই নিজেকে ব্যস্ত রাখা হলো ব্রেক-আপের একটা বড়ো দাওয়াই। কাজের বাইরে পছন্দের কোনও বিষয় নিয়ে সময় কাটাতে পারেন। বই পড়া, সিনেমা দেখা, বাগান করা এগুলো অনেকটা সময় মানুষকে মন খারাপ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। নতুন কোনও শখ (Hobby) নিয়ে ভাবতে পারেন। নতুন কিছু শেখার কথা ভাবতে পারেন।
৪. সম্পর্ক ভেঙে গেলে কষ্ট তো হবেই। তবে কোনও সম্পর্ক তো কিছু নির্দিষ্ট কারণেই ভাঙে। ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখলে হয়তো দেখবেন, যা হয়েছে, ভালোর জন্যই হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারেন। ভবিষ্যতে কোনও নতুন সম্পর্ক তৈরি করার সময় আগের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা আপনার কাজে লাগতে পারে।
৫. ব্রেক-আপ হয়ে যাওয়া মানেই সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। জীবনটাকে পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখতে শিখুন। যা হয়েছে তা স্বীকার করে নিন, মেনে নিন। তাহলে পরিস্থিতি অনেক সহজ হয়ে আসবে। আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুন। নিজের গুণগুলোর কথা ভাবুন। অধৈর্য হয়ে পড়বেন না।
৬. নিজেকে সময় দিন। একটা হেলদি লাইফস্টাইল কাটানোর চেষ্টা করুন। এক্সারসাইজ, স্বাস্থ্যকর ফুড হ্যাবিট মানসিক অবসাদ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।
৭. ব্রেক-আপের পরে যদি হঠাৎ কোনও কারণে আপনার প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার মুখোমুখি হয়ে পড়েন, তাহলে তার সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই দু-একটা কথা বলুন। কোনও তর্কাতর্কি বা বাদানুবাদে যাবেন না।
ব্রেক-আপের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় আপনার আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। তাই এ সময় নিজের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার পছন্দের টিভি শো দেখে, পছন্দের খাবার খেয়ে বা নিজের জন্য একটি ছোটো ট্রিট কিনে নিজেকে প্যাম্পার করুন। এছাড়াও ইতিবাচক চিন্তার শক্তিকে খাটো করে দেখবেন না। প্রতিদিনের ইতিবাচক ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবুন। সবসময় হাসিখুশি মনোভাব নিয়ে ঘুমাতে যান।
#ব্রেকআপ #ভালোবাসা #মনোবিজ্ঞান #পজিটিভলাইফ #মানসিকস্বাস্থ্য #সেল্ফকেয়ার #বাংলালেখা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।