Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শিশুর হাসি থাকুক উপাসনালয়ে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,644 পয়েন্ট)   14 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শিশুর হাসি থাকুক উপাসনালয়েimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণমূলক লেখা | ০১ অক্টোবর  ২০২৬


একটা ছোট শিশু বাবার হাত ধরে মসজিদে ঢুকেছে। বাবা নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। শিশুটি কখনো বাবার দিকে তাকাচ্ছে, কখনো আশপাশ দেখছে। একটু পর পাশের আরেকটি শিশুর সঙ্গে কথা বলল, অল্প একটু হাসল, তারপর অস্থির হয়ে নড়াচড়া শুরু করল।


হঠাৎ একজন মুরব্বির ধমক।


‘চুপ করো।’


শিশুটি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। আবার নড়ল। এবার তাকে হাত ধরে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হলো।


বড়দের কাছে ঘটনাটি হয়তো কয়েক মিনিটের। নামাজের পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য শিশুটিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি সেখানেই শেষ। কিন্তু শিশুটির কাছে বিষয়টি সেখানেই শেষ নাও হতে পারে।


সে সেদিন নামাজের গুরুত্ব বুঝল না। শুধু বুঝল, মসজিদে গেলে বকা খেতে হয়।


পরের দিন বাবা যখন বলবেন, ‘চলো, মসজিদে যাই’, সে আগের মতো উৎসাহ নিয়ে নাও যেতে পারে। কয়েকবার এমন হওয়ার পর একদিন হয়তো বলেই বসবে, ‘আমি যাব না।’


তখন আমরা বলব, ‘ছেলেটা ধর্মের দিকে আগ্রহী নয়।’


কিন্তু প্রশ্নটা কি একটু অন্যভাবে করা উচিত নয়?


একটি শিশু জন্মের পর থেকেই সবকিছু বুঝে ফেলে না। তাকে ধীরে ধীরে শেখাতে হয়। মসজিদে কীভাবে থাকতে হয়, নামাজের সময় কেন শান্ত থাকতে হয়, অন্যের প্রার্থনার সময় কেন তাকে বিরক্ত করা যাবে না, এসবও তার শেখার বিষয়।


অবশ্য উপাসনালয়ে শৃঙ্খলাও জরুরি। শিশুর দৌড়াদৌড়ি বা চিৎকারে অন্যের প্রার্থনায় ব্যাঘাত ঘটলে তাকে থামাতে হবে। কিন্তু শাসন আর অপমান এক বিষয় নয়। সে দৌড়ালে বলা যায়, ‘চলো, এখানে আস্তে হাঁটি।’ সে কথা বললে বলা যায়, ‘নামাজ শেষ হলে তোমার সঙ্গে কথা বলব।’


শিশুদের প্রতি এমন ধৈর্যের একটি দৃষ্টান্ত ইসলামী ঐতিহ্যেও পাওয়া যায়। সহিহ হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে থাকা অবস্থায় কোনো শিশুর কান্না শুনলে নামাজ সংক্ষিপ্ত করতেন, যাতে শিশুটির মায়ের কষ্ট না হয়। ইবাদতের মর্যাদা বজায় রেখেও শিশুর অবস্থার প্রতি বিবেচনা করা সম্ভব।


শুধু একটি ধর্মের শিক্ষাতেই নয়, অন্য ধর্মীয় গ্রন্থেও শিশুর প্রতি মমতার কথা আছে। গীতায় (১২/১৩) বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো জীবের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না এবং সবার প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ও করুণাশীল, সেই গুণবান। বাইবেলে (মথি ১৯:১৪) যিশুর বক্তব্য, শিশুদের তাঁর কাছে আসতে দিতে এবং তাদের বাধা না দিতে।


আমরা উপাসনালয় তৈরি করি, সংস্কার করি, সুন্দর করি। মসজিদের উন্নয়নে অনুদান দিই। মন্দির ও গির্জার জন্যও মানুষ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করে। কিন্তু শিশুদের জন্য আমরা কী করছি?


একটি মসজিদের ছোট্ট কোণে কয়েকটি চকলেট বা ক্যান্ডি রাখা যেতে পারে। খুব বড় খরচ নয়। প্রথম দিন শিশুটি হয়তো চকলেটের জন্য আসবে। কয়েকদিন পর চকলেটের চেয়ে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়াটাই তার কাছে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।


প্রতি জুমার নামাজের পর সামান্য তবারকের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। একটি খেজুর, একটি মিষ্টি বা সামান্য কোনো খাবারই যথেষ্ট। উদ্দেশ্য শুধু শিশুকে খাওয়ানো নয়, উপাসনালয়ের সঙ্গে তার মনে একটি আনন্দের স্মৃতি তৈরি করা।


একইভাবে মন্দিরে শিশুদের জন্য প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় গল্প শোনানো বা বয়স অনুযায়ী ছোট আয়োজন করা যেতে পারে। গির্জাতেও শিশুদের জন্য গল্প, গান, অংশগ্রহণমূলক আয়োজন বা সামান্য খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব। ধর্মীয় বিধান আলাদা হলেও শিশুদের সুন্দরভাবে ধর্মীয় পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করে তোলার প্রয়োজনটি সবার ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।


এখানে বাবা-মায়ের ভূমিকাও কম নয়। শিশুকে শুধু উপাসনালয়ে নিয়ে গেলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাকে বুঝিয়ে বলতে হয়, এখানে কেন আসা হয়, কীভাবে আচরণ করতে হয় এবং অন্যের প্রার্থনার সময় কেন শান্ত থাকতে হয়।


একজন মুরব্বি যদি রাগ না করে শিশুটিকে পাশে বসান, সেটিও একটি শিক্ষা। একজন বাবা যদি নামাজ শেষে ছেলের মাথায় হাত রেখে বলেন, ‘আজ তুমি খুব ভালো ছিলে’, সেটিও একটি শিক্ষা। একজন মা যদি মেয়েকে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে ধৈর্য ধরে নিয়ম বোঝান, সেটিও একটি শিক্ষা। একজন অভিভাবক যদি সন্তানকে গির্জায় নিয়ে গিয়ে সেখানকার নিয়ম ও পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখাতে শেখান, সেটিও তার বেড়ে ওঠার অংশ।


শিশুর মনে ধর্মের প্রথম ছবি অনেক সময় বই থেকে আসে না। আসে বড়দের আচরণ দেখে।


তাই শাসন থাকবে, কিন্তু অপমান নয়। নিয়ম থাকবে, কিন্তু অকারণ ভয় নয়।


উপাসনালয়ে শুধু প্রার্থনার শব্দ নয়, শিশুর হাসিও থাকুক।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1368 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27644। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4904
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শিশুর কান্না আর রাষ্ট্রের নীরবতা  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ২৩ মে, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
456 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ছবির হাসি আর জীবনের খুশি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
26 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ছবির হাসি আর জীবনের খুশি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
29 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

বেঁচে থাকুক সব স্বপ্ন পূর্ণ না হোক, কিছু স্বপ্ন বেঁচে থাকুক। সব কথা বলা না হোক, কিছু কথা নীরবতায় থাকুক। সব মানুষ কাছে না থাকুক, কিছু মানুষ স্মৃতিতে থাকুক। সব ভালোবাসা পাওয়া না হোক, কিছু ভা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
33 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৩-ছোট্ট শিশুর বড় স্বপ্ন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
45 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    40 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Md Nayeem sheikh

    2 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...