Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অতিচিন্তার অবসাদ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
54 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,767 পয়েন্ট)   02 মার্চ "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

অতিচিন্তার অবসাদimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী | মার্চ ০২, ২০২৬


গত মাসে রাত দুইটার দিকে ঘুম ভেঙে গেল। কোনো দুঃস্বপ্ন না, বাইরে কোনো শব্দও না। শুধু মাথার ভেতর একটা প্রশ্ন—আমি কি ঠিকমতো বাঁচছি?


তারপর শুরু হলো প্রশ্নের মিছিল। কেন এই কাজ করছি। মানুষ আমাকে কীভাবে দেখে। আমি নিজেকে কীভাবে দেখি। মনে হচ্ছিল, মাথার ভেতর কেউ পুরোনো আলমারি খুলে সব কাপড় মেঝেতে ছুড়ে দিয়েছে। গুছোতে পারছি না।


ঘড়ির কাঁটা এগোচ্ছিল। আমি না।


সকালে মা জিজ্ঞেস করলেন, "ঘুম হয়েছিল?"

বললাম, "হ্যাঁ, ভালো।"


কথাটা বলেই টের পেলাম—এটা উত্তর না, অভ্যাস। ভালো মানে কী? মাথা শান্ত? বুক হালকা? না। শুধু সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটা শব্দ।


আমরা এখন অনুভূতির ভাষা জানি। কিন্তু অনুভূতির পাশে বসে থাকার ধৈর্য হারিয়েছি।


ঢাকার জ্যামে বসে থাকলে দেখি—সবাই ফোনে। কিন্তু আসল জ্যামটা ভেতরে। এত ভাবি, এত বিশ্লেষণ করি যে নিজের ভেতরের ছোট্ট কণ্ঠটা হারিয়ে যায়। আগে দুঃখ পেলে মানুষ হাঁটতে বের হতো, বা বন্ধুর কাছে যেত। এখন আমরা আগে খুঁজি—"আমার সমস্যার নাম কী?"


আমার এক বন্ধু আছে। সে প্রতিটা সম্পর্ক শুরু করার আগে নিজের মানসিক গঠন নিয়ে পড়ে—সংযুক্তির ধরন, শৈশবের প্রভাব, আচরণের ধারা। সব জানে। কিন্তু কোনো সম্পর্কেই এগোতে পারে না। কারণ সে আগেই ধরে নিয়েছে—ভাঙবে।


জ্ঞান তাকে সতর্ক করেছে। সাহস দেয়নি।


একদিন সে বললো, "আমি সংযুক্তি তত্ত্ব পড়েছি। আমার উদ্বিগ্ন-এড়িয়ে চলা ধরন আছে। তাই প্রতিশ্রুতিতে যেতে পারি না।"


আমি শুনলাম। তারপর বললাম, "কিন্তু তুমি কী অনুভব করছ এখন?"


সে চুপ হয়ে গেল। কয়েক সেকেন্ড পর বললো, "জানি না। ভয়... মনে হয়।"


ওই "জানি না"টা—সেটাই আসল কথা ছিল। বাকি সব ছিল ব্যাখ্যা।


মুরাকামির উপন্যাসে—নরওয়েজিয়ান উড বা কাফকা অন দ্য শোর—চরিত্রগুলো নিজের ভেতরের করিডোরে হাঁটে। একটা দরজা খুলে আরেকটা দরজা পায়। তারপর আরেকটা। শেষ নেই।


পড়তে পড়তে কখনো মনে হয়, এই করিডোরটা আমারই।


কিন্তু মুরাকামির চরিত্ররা একটা জিনিস করে—তারা হাঁটে। থেমে থাকে না। জানে না কোথায় যাচ্ছে, কিন্তু হাঁটা থামায় না।


আমরা অনেকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বিশ্লেষণ করতে থাকি—ভেতরে কী আছে, খুললে ঠিক হবে কি না, দরজাটার রং কেন এমন। হাঁটাটা ভুলে যাই।


শেকসপিয়ারের হ্যামলেটকে আমরা দ্বিধাগ্রস্ত বলি। কিন্তু তার সমস্যা দ্বিধা না—সিদ্ধান্তের আগে নিখুঁততার দাবি। সে চায় সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাক। প্রমাণ চায়, নৈতিক নিশ্চয়তা চায়।


আর সেই অপেক্ষায় তার চারপাশের মানুষ মরে যায়। নিজেও।


আমি নিজেও এই ফাঁদে পড়েছি। একটা লেখা লিখব বলে তিনদিন শুধু নোট বানালাম। কাঠামো ঠিক। উদাহরণ ঠিক। যুক্তি ঠিক।


শেষে দেখি—কাগজ ফাঁকা।


হয়তো অতিরিক্ত নিখুঁত হতে গিয়ে শুরুটাই হারিয়ে ফেলি। বা হয়তো আমি নিজেকে বোকা বানাচ্ছি—ভয়টা ঢাকতে পরিপূর্ণতার দোহাই দিচ্ছি।


এই সমস্যাটা শুধু ব্যক্তিগত না, সামাজিকও। এখন দুঃখেরও একটা ভঙ্গি আছে। কেউ কষ্ট পেলে আগে নিজের গল্প বলে না, সমস্যার নাম বলে।


"আমার বিষণ্নতা আছে।"

"আমার উদ্বেগজনিত সমস্যা আছে।"


এতে ভুল নেই। নাম জানা দরকার। কিন্তু শুধু নাম বললে দূরত্ব তৈরি হয়। কষ্টটা তখন স্পর্শ করা যায় না, শুধু শ্রেণিবদ্ধ করা যায়।


আমার দাদু পড়াশোনা জানতেন না। কিন্তু কারও মৃত্যুতে তার কান্না ছিল কাঁচা। সেখানে কোনো পরিভাষা ছিল না, তবু গভীর ছিল।


আমরা এখন অনেক শব্দ জানি। কিন্তু সেই কাঁচা অনুভূতি—যেখানে কোনো ব্যাখ্যা নেই, শুধু উপস্থিতি—সেটা কোথায় যেন আটকে যায়।


আমি জানি রাতে দেরি করে ফোন দেখলে মাথা ভার লাগে। তবু দেখি।

আমি জানি কিছু সম্পর্ক আমাকে ক্ষয় করে। তবু ছাড়তে দেরি করি।

জানা আর বদলানো আলাদা জিনিস।


একবার এক মনোচিকিৎসক বলেছিলেন, "আপনি নিজের সমস্যা খুব ভালো ব্যাখ্যা করতে পারেন। কিন্তু কখন শেষবার কেঁদেছিলেন?"


আমি উত্তর দিতে পারিনি।


সব প্রশ্নের উত্তর দরকার—এই ধারণাটাই হয়তো সবচেয়ে বড় ক্লান্তি। কিছু প্রশ্নকে রেখে দিতে হয়। জীবন সবসময় পরিষ্কার না।


কখনো সম্পর্ক ভাঙে, কোনো বড় নাটক ছাড়া। কখনো স্বপ্ন বদলে যায়। কারণ আমরা বদলাই।

কখনো কোনো কারণও খুঁজে পাই না। শুধু দেখি বদলে গেছে।


আর সেটা মেনে নেওয়াটাও একটা দক্ষতা।


কিছুদিন আগে এক পুরনো বন্ধুকে ফোন করলাম। কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আমরা কলেজের গল্প করলাম, পুরনো শিক্ষক নিয়ে হাসলাম।


ফোন রাখার পর মনে হলো—এই হাসির কোনো বিশ্লেষণ দরকার হয়নি। হাসিটা ছিল। বুকটা হালকা লাগলো। এই অনুভূতির কোনো নাম লাগেনি।


সেই মুহূর্তটা মনে করিয়ে দিলো—কিছু জিনিস শুধু থাকলেই হয়। বোঝার দরকার নেই।


কখনো শুধু বলা—"আমি ভয় পাচ্ছি"—এটাই শুরু।

বা—"আমি জানি না।"


এই স্বীকারোক্তিতে দুর্বলতা নেই। আছে সততা।


আমি এখনও রাতে জেগে থাকি কখনো কখনো। প্রশ্নগুলো এখনও আসে। কিন্তু এখন আর সবগুলোর উত্তর খুঁজি না।


কিছুদিন ঠিক লাগে। আবার কিছুদিন... শুধু লাগে না।


হয়তো বাঁচা মানে সব বোঝা না। হয়তো মানে ভুল করা। হয়তো মানেই—এখনও পুরোটা ধরা পড়েনি। বাকিটা পথে।


আজ সকালে বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখলাম—রোদ উঠছে। এতে কোনো গভীর অর্থ নেই। প্রতিদিন রোদ ওঠে।


কিন্তু আজকে দেখলাম। এটুকুই।


হয়তো বেঁচে থাকা এভাবেই—একটা মুহূর্ত ধরা পড়ে, আরেকটা হাতছাড়া হয়। একটা বোঝা যায়, আরেকটা শুধু অনুভব করা যায়।


তবু... বেঁচে থাকা কি কোনোদিন সত্যিই মসৃণ ছিল?


না। কখনো ছিল না।

আর সেটাই হয়তো স্বাভাবিক।


[শেষ]

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1374 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27767। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3517
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নিজেকেই কেন্দ্র করে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ৪ অক্টোবর ২০২৬ কিছু [...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সব চাপ নিতে হয় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা। ৩ অক্টোবর ২০২৬ কখন মান[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব বদল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ৩ অক্টোবর ২০২৬ সব পরিবর্তন শব্দ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
জুতাটা আর কেনা হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ২ অক্টোবর ২০২৬ রহিম স[...] বিস্তারিত পড়ুন...
11 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
খাঁচার বাইরে আকাশ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ০২ অক্টোবর ২০২৬ সম্পর&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
16 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    163 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...