Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পরিবারে লুকানো মন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
540 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,767 পয়েন্ট)   06 মার্চ "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

পরিবারে লুকানো মনimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

বিশ্লেষণধর্মী | মার্চ ৬, ২০২৬


রুমি রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ছিল। সকালের আলো জানালা দিয়ে ঢুকছে, কিন্তু তার চোখে কোনো আলো নেই। পিছন থেকে মায়ের গলা ভেসে এল,  

“কফি খাবি?”  


ঘাড় নিচু। চোখ মেঝেতে আটকে। হাত কাপড়ের গোটায় মুঠো করে ধরা, যেন সেটা তার একমাত্র সাপোর্ট।  


“আজকাল কী হয়েছে তোর?” মা আবার বললেন, গলায় একটা অস্থিরতা।  


রুমি ঘুরল। চোখ লাল, ফোলা। ঠোঁটে দাঁত বসানো, যেন কথা বেরোলে সব ভেঙে পড়বে। কোনো কথা বেরোল না। শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস, যা মা শোনেননি, বা শুনতে চাননি।  


মা চুলায় ফিরে গেলেন। তেল ফুটছিল। একটা ফ্যাঁস শব্দ উঠল, ধোঁয়া ছড়াল। মা নাড়তে থাকলেন, কিন্তু চোখ চুলায় নয়, জানালার বাইরে। হয়তো ভাবছিলেন, এসব কেন হচ্ছে।  


আমাদের বাড়িতে সবচেয়ে ভারী কথাটা হলো—  

“এইসব কথা বাইরে বলবি না।”  


এটা শুনে বড় হয়েছি আমরা। মা হয়তো ভাবছিলেন, লোকে জানলে কী হবে। মেয়ের বিয়ে, আত্মীয়রা কী বলবে—“ওদের বংশে সমস্যা আছে।” সম্মানটা যেন সবচেয়ে বড়। কষ্টটা তার নিচে চাপা পড়ে যায়।  


তেলের ধোঁয়ায় মায়ের চোখ ছলছল করছিল। নাকি অন্য কিছু? আমি জানি না। কিন্তু সেই ছলছলটা দেখে মনে হয়, তিনি নিজেও কিছু লুকিয়ে রেখেছেন।  


রাতে রুমির ঘর থেকে মৃদু শব্দ আসে। যেন কাঁপা স্বরে কান্না, বা হয়তো শ্বাসের আওয়াজ। দরজা ফাঁক। মা করিডোরে দাঁড়িয়ে। হাতটা দরজায় ওঠে, থেমে যায়। আবার নেমে আসে। ভেতরে কী হচ্ছে, তিনি শোনেন। কিন্তু কিছু বলেন না। হয়তো ভয় পান, কথা বললে সব বেরিয়ে আসবে। তাঁর নিজের কথাগুলোও।  


বাবা অফিস থেকে ফেরেন। মাথার যন্ত্রণা লুকিয়ে রাখেন। তাঁর মুখে সবসময় একটা মাস্ক, যেন সব ঠিক আছে। গত শুক্রবার রাতে দেখি—বারান্দায় একা। সিগারেটের আগুন হাতে কাঁপছে। ধোঁয়া উড়ছে, চোখ সরু করে রাস্তার দিকে তাকিয়ে, যেখানে কেউ নেই। শুধু অন্ধকার আর কয়েকটা গাড়ির হেডলাইট।  


“বাবা, কী হয়েছে?” আমি জিজ্ঞেস করলাম, দরজায় দাঁড়িয়ে।  


তিনি ঘুরলেন। হাসলেন হালকা, কিন্তু চোখে হাসি পৌঁছোয়নি।  

“কিছু না রে।” বলে আবার ধোঁয়া ছাড়লেন।  


সেই “কিছু না” আমি অনেকবার শুনেছি। ছোটবেলায় যখন পড়াশোনার চাপে কাঁদতাম, বাবা বলতেন, “কিছু না, সব ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু কখনো জিজ্ঞেস করেননি, কেন কাঁদছি। রুমির চুপ করে থাকা, বাবার এই হাসি—একই ছাদের নিচে দুই প্রজন্মের একই ভাষা। একই লুকানো ব্যথা।  


একদিন রুমি জিজ্ঞেস করল, “ভাইয়া, মন খারাপ হলে কী করিস?” তার গলা কাঁপছিল, চোখ নিচু।  

“লিখি।” আমি বললাম, বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে।  

“আমি পারি না লিখতে। কথা বলতেও না। শুধু কাঁদি। রাতে একা, বালিশে মুখ গুঁজে।”  

“তাহলে কাঁদ। কিন্তু কাউকে বল। লুকিয়ে রাখলে আরও ভারী হয়।”  

“কাকে? মা ভয় পাবে। বাবা বুঝবে না। থেরাপিস্টের কাছে গেলে লোকে কী বলবে? ‘পাগল হয়ে গেছে’ বলবে তো?”  


আমি চুপ হয়ে গেলাম। আমাদের সমাজে এসব কথা এখনো লজ্জার। থেরাপি মানে দুর্বলতা, না কি শক্তি? কিন্তু লোকে বোঝে না। ফলে সমস্যা জমে, বড় হয়।  


গত মাসে তার এক বন্ধু সব শুনেছে। কলেজের ক্যান্টিনে বসে, চা খেতে খেতে। “তোর মন খারাপ কেন, বল।” বন্ধু বলেছিল। রুমি সব বলেছে। এখন সেই বন্ধুই তার সবচেয়ে কাছের। আমরা নই। পরিবার নয়। বাইরের কেউ।  


গত সপ্তাহে মা রান্নাঘরে বললেন,  

“তুই কেমন আছিস, বল তো?” গলায় একটা নতুন স্বর, যেন চেষ্টা করছেন।  


রুমি ঘাড় নিচু করল। অনেকক্ষণ চুপ। রান্নাঘরের ঘড়ির টিকটিক শব্দ শোনা যাচ্ছিল।  

“ভালো না, আম্মু।” অবশেষে বলল।  


মা কিছু বললেন না। হাত বাড়ালেন না। শুধু শুনলেন। চুলায় নাড়তে থাকলেন, কিন্তু হাত থেমে যাচ্ছিল মাঝে মাঝে। প্রথমবার শুধু শুনলেন।  


গত রাতে মা রুমির দরজায় দাঁড়িয়ে নক করলেন। প্রথমবারের মতো।  

“আম্মু, ঘুমাতে যাও।” রুমির গলা ভেতর থেকে।  

“তুই ঘুমাস নি?”  

“না।”  

“কফি খাবি?”  


দুজনে রান্নাঘরে গেল। আমি শুনতে পেলাম, কাপের শব্দ, চামচের টুংটাং। কথা হলো কি না, জানি না। কিন্তু দরজা খোলা ছিল।  


ভোরে ঘুম ভাঙতেই শুনলাম—রুমি ডাকছে। না, মা ডাকছে। না, দুজনে একসাথে। “চা খাবি?” কারো গলা। কফির গন্ধ ভাসছে। দরজাটা খোলা। হয়তো এবার থেকে খোলা থাকবে। কিন্তু কতদিন?


আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1374 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27767। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3547
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সমাজ ও পরিবারে ব্যক্তিগত উদাসীনতার দাম মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ৭ মার&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
268 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
কবিতায় লুকানো বিজ্ঞান মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | মার্চ ২৫, ২০২৬ বাংলা [...] বিস্তারিত পড়ুন...
575 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ডিজিটাল ঔপনিবেশিকতার লুকানো মূল্য মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী। ডিসে&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
470 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শাড়ির ভাঁজে লুকানো চিঠি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ মায়ের পুরú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
106 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

মন মাতাল কোন অচেনা হাওয়ায় আজ মনটা কেন মাতাল, চেনা পথও অচেনা লাগে, চোখে স্বপ্নের জাল। নীরব রাতে চাঁদের নিচে মনটা কারে খোঁজে, না বলা কত কথার ঢেউ নীরবে এসে বোঝে। কখনো হাসি, কখনো বিষাদ, কখনো অ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
36 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    163 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...