Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পালানোর দেশ কোথায়?

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
8 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,228 পয়েন্ট)   2 দিন পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

পালানোর দেশ কোথায়?image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যে পৃথিবীতে আমাদের সন্তান বেঁচে থাকবে, সেই পৃথিবীটার জন্য আমরা কী জমা করছি?


প্রশ্নটা শুনতে একটু অস্বস্তিকর। কারণ আমরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ বলতে সাধারণত বাড়ি, জমি, টাকা, ভালো শিক্ষা কিংবা একটি নিরাপদ চাকরির কথা বুঝি। তাদের জন্য সঞ্চয় করি, সম্পদ তৈরি করি, ভালো স্কুল খুঁজি।


কিন্তু তাদের শ্বাস নেওয়ার বাতাস, পান করার পানি কিংবা বসবাসের মতো একটি পৃথিবী থাকবে কি না, সেই হিসাবটা কতজন রাখি?


ঢাকার একটি ব্যস্ত সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির দিকে তাকান। গাড়ির ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, ইটভাটার দূষণ—সব মিলিয়ে বাতাসটা হয়তো চোখে দেখা যায় না, কিন্তু শরীরকে এড়িয়ে যায় না। সূক্ষ্ম দূষিত কণা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢোকে। দীর্ঘদিনের বায়ুদূষণ শ্বাসতন্ত্রের রোগের পাশাপাশি হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত।


সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, এই ক্ষতির জন্য কোনো সাইরেন বাজে না।


আজ দূষিত বাতাসে শ্বাস নিয়ে কেউ হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়ছে না। কালও না। তাই বিপদটাকে সহজেই উপেক্ষা করা যায়। কিন্তু বছরের পর বছর একই বাতাসে শ্বাস নিতে নিতে শরীর তার মূল্য দিতে থাকে। আর সেই বাতাসে শুধু আজকের মানুষ নয়, তার সন্তানও শ্বাস নিচ্ছে।


শহরের বাইরে দৃশ্যটা আবার অন্যরকম।


উপকূলের একজন কৃষক লবণাক্ত পানির কারণে জমিতে আগের মতো চাষ করতে পারছেন না। মিঠা পানির সংকট বাড়ছে। জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। শেষ পর্যন্ত হয়তো তাকে নিজের গ্রাম ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে হবে।


এটি কোনো কল্পকাহিনি নয়। বিশ্বব্যাংকের জলবায়ু বিশ্লেষণ বলছে, আগামী ৩০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ দেশের ভেতরেই স্থানান্তরিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষি ও পানির ওপর চাপের পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিও এর অন্যতম কারণ।


একজন মানুষ জমি হারিয়ে শহরে এলেন। তারপর আরেকজন। তারপর আরও অনেকে।


শহরের ওপর বাড়ল চাপ। বাড়ল বাসস্থানের প্রয়োজন, পানির চাহিদা, পরিবহন সমস্যা ও কর্মসংস্থানের চাপ। তখন যে সমস্যাটিকে আমরা শুরুতে পরিবেশের সমস্যা বলেছিলাম, সেটিই ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যায় পরিণত হলো।


এটাই পরিবেশ সংকটের আসল বিপদ।


এটি কোনো একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না।


এক দেশের কারখানার ধোঁয়া শুধু সেই দেশের আকাশে আটকে থাকে না। অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ পৃথিবীর জলবায়ুকে প্রভাবিত করে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে কোনো সীমান্তরেখায় গিয়ে তা থেমে যায় না।


বাতাসকে পাসপোর্ট দেখাতে হয় না।


তাই যুদ্ধ থেকে পালিয়ে মানুষ অন্য দেশে যেতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়া যায়। অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য নতুন কোনো দেশেও সুযোগ খোঁজা যায়।


কিন্তু পৃথিবীর পরিবেশ যদি ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে ওঠে, তখন পালানোর দেশটি কোথায়?


সমস্যাটা শুধু মানুষ নিয়েও নয়। আমরা যখন একটি বন কাটি, একটি জলাভূমি ভরাট করি কিংবা একটি নদীকে বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত করি, তখন শুধু একটি গাছ, একটি জলাশয় বা একটি নদী হারাই না। হারাই এমন একটি প্রাকৃতিক ব্যবস্থা, যার অনেক কাজ আমরা টাকার বিনিময় ছাড়াই পেয়ে আসছিলাম।


কোনো পাখি বীজ ছড়িয়ে দেয়। কোনো পতঙ্গ ফসলের পরাগায়নে সাহায্য করে। কোনো জলাভূমি বন্যার পানি ধরে রাখে। কোনো বন তাপ কমায়।


এসবের মূল্য আমরা সাধারণত তখনই বুঝি, যখন এগুলো আর থাকে না।


তাই উন্নয়নের হিসাবও নতুন করে করতে হবে।


একটি নতুন সড়কের উদ্বোধনের ছবিতে আমরা রাস্তার দৈর্ঘ্য দেখি, প্রকল্পের ব্যয় দেখি, কত দিনে কাজ শেষ হয়েছে তা দেখি। কিন্তু সেই সড়কের জন্য কতটি গাছ কাটা হয়েছে, কতটা জলাভূমি হারিয়েছে, স্থানীয় তাপমাত্রা বা পানি নিষ্কাশনের ওপর কী প্রভাব পড়েছে—এসব হিসাব যদি না থাকে, তাহলে উন্নয়নের ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।


উন্নয়ন দরকার। কিন্তু এমন উন্নয়ন, যার বিল পরের প্রজন্মকে পরিশোধ করতে হবে, তাকে উন্নয়ন বলার আগে একটু থামা দরকার।


আমরা সন্তানদের জন্য বাড়ি রেখে যেতে চাই। জমি রেখে যেতে চাই। ব্যাংকে টাকা রেখে যেতে চাই।


কিন্তু তারা যদি পরিষ্কার বাতাস না পায়, নিরাপদ পানি না পায়, চাষের জমি না পায়, বাসযোগ্য শহর না পায়, তাহলে সেই সম্পদের মূল্য কতটুকু?


ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো একদিন আমাদের কাছে কোনো হিসাব চাইবে না।


কিন্তু প্রকৃতি হিসাব রাখে।


আজ যে গাছটি কাটা হলো, যে নদীটি দূষিত হলো, যে বাতাসে বিষ মিশল, তার কোনো না কোনো মূল্য একদিন দিতে হবে। প্রশ্ন শুধু কে দেবে।


সম্ভবত আমরা নয়।


আমাদের সন্তানরা।


আর সেই দিন যদি সত্যিই আসে, তখন তাদের সামনে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি হবে না—আমাদের পূর্বপুরুষেরা কত সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন।


প্রশ্ন হবে—


যে পৃথিবীটা তারা পেয়েছিল, সেটাকে তারা বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল কি না।


আর যদি পৃথিবীটাই বাসযোগ্য না থাকে, তখন পালানোর দেশ কোথায়?

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 11 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1348 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27228। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4845
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
রোমান্টিকতাবাদ বাস্তবতা থেকে পালানোর একধরনের শিল্প মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন নিবন্÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
260 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাংলা সাহিত্যে সমালোচক কোথায়? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১ সেপ্টেম্বর  &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
32 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ধর্মীয় ইতিহাসে নারীদের গল্প কোথায়? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১ সেপ্টেম&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
দানবক্স কোথায়? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ৩০ আগস্ট ২০২৬ হাসপাতালের করি&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
26 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ভিড়টা কোথায় গেল? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ২২ আগস্ট ২০২৬ “যে সমাজ একজন &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
34 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1129 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    56 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    269 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    13 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-আমিন (আলো)

    117 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    62 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...